1 Answers
জ্বীন জাতি সম্পর্কে অনেকেরই আগ্রহ > জ্বীনরা কেমন ! কি খায় ! তাদের জীবন যাত্রা কিরকম ! বিশেষ করে আল- কোরানে সূরা জ্বীন নাযিল হবার পর সাহাবীদেরও জ্বীনদের প্রতি কৌতূহল দেখা গিয়েছিল। জীন সম্পর্কে অনেক কথাই আছে। এক্ষেত্রে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে জীবজন্তুর মধ্যে কেবল জিন- ইনসানের বিচার হবে। অবশ্য জ্বিনের অস্তিত্ব নিয়ে কেউ কেউ সংশয় প্রকাশ করেন। আবার অনেকে বিশ্বাস করলেও মুহূর্তে আবার অলৌকিকতার আওতায় ফেলে বেমালুম নয়-ছয় চিন্তা করতে থাকেন। জ্বীন শব্দের মোটামুটি অর্থ গুপ্ত, অদৃশ্য, লুকায়িত।শয়তান রাও হল একপ্রকার জ্বীন যারা আল্লাহর অবাধ্য এবং এরা অভিশপ্ত ইবলিশের বংশধরদের অন্তর্গত। জিনদের খাবার ঃ তবে জিনদের সম্পর্কে কাজী আবু ইয়ালা (রহঃ) বলেছেন যে, জিন মানুষের ন্যায় খাওয়া-দাওয়া করে থাকে। এরাও চিবিয়ে এবং গিলে খায়। তাছাড়া জ্বিনের খাওয়া-দাওয়া নিয়ে ইয়াবীদ বিন জাবির বলেছেন যে, মুসলমান জিন মানুষরা বাড়িতে যে খাবার রাখে, আর সেই বাড়ির চালে কিম্বা ছাদে বসবাসরত ঐ জিনরা নেমে এসে সে খাবার খেয়ে থাকে। অনেক সময় মানুষের সাথে বসেও খায়, অথচ মানুষ স্থূল বিধায় অতসব খেয়াল করতে পারে না। আর এসব জিনরা মানুষদের বালা- মুসিবত ও মন্দ-জিন থেকে রক্ষা করে থাকে। এদিকে খারাপ জিনরা সাধারণত নাপাক নোংরা জায়গায় থাকে, যেমন-ময়লার গাদা, আঁস্তাকুড়, নর্দমা, গাছের ঝাড়, গোসলখানা, পায়খানা, ইত্যাদি। মূলত জ্বিনের প্রধান খাদ্য হলো- হাড়, গোবর, কয়লা ইত্যাদি। তিরমিযী হাদিসে উল্লেখ আছে যে, নবী করীম (স.) বলেছেন, “তোমরা দুটি জিনিস অর্থাত্ হাড় ও গোবর দিয়ে ইন্তিজা করো না, কেননা ওগুলো হলো তোমাদের জিন ভাইদের খাদ্য”। জিনদের প্রিয় খাবার হলো মিষ্টি ঃ এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, ১৯৮৭ সালে মিষ্টির মার্কেটিং নিয়ে বিজ্ঞানসম্মত জরিপ হয়েছিল, যার টিম লিডার ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশীদুল হাসান। এই জরিপে বিভিন্ন ইনকাম গ্রুপের Representative sample হিসেবে ১৭৫ জনের (প্রণয়নকৃত প্রশ্নমালার মাধ্যমে) সাক্ষাত্কার নেই। আর যে সমস্ত ব্র্যান্ডের মিষ্টি এর আওতায় ছিল, তা হলো আলাউদ্দিন সুইটমিট, মরণচাঁদ, মুসলিম, জলখাবার ইত্যাদি। এক্ষেত্রে ভোক্তাদের পাশাপাশি মিষ্টি দোকান মালিকদেরও সাক্ষাত্কার নেয়া হয়। আর এটি এলাকাভিত্তিক (Chunk) করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, আমরা যখন পুরোনো ঢাকার মিষ্টি দোকান মালিকদের সাথে তাঁদের বিক্রয়ের পরিধি ও এর আওতার শ্রেণীভিত্তিক ভোক্তাদের নিয়ে কথা বলি, তাতে মজার তথ্য উদঘাটিত হয়ে আসে। এ প্রেক্ষাপটে অধিকাংশ দোকান মালিকরা বলেন যে, তাঁদের পটেনশিয়াল ক্রেতার একাংশ হলো জিন। তারা মানুষ রূপে রাত ১২ টার পরে মিষ্টি কিনতে আসে। কিন্তু তাদের অবস্থান ও প্রকৃতি সাধারণ মানুষ না বুঝতে পারলেও দোকানদাররা ঠিকই বুঝতে পারেন। সঙ্গত কারণেই জিন সম্পর্কে অন্যান্য বিষয়াদি যিকঞ্চিত্ তুলে ধরছি। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, জিন জাতির উদ্ভব সম্পর্কে যতদূর জানা যায়, তাতে দেখা যায় মানব সৃষ্টির প্রায় দুই হাজার বছর পূর্বে এদের সৃষ্টি। আসলে জ্বিনের অস্তিত্ব সম্পর্কে অনেকেই সন্দেহ পোষণ করেন। কিন্তু জিন সম্পর্কে আল-কোরআন ও হাদিসে জোরালো যুক্তি রয়েছে। সাধারণত জিন জাতি কয়েক শ্রেণীর আওতাভুক্ত- যেমন: > জিন (সাধারণ জিন), > আমির (যারা মানুষের সাথে থাকে), > আরওয়াহ (যারা মানুষের সম্মুখে বিভিন্ন সুরতে আবির্ভূত হয়, > শয়তান (যারা সৃষ্টিরকর্তার অবাধ্য, ঔদ্ধত ও অহংকারী, > ইফরীত্ব (যারা অনেক সময় শয়তানের চেয়ে ভয়ংকর)। উল্লেখ্য যে, জিনদের গঠনমূলক কায়া সূক্ষ্ম ও অবিমিশ্র। হাদিস শরীফে বলা হয়েছে যে, আল্লাহতা’লা আবুল জিন্নাত সামুমকে (ইনসানের আদি পিতা আদমের ন্যায় জিন জাতির আদি পিতা) আগুনের শিখা দিয়ে তৈরি করার পর আল্লাহপাক বলেন, “তুমি কি চাও”। উত্তরে জিন্নাত সামুম বলে, “আমি ও আমার জাতির জন্যে তিনটি জিনিস চাই- প্রথমত > এ দুনিয়াতে যেন অদৃশ হয়ে থাকতে পারি, দ্বিতীয়ত > বৃদ্ধ হয়ে যেন আবার যুবক হয়ে মারা যাই এবং তৃতীয়ত > মারা গেলেও, এই ভুবনের মাঝে অদৃশ্য হয়ে যেতে পারি।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy