1 Answers
রেশম কীট রেশম নামক এক ধরনের মথের লার্ভার লালাগ্রন্থি থেকে নিসৃত রস থেকে উৎপন্ন হয় রেশম তন্তু বা Silk Fibre. রেশম মথ আর্থোপোডা পর্বের অন্তর্গত ইনসেপ্টা শ্রেণীর লেপিডটেরা পর্বের একটি পতঙ্গ । এই পতঙ্গ কে কীট বা ওয়ার্ম ও বলা হয় । অর্থাৎ রেশম পতঙ্গের ইংরেজী নাম Silk Worm . রেশম কীট বা Silk Worm কে দেখতে অনেকটা কৃমির মত দেখা গেলেও পূর্ণবয়স্ক হলে এদেরকে প্রজাপতির মত দেখা যায় । রেশম কীট এর বিভিন্ন প্রজাতি পাওয়া যায় । তবে সব প্রজাতির রেশম মথ বা কীট একই রকমের রেশম তন্তু বা Silk Fibre তৈরী করতে পারেনা । বিভিন্ন প্রজাতির মথ থেকে বিভিন্ন মানের রেশম তন্তু বা Silk Fibre তৈরী করা হয় । রেশম তন্তু বা Silk Fibre উৎপন্ন করতে বাংলাদেশে যে রেশম কীট ব্যবহার করা হয়ে থাকে তার বৈজ্ঞানিক নাম Bombyx Mori ( বোম্বেক্স মৌরি ) । রেশম কীট বা রেশম পোকার জীবন চক্র চারটি পর্যায়ে ঘটে থাকে ।এগুলো হলঃ ডিম ; শুককীট; মুককীট এবং পূর্ণাঙ্গ পোকা । প্রথম পর্যায় : স্ত্রী পোকা পাতা বা কাগজের উপর ডিম পাড়ে । এরা একসাথে প্রায় ৪০০-৫০০ ডিম পাড়ে । ডিম গুলো দেখতে ফ্যাকাসে হলুদের মত । ডিমগুলো দেখতে অনেকটা ইংরেজী C এর মত । ডিমগুলো ৭৮ – ৮৫ ডিগ্রী তাপমাত্রায় উত্তপ্ত হতে খাকে । ১০-১৪ দিন পর ডিম থেকে শূককীট উৎপন্ন হয় । দ্বিতীয় পর্যায়ঃ শূককীট বড় হলে বাদামী লাল রঙের দেখায়। শূককীট চতুর্থবার খোলস বদলানোর পর মূককীটে পরিণত হতে শুরু করে। এ সময় এদের খাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। শূককীট, মূককীটকে যে বাঁশের ডালায় গালা হয় তার নাম চন্দ্রকী। চন্দ্রকীতে অনেক গুলি কুঠুরি থাকে। তৃতীয় পর্যায়ঃ শূককীট দেহের ভিতরে একটি লম্বা রেশম গ্রন্থি থাকে। গ্রন্থিতে থাকে এক প্রকার রস। নালী দিয়ে এ রস মুখের বাইরে আসে। নালীর নাম স্পিনারেট (Spinneret)। বাতাসের সংস্পর্শে রস শক্ত হয়ে যায়। মূককীট মিনিটে ৬৫ বার মুখ ঘুরিয়ে রস দিয়ে দেহের চারপাশে আবরণ তৈরি করে। এই রসকে সাধারণ কথায় মুখের লালা বলে। আবরণসহ মূককীটকে গুটি বলে। গুটির ইংরেজি নাম কুকুন (Cocoon)। গুটির মধ্যে মুককীটের অদ্ভুত রূপান্তর ঘটে। এই পরিবর্তনকে মেটামরফসিস (Metamorphosis) বলে। মূককীট পরিবর্তিত হয়ে সুন্দর মথের রূপ ধারণ করে। মথই রেশম পোকার পূর্ণাঙ্গ অবস্থা। চতুর্থ পর্যায়ঃ মথ হবার আগেই গুটিকে বাষ্প বা গরম জলে রাখতে হয় । না হলে মথ গুটি কেটে বেরিয়ে যায়। গুটি কেটে গেলে সুতা নষ্ট হয়ে যায়। গুটি গরম পানিতে পড়লে এর সুতোর জট খুলে যায়। একটি গুটিতে ৪০০ – ৫০০ গজ সুতা থাকে।