66842 views

1 Answers

যুগ যত আধুনিক হচ্ছে তার সাথে পাল্লা দিয়ে আধুনিক হচ্ছে প্রতারনার ধরনও। আধুনিক এসব প্রতারকরা তাদের প্রতারনার কাজে ব্যাবহার করছে মোবাইল আর প্রাইভেট টেলিভিশিন চ্যানেলগুলোকে। এরকম একদল অভিনব প্রতারক দল জিনের বাদশাহ দের সাথে আজকে এমক্রাইম.কম আপনাদের পরিচয় করিয়ে দেবে। গভীর রাতে মোবাইলে একটি কল, এরপর কিছুক্ষন ধর্মীয় সুমধুর বানী, তার পরের ঘটনা আমাদের অনেকেরেই জানা। হ্যা আমরা জিনের বাদশাহ এর কথা বলছি। ফোন করে মানুষকে ধোঁকা দেবার এধরনের ঘটনা নতুন কিছু না হলেও নতুন হল এসব কথিত জিনদের নিয়ে টেলিভিশনে বিজ্ঞাপনও দেওয়া হচ্ছে। আর প্রশাসনের লোকজন মনে হয় সেসব দেখে মজাই পাচ্ছেন।
জিনের বাদশাহ

এসব আজগুবি বিজ্ঞাপনচিত্র টেলিভিশনে দেখার পর অনেকেই হয়ত তাদের কঠিন সমস্যা সমাধানের সহজ উপায় খুজতে স্ক্রীনে দেখানো নম্বরে ফোন করেন। তারপরের তিক্ত অভিজ্ঞতা যেকারো জন্যই বিব্রতকর। মধ্যরাতের পর থেকে কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেলে এধরনের বাচবিচারহীন বিজ্ঞাপন চলতে থাকে। মূলত দেশের বাহিরে থাকা বাংলাদেশিদের প্রতারনার ফাদে ফেলতেই তাদের এই আয়োজন। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার কথা বলে প্রচার করা এসব বিজ্ঞাপনের কোনটিতে শুধু মোবাইল নম্বর কোনটিতে আবার ঠিকানাও দেয়া থাকে। যদিও সেগুলো আসলে ভূয়া ঠিকানা। বিজ্ঞাপনগুলো আলাদা আলাদা হলেও এগুলোর সবগুলো হেকিম কবিরাজ কিংবা ভন্ড জিন অথবা জিনের বাদশা যে নামেই ডাকা হোক না কেন সবগুলোর নিয়ন্ত্রনই একটি চক্রের হাতে। চক্রটি ভারত পাকিস্থানের বিভিন্ন আলেমদের ছবি ব্যাবহার করে কোন একটি নাম কিংবা ঠিকানা দিয়ে এসব বিজ্ঞাপনগুলো প্রচার করে। আসলে ওই ছবির কোন ব্যাক্তি অথবা ওই নামের কোন মাজার ওই এলাকাতেই পাওয়া যাবে না। আশ্চর্য হবার বিষয় হল রাজধানীর স্বনামধন্য বিপনীবিতান বসুন্ধরার বিভিন্ন ব্লকে এই ধরনের অনেকগুলো ভন্ড জিনের বাদশাহ দের দোকান রয়েছে। জানা যায় বসুন্ধরা কর্তৃপক্ষের সাথে একটি চক্র এই ব্যাবসার সাথে জড়িত। আর তাদের প্রধান শক্তি হল থানাপুলিশ। তেজগাও থানায় নিয়মিত চাদা দিয়েই চলছে প্রতারনার এই ব্যাবসা। যেকারনে গনমাধ্যমও তাদের কাছে কোনও ব্যাপারই না। বিজ্ঞাপনগুলো বেশিরভাগ অনেক রাতে প্রচার হওয়ার কারনে বেশিরভাগই প্রবাসীরাই প্রতারনার স্বীকার হন। এরকমই প্রতারনার স্বীকার একজন তসলিমা। সৌদি আরবে বাসা বাড়িতে কাজ করে দুবছরে যা উপার্জন করেছেন তার পুরোটাই গিলে খেয়েছে ভন্ড এক জিন সাধক বাবা। তার সাথে কথা বলে জানা যায় এতিমখানায় খাওয়ানোর কথা, জায়নামাজ কেনার কথা আর জিনদের ভোগ দেওয়ার জন্য নানান কিস্তিতে তার কাছ থেকে নেয়া হয় প্রায় আড়াই লাখ টাকা। তাকে ঠিকানা দেয়া হয় বসুন্ধরা শপিং মলের লেভেল ৫ এর ৮৮ নম্বর দোকানের। পরে এই ব্যাপারটি নজরে আসে একুশের চোখ টিমের। তাদের দৃষ্টি আকর্ষনের পর শুরু হয় অনুসন্ধানী কার্যক্রম। প্রিয় এমক্রাইম.কম পাঠক, কি হয়েছিলো শেষ পর্যন্ত? ধরা কি পরে ছিলো তথাকথিত জিনের বাদশা-রা? এরা আর কি কি উপায়ে জনগন বিশেষ করে প্রবাসী ভাইবোনদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়? জানতে হলে ভিডিওটি দেখুনঃ

https://youtu.be/FHzydig9ovU

66842 views

Related Questions