1 Answers
রূপকথার গল্পকেও যে ইউনিভার্সিটি হার মানায় তার নাম অক্সফোর্ড। ‘দ্য লর্ড ইজ মাই লাইট’ প্রতিজ্ঞা নিয়ে আজ থেকে ৯১৬ বছর আগে ১০৯৬ সালে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির জন্ম। পৃথিবীর জ্ঞানীগুণীদের মিলনমেলা বলে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানটি ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ডে অবস্থিত। পৃথিবীর ইংরেজি ভাষাভাষী মানুষের জন্য সবচেয়ে প্রাচীন বিদ্যাপীঠ এটি। আর পৃথিবীতে চলমান ইউনিভার্সিটিগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ এটি। এটি ১০৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও মূলত ১১৬৭ সাল থেকে সারা বিশ্বে পরিচিতি পেতে শুরু করে। কারণ এ সময়কালেই রাজা দ্বিতীয় হেনরি ইংরেজি ভাষাভাষী শিক্ষার্থীদের ইউনিভার্সিটি অব প্যারিসে শিক্ষালাভের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। প্রাচীনকাল থেকেই অঙ্ফোর্ড ইউনিভার্সিটিকে সংক্ষেপে ‘অঙ্ন’ বলা হলেও ২০০৭ সাল থেকে অফিসিয়াল ইউনিভর্সিটি প্রকাশনায় এর নাম ‘অক্সফো বলা হচ্ছে, যা কিছু পাঠকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। অঙ্ফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশ্বজোড়া খ্যাতির পেছনে আরেকটি উল্লেখযোগ্য নিয়ামক হলো এর সুবিশাল লাইব্রেরি। প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাজ্যের সব ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি সিস্টেমস পরিচালনা করে। অবাক করার মতো বিষয় হলো প্রতিষ্ঠানটিতে ১১ মিলিয়ন বা এক কোটি ১০ লাখ বইয়ের ভলিউম রয়েছে ১৯০ কিলোমিটার জুড়ে রাখা বইয়ের শেলফে। যা ব্রিটিশ লাইব্রেরির পরে দ্বিতীয় বৃহত্তম লাইব্রেরি। ‘দ্য র্যাডক্লিফ ক্যামেরা’ নামে ১৭৩৭-১৭৪৯ সালে অক্সফোর্ড সায়েন্স লাইব্রেরিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যেখানে বর্তমান সময়ে বিজ্ঞান ছাড়াও ইংরেজি, ইতিহাস এবং দর্শন শাস্ত্রে গ্রন্থ পাওয়া যায়। তবে অঙ্ফোর্ড ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরির আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- যুক্তরাজ্যে প্রকাশিত প্রতিটি বইয়ের একটি করে সৌজন্য সংখ্যা এখানে সংরক্ষিত রাখার ব্যবস্থা আছে। তাই প্রতি বছর পাঁচ কিলোমিটার স্থান বইয়ের শেলফগুলো দখল করে নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধানতম গবেষণা লাইব্রেরিটি ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা করেন স্যার থমাস বডলে। তবে এটি উন্মুক্ত করা হয় ১৬০২ সালে। অক্সফোর্ড লাইব্রেরিকে আধুনিক একটি লাইব্রেরি হিসেবে গড়ে তুলতে ওএলআইএস বা অঙ্ফোর্ড লাইব্রেরিজ ইনফরমেশন সিস্টেম চালু করা হয়েছে। যার মাধ্যমে সলো বা ‘সার্চ অক্সফোর্ড লাইব্রেরিজ অনলাইন পদ্ধতিতে সব লাইব্রেরির সদস্য, প্রতিষ্ঠানটির অন্তর্গত কলেজ অন্যান্য অনুষদের লাইব্রেরি এবং এর বাইরের সদস্যরাও ইলেকট্রনিক ক্যাটালগের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। আর সর্বশেষ প্রকল্প হিসেবে অক্সফোর্ড লাইব্রেরি ২০১৪-২০১৫ শিক্ষাবর্ষে চালু করতে যাচ্ছে ওয়েস্টন লাইব্রেরি। আর বডলেয়ান লাইব্রেরিটিতে সৌজন্য সংখ্যাগুলোকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় আনতে ২০০৪ সাল থেকে গুগলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে বৈচিত্র্য আনতে জাদুঘর এবং আর্ট গ্যালারি সব দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। ‘দ্য অ্যাশমোলিয়ান মিউজিয়াম’ ১৬৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের প্রাচীনতম জাদুঘর। এখানে সংরক্ষিত আছে পৃথিবীর বিখ্যাত চিত্রকর মাইকেল অ্যাঞ্জেলো, লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি, টার্নার এবং পিকাসোর চিত্রকর্ম। শুধু জ্ঞানের ক্ষুধা নয়, বিনোদনের জন্য ইউনিভাসিটিতে রয়েছে বিশাল আকৃতির পার্ক। যা ৭০ একর স্থানজুড়ে অবস্থিত। দিনের বেলায় পার্কটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। পৃথিবীর আধুনিকতম শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হলে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির জুড়ি মেলা ভার। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে টিউটোরিয়াল, যেখানে এক থেকে চারজন শিক্ষার্থী এক ঘণ্টা করে সাপ্তাহিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে। এ ছাড়াও এ সময় তারা প্রবলেম শিটগুলোর সমাধান করে থাকে। শিক্ষার্থীদের প্রতি সপ্তাহে একটি বা দুটি টিউটোরিয়াল থাকে। আর একেক বিভাগ টিটটোরিয়ালের সঙ্গে সঙ্গে লেকচার, ক্লাস এবং সেমিনারের আয়োজন করে থাকে। যদিও সব শিক্ষার্থী একত্রে লেকাচার, ক্লাস বা সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। তবে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আলাদা আলাদা গবেষণার দিকে লক্ষ্য করা হয়। পরীক্ষার সময়সূচি এবং ডিগ্রি প্রদান সম্পূর্ণ ইউনিভার্সিটি স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থায় পরিচালনা হয়ে থাকে। সফলতম শিক্ষার্থীরা প্রথম বিভাগ, উচ্চ বা নিম্ন দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগ বা শুধু পাস ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষায় পাসের মাধ্যমে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষাবর্ষ তিন ভাগে বিভক্ত। ‘মাইকেলমাস টার্ম’ অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর সেশন, হিলারি টার্ম জানুয়ারি থেকে মার্চ আর ট্রিনিটি টার্ম এপ্রিল থেকে জুন সেশন। এই টার্মগুলোর মধ্যে কাউন্সিলররা আট সপ্তাহের ফুল টার্মের মাধ্যমে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা দিয়ে থাকেন। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণের সময় নানাভাবে আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। ২০০৬ সাল থেকে ব্রিটিশ শিক্ষার্থীদের তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রির ক্ষেত্রে ১০ হাজার ২৩৫ হাজার ইউরো আর্থিক সাহায্য দেওয়া হয়। ইউনিভার্সিটিতে বিভিন্ন ক্লাব এবং সোসাইটি রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ডিবেট ক্লাব, সায়েন্টিফিক সোসাইটি, স্পোর্টস ক্লাব, বুলিংডন ক্লাব ইত্যাদি। এ ছাড়া এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। আর শিক্ষার্থীদের অ্যাকাডেমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ, ম্যাট্রিকুলেশন, ডিসিপ্লিনারি কমিটির জন্য অ্যাকাডেমিক পোশাক রয়েছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের ‘অক্সফোনিয়ানস’ বলা হয়। যাদের মধ্যে আছেন ৪৭ জন নোবেল বিজয়ী আর ব্রিটেনের ২৬ জন প্রধানমন্ত্রী এ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। এ ছাড়া বর্তমান সময়ে মিডিয়া জগতের বিখ্যাত নাম রুপার্ট মারডক এ ইউনিভার্সির শিক্ষার্থী ছিলেন।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy