1 Answers

দশমাংশ বিষয়টি নিয়ে অনেক খ্রীষ্টিয়ানদের মধ্যে প্রায় যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। কোন কোন মন্ডলী দশমাংশ বিষয়টি খুবই গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আবার, একই সাথে অনেক খ্রীষ্টিয়ান প্রভুকে উপহার দেওয়ার বিষয়ে বলা বাইবেলের পরামর্শ মানতে নারাজ। দশমাংশ ও দান করার উদ্দেশ্য হচ্ছে মুলত আশীর্বাদ ও আনন্দের বিষয়। দুঃখজনক হলেও আজকের দিনে অনেক মন্ডলীতে তা হয় না। দশমাংশ দেওয়া পুরাতন নিয়মের ধারণা। দশমাংশ দেওয়া ইস্রায়েলীয়দের কাছে বলা আইন-কানুনের এক প্রয়োজনীয় অংশ, যেন তারা তাদের আয়-রোজগারের সবকিছুরই শতকরা দশ ভাগ আবাস-তাম্বু বা উপাসনা-ঘরের জন্য দেয় (লেবীয় ২৭:৩০; গণনা পুস্তক ১৮:২৬; দ্বিতীয় বিবরণ ১৪:২৪ এবং ২ বংশাবলি ৩১:৫)। বাস্তবিক পক্ষে, পুরাতন নিয়মের আইন-কানুন অনুসারে নানারকম দশমাংশ দেবার কথা রয়েছে, যা মূলত মোট শতকরা ২৩.৩ ভাগে দাঁড়ায়; আজকের দিনের শতকরা ১০ ভাগ দেবার সাধারণ ধারণার মত নয়। কেউ কেউ ধারণা করে থাকেন যে, এটা পুরাতন নিয়মের সময়ে পুরোহিত ও লেবীয়দের প্রয়োজনীয় বলিদানের জন্য প্রদেয় খাজনার পদ্ধতি। নতুন নিয়মের কোথাও এমন কোন আদেশ নাই অথবা সুপারিশ করা হয় নাই যে, খ্রীষ্টিয়ানেরা কোন বিধিবদ্ধ দশমাংশ প্রথা মেনে নেবে। পৌল বলেছেন যেন বিশ্বাসীরা তাদের আয়-রোজগারের একটা নির্দিষ্ট অংশ মন্ডলীকে সাহায্য করতে আলাদা করে রাখে (১ করিন্থীয় ১৬:১-২)। নতুন নিয়মে কোথাও কোন ভাগ করে দেওয়া হয় নাই যে, তা আলাদা করে রাখতে হবে, কিন্তু শুধু বলা হয়েছে, “আয় অনুসারে” “কিছু তুলে রেখে জমা” করার কথা (১ করিন্থীয় ১৬:২)। কিছু কিছু খ্রীষ্টিয়ান মন্ডলী পুরাতন নিয়মের দশমাংশ দেবার পদ্ধতি মোতাবেক বলে থাকে এবং খ্রীষ্টিয়ানদের দান করার ব্যাপারে তা “কমপক্ষে প্রয়োজন” বলে ধরে থাকে। নতুন নিয়মে দান করার উপকারিতার বিষয়ে গুরত্ব দিয়েছে। তা আমাদের সামর্থ অনুসারেই দিতে হবে। তার মানে, কোন সময় তা দশমাংশেরও বেশী; কোন সময় তার চেয়ে কমও হতে পারে। মূলত খ্রীষ্টিয়ানদের সামর্থের উপরে এবং মন্ডলীতে কতখানি দরকার তার উপরে দান করা নির্ভর করে। প্রত্যেক খ্রীষ্টিয়ানের দশমাংশ দেওয়া উচিত, অথবা কতখানি দিতে হবে সে বিষয়ে বিশ্বস্তভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে তাঁর জ্ঞান চেয়ে নেওয়া উচিত (যাকোব ১:৫)। সর্বোপরি, সবরকম দান ও দশমাংশ ঈশ্বরের কাছে খুশী মনে, ভাল উদ্দেশ্যে ও ভক্তির মনোভাব নিয়ে আনতে হবে, যেন খ্রীষ্টের দেহ গেঁথে তোলা যায়। “প্রত্যেকে মনে মনে যা ঠিক করে রেখেছে সে যেন তা-ই দেয়। কেউ যেন মনে দুঃখ নিয়ে না দেয় বা দিতে হবে বলে না দেয়, কারণ যে খুশী মনে দেয় ঈশ্বর তাকে ভালবাসেন” (২ করিন্থীয় ৯:৭)।

2595 views Answered

Related Questions

Next steps