1 Answers
‘মূলত আমি একজন ভাল লোক, তাই আমি তো স্বর্গে যাব।’ ‘হ্যাঁ, আমি মাঝে মাঝে মন্দ কাজও করি; কিন্তু বেশীর ভাগ ভাল কাজই করি, সুতরাং আমি স্বর্গে যাব।’ ‘আমি বাইবেল অনুসারে চলি না বলে ঈশ্বর আমাকে নরকে পাঠাবেন না। এখন সময়ের পরিবর্তন হয়েছে!’ ‘শুধুমাত্র শিশু উৎপীড়ক এবং খুনীরাই নরকে যাবে।’ এগুলো সবই সাধারণ যুক্তি, কিন্তু সত্যি হচ্ছে এটাই যে, এই সবই মিথ্যা। জগতের কর্তা শয়তান আমাদের মাথার মধ্যে এই সব চিন্তা ঢুকিয়ে দেয়। সে এবং তার সাথে যে কেউ তার পথ অনুসরণ করে, তারা ঈশ্বরের শত্রু (১ পিতর ৫:৮)। শয়তান হচ্ছে ঠকবাজ এবং প্রায়ই সে একজন ভাল লোকের ছদ্মবেশের আড়ালে নিজেকে প্রকাশ করে (২ করিন্থীয় ১১:১৪)। যারা ঈশ্বরের নয় তেমন সব মনগুলো সে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। “অবিশ্বাসী লোকদের মন এই যুগের দেবতা অন্ধ করে দিয়েছে যেন তারা সুখবরের আলো দেখতে না পায়। এই সুখবরে খ্রীষ্টের মহিমা ফুটে উঠেছে, আর এই খ্রীষ্টই হলেন ঈশ্বরের হুবহু প্রকাশ” (২ করিন্থীয় ৪:৪)। ঈশ্বর ছোট ছোট পাপগুলো ধরেন না, একথা বিশ্বাস করা মিথ্যা, অথবা নরক ‘খারাপ লোকদের জন্য’ ঠিক করে রাখা স্থান। সবরকম পাপই, এমন কি ‘ছোট্ট একটা মিথ্যা কথা’ পর্যন্ত ঈশ্বরের কাছ থেকে আমাদের আলাদা করে দেয়। সকলেই পাপ করেছে, এমন ভাল কেউই নেই যে তারা নিজেদের চেষ্টায় স্বর্গে যেতে পারে (রোমীয় ৩:২৩)। আমাদের ভাল বা খারাপ কাজের উপর স্বর্গে যাওয়া নির্ভর করে না; এভাবে চিন্তা করলে তো আমরা সকলে হারিয়ে যাব। “ঈশ্বর যদি দয়া করেই বেছে রেখেছেন তবে তো তা কোন কাজের ফল নয়। যদি তা-ই হত তবে দয়া আর দয়া থাকত না” (রোমীয় ১১:৬)। আমাদের কোন ভাল কাজই স্বর্গে যাবার পথ করে দেবে না (তীত ৩:৫)। “সরু দরজা দিয়ে ঢোকো, কারণ যে পথ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় তার দরজাও বড় এবং রাস্তাও চওড়া। অনেকেই তার মধ্য দিয়ে ঢোকে” (মথি ৭:১৩)। এমন কি যদি প্রত্যেকেই তাদের আচার-আচরণের মধ্যে দিয়ে পাপে জীবন-যাপন করে, যেখানে ঈশ্বরের উপরে বিশ্বাস তেমন জনপ্রিয় নয়, তবু ঈশ্বর তাদের ক্ষমা করবেন না। “অবাধ্যতা আর পাপের দরুন তোমরা মৃত ছিলে। জগতের চিন্তাধারা অনুসারে তোমরাও এক সময় সেই অবাধ্যতা আর পাপের মধ্যে চলাফেরা করতে। যে আত্মা আকাশের ক্ষমতাশালীদের রাজা সেই দুষ্ট আত্মা ঈশ্বরের অবাধ্য লোকদের মধ্যে কাজ করছে, আর তোমরা সেই আত্মার পিছনে পিছনে চলতে” (ইফিষীয় ২:১-২)। ঈশ্বর যখন পৃথিবী সৃষ্টি করেন, তখন তা ছিল খাঁটি এবং ভাল। তারপর তিনি আদম ও হবাকে সৃষ্টি করেন এবং তাদের স্বাধীন ইচ্ছা দেন যেন তারা তাদের ইচ্ছামত ঈশ্বরের বাধ্য থাকতে পারে এবং তাঁকে অনুসরণ করতে পারে। কিন্তু তারা শয়তানের দ্বারা প্রলোভিত হয়ে ঈশ্বরের অবাধ্য হয়েছিল, এবং পাপ করেছিল। এভাবেই তারা (এমন কি তাদের পরবর্তী প্রত্যেকেই এবং আমরাও) ঈশ্বরের ঘনিষ্ঠ সান্নিধ্য থেকে আলাদা হয়েছি। তিনি খাঁটি ও পবিত্র, তাই তিনি পাপের বিচার করেন। পাপী বলেই আমরা আমাদের চেষ্টায় তাঁর সাথে পুনরায় মিলিত হতে পারি না। তাই ঈশ্বর একটা পথ তৈরী করলেন যেন আমরা স্বর্গে তাঁর সাথে মিলিত হতে পারি। “ঈশ্বর মানুষকে এত ভালবাসলেন যে, তাঁর একমাত্র পুত্রকে তিনি দান করলেন, যেন যে কেউ সেই পুত্রের উপরে বিশ্বাস করে সে বিনষ্ট না হয় কিন্তু অনন্ত জীবন পায়” (যোহন ৩:১৬)। “পাপ যে বেতন দেয় তা মৃত্যু, কিন্তু ঈশ্বর যা দান করেন তা আমাদের প্রভু খ্রীষ্ট যীশুর মধ্য দিয়ে অনন্ত জীবন” (রোমীয় ৬:২৩)। যীশু আমাদের পাপের জন্য মরতেই জন্ম নিয়েছিলেন যেন আমাদের মরতে না হয়। তাঁর মৃত্যুর তিন দিন পরে তিনি কবর থেকে উঠলেন (রোমীয় ৪:২৫) এবং প্রমাণ করলেন তিনি মৃত্যুকে জয় করেছেন। পাপের দরুণ আলাদা হয়ে যাওয়া মানুষ ও ঈশ্বরের মাঝে তিনি সেতু তৈরী করলেন যেন শুধুমাত্র তাঁকে বিশ্বাস করে আমরা তাঁর সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি। “তোমাকে, অর্থাৎ একমাত্র সত্য ঈশ্বরকে আর তুমি যাঁকে পাঠিয়েছ সেই যীশু খ্রীষ্টকে জানতে পারাই অনন্ত জীবন” (যোহন ১৭:৩)। অধিকাংশ লোক, এমন কি শয়তানও ঈশ্বরকে বিশ্বাস করে। কিন্তু পরিত্রাণ বা উদ্ধার পেতে হলে পাপের পথ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ঈশ্বরের সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে এবং তাঁকে অনুসরণ করতে হবে। আমরা যা কিছু করি না কেন সব কিছুর বিনিময়ে যীশুর প্রতি আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে। “যারা যীশু খ্রীষ্টের উপর বিশ্বাস করে তাদের সেই বিশ্বাসের মধ্য দিয়েই ঈশ্বর তাদের নির্দোষ বলে গ্রহণ করেন। যিহূদী অযিহূদী সবাই সমান” (রোমীয় ৩:২২)। বাইবেল আমাদের শিক্ষা দেয় যে, খ্রীষ্ট ছাড়া পরিত্রাণ বা উদ্ধার পাবার আর অন্য কোন পথ নাই। যোহন ১৪:৬ পদে যীশু বলেছেন, “আমিই পথ, সত্য আর জীবন। আমার মধ্য দিয়ে না গেলে কেউই পিতার কাছে যেতে পারে না”। যীশু হচ্ছেন পরিত্রাণ বা উদ্ধার পাবার একমাত্র পথ, কারণ একমাত্র তিনিই আমাদের পাপের জন্য বেতন (জরিমানা) দিয়েছেন (রোমীয় ৬:২৩)। অন্য আর কোন ধর্ম নাই যেখানে পাপ ও তার পরিণতি সম্পর্কে এত গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। অন্য কোন ধর্ম পাপের জন্য চুড়ান্ত জরিমানা দেবার সুযোগ দেয় নাই, যা মাত্র যীশু খ্রীষ্ট দিতে পেরেছেন। অন্য কোন “ধর্ম প্রতিষ্ঠাতা” ঈশ্বর ছিলেন না যিনি মানুষ হয়ে এসেছিলেন (যোহন ১:১, ১৪)। যীশুই একমাত্র পথ, যিনি চুড়ান্ত ঋণ শোধ করে দিয়েছেন। যীশু নিজেই ঈশ্বর ছিলেন বলে তিনি আমাদের ঋণ শোধ করে দিতে পেরেছেন। যীশু মানুষ হয়েছিলেন যেন তিনি মৃত্যুবরণ করতে পারেন। তাঁকে বিশ্বাস করেই পরিত্রাণ বা উদ্ধার পাওয়া যায়! “পাপ থেকে উদ্ধার আর কারও কাছে পাওয়া যায় না, কারণ সারা জগতে আর এমন কেউ নেই যার নামে আমরা পাপ থেকে উদ্ধার পেতে পারি” (প্রেরিত ৪:১২)।
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy