অনেক অনেক যুগ আগে থেকে মানুষ শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হত। আর এজন্যই মানব প্রজাতির সৃষ্টি হয়েছে। আমার মনে হয় যে আগে মানুষের বিনোদন বলতে কিছুই ছিল না। এ কারণে মানুষ অবসর সময় কাটাতে এবং কিছুটা শারীরিক ও মানসিক চাহিদা পূরণেই এই শারীরিক মিলন করত। তবে বর্তমানে অনেকেই বলে থাকেন যে এর অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে। সত্যিই কি তাই, আমার তো মনে হয় এটি আরও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কেননা এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে যায়, সবাই ক্লান্তি অনুভব করে থাকে।
3341 views

2 Answers

আপনার কথার কিছু অংশ সত্য কিন্তু বাকি অংশ একেবারেই ভুল ধারণা। আদিম যুগে বলা চলে অবসর সময়ের বিনোদনের জন্যই শারীরিক মিলন করা হয়ে থাকত তবে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয় শারীরিক এবং মানসিক চাহিদা থেকেই। আপনি যেমনটা যুক্তি দেখিয়েছেন যে শারীরিক মিলন করলে মানুষ ক্লান্ত হয়ে যায় সেক্ষেত্রে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা আদৌ আছে কি না এই বিষয়ে বলা যায় যে শারীরিক মিলন একজনকে ক্লান্ত করে ঠিকই কিন্তু তা সাময়িকের জন্য। আমরা শারীরিক ব্যায়াম করাকালীন সময়ে যেমন শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ি তবে এই শারীরিক মিলন আমাদের শারীরিক গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। ঠিক তেমনি শারীরিক মিলনও শারীরিক ব্যায়ামের ন্যায় সাময়িকভাবে ক্লান্ত করে কিন্তু এটি নিয়মিত করলে স্বাস্থ্যগত কিছু উপকারিতাও পাওয়া যায়। শারীরিক মিলন শারীরিক ব্যায়ামের মতই স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আসুন জেনে নিই এই শারীরিক মিলন আমাদের স্বাস্থ্যে কী ধরনের উপকার করতে পারে। শারীরিক মিলনের স্বাস্থ্য উপকারিতা : ১) আপনার হার্টকে ভাল রাখতে পারে এই শারীরিক মিলন। যার কামোদ্দীপনা ও অনুভূতি যতো বেশি জোরালো হবে তার হার্ট ততো বেশি সক্রিয় ও বলিষ্ঠ হবে। ২) প্রোস্টেট ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিকে কমিয়ে দেয় শারীরিক সম্পর্ক। ৩) কর্মস্থলে নিজেকে গুটিয়ে রাখার প্রবণতা থাকে না। আগের চেয়ে বেশি বহির্মুখী ভাবধারা প্রকাশ পায় সার্বিক আচরণে। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বাড়ে। ৪) এর ফলে আপনাকে দেখে আরও তরুণ, সজীব ও প্রাণবন্ত মনে হবে। কারণ এটি এক ধরনের শারীরিক ব্যায়ামও বলা চলে। ৫) স্বাস্থ্যসম্মত শারীরিক মিলন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। ৬) মস্তিষ্ককে সজাগ ও সক্রিয় করে তোলে।

3341 views

ভালোবাসা প্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ দিক শারীরিক মিলন৷ এই শারীরিক মিলনের ফলে কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা পাওয়া যেতে পারে। ভালো ব্যায়াম : শারীরিক মিলনের সময়ে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেভাবে সঞ্চালিত হয় তার মাধ্যমে ব্যয়াম কার্য খুব ভালো ভাবে সম্পাদিত হয়৷ এর দ্বারা প্রচুর ক্যালোরি খরচ হয়, ফলে কোলেস্টেরলের মাত্রা কম হয়, রক্তপ্রবাহ ভালো হয়, শারীরিক মিলন কার্যে আপনি 30 মিনিট লিপ্ত থাকলে আপনার 85 ক্যালোরি খরচ হয়৷ আপনি এক সপ্তাহ নিয়মিত হাঁটা-চলা করলে যে পরিমান ক্যালোরি খরচ হয়, সপ্তাহে তিন দিন নিয়মিত ভাবে শারীরিক মিলনে লিপ্ত হলে আপনার সেই পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হবে৷ সারা বছর নিয়মিত রূপে শারীরিক মিলনে লিপ্ত হতে পারলে 75 মাইল জগিং করার সমান ক্যালোরি আপনার শরীর থেকে নির্গত হবে৷ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাঁড়ায় : রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ক্ষেত্রে অর্থাত আমাদের ইমিয়্যুন সিস্টেম ঠিক রাখতে সাহায্য করে আমদের শারীরিক মিলন প্রক্রিয়া৷ রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এটি থেরাপির মত কাজ করে, এর মাধ্যমে পাচন কার্য ঠিক হওয়ার ফলে রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা সুদৃঢ় হয়৷ জীবন কাল বাড়ে : নিয়মিত সেক্স্যুয়াল অ্যাক্টিভিটি আপনার আয়ু বাড়ায়৷ এর মাধ্যমে শরীরের সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ এবং সব তন্ত্র খুব ভালো ভাবে কাজ করে৷ কারণ শারীরিক কার্যকলাপ শরীরের বিভিন্ন কোষের মধ্যে অক্সিজেনের মাত্রা বৃদ্ধি করে বিভিন্ন অঙ্গগুলিকে সচল রাখতে সাহায্য করে৷ একদিকে যেখানে সেক্স্যুয়াল অ্যক্টিভিটির দ্বারা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা সঠিক থাকে তেমনি কোলেস্টেরলের মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে থাকে৷ সপ্তাহের তিন বার বা তার থেকে বেশী বার শারীরিক মিলন হার্ট-অ্যাটাকের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়৷ ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় : বিভিন্ন অধ্যয়নের দ্বারা জানা গেছে শারীরিক মিলনের ফলে মাথা এবং হাড়ের জয়েণ্টের ব্যাথার ক্ষেত্রে আরাম পাওয়া যায়৷ ওর্গাজমের আগে অক্সিটোসিন হর্মোনের স্তর সামান্য থেকে পাঁচ গুণ বেড়ে যাওয়ায় এণ্ড্রোফিন হর্মোন নিংসৃত হতে থাকার ফলে মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন আর আর্থারাইটিসএর ব্যথা থেকে আরাম পাওয়া যায়৷ তাই ব্যথা কমানোর ওষুধ না খেয়ে শারীরিক মিলনের আনন্দ উপভোগ করুন আর ব্যথা থেকে নিষ্কৃতি পান৷ পিরিয়ডের সময় ব্যথা কম হয় : যে সব মহিলাদের সেক্স্যুয়াল লাইফ খুব ভালো হয় তাদের পিরিয়ডের ক্ষেত্রে সমস্যা কম হয়৷ সাধারণতঃ পিরিয়ডের সময় মহিলাদের খুব বেশী ব্যথা হযে থাকে৷ যাদের সেক্স্যুয়াল লাইফে কোন প্রকার অসুবিধা থাকে না তাদের এই সময়ে ব্যথার অনুভুতি কম হয়৷ আর শারীরিক মিলনের দিক ঠিক থাকলে পিরিয়ডের আগে মহিলাদের মধ্যে অনেক সময় যে সমস্যা দেখা যায় তাও থাকে না৷ মানসিক অশান্তি থেকে মুক্তি : মানসিক প্রশান্তি আনার দিক থেকে নিয়মিত শারীরিক মিলনের অভ্যাস সব থেকে ভালো৷ কারণ শারীরিক মিলনের ফলে মন উত্ফুল্ল থাকে ফলে মানসিক অশান্তি কম হয়৷ দাম্পত্য জীবনে ভালোবাসা বাড়ে : শারীরিক মিলনের আকর্ষণের ফলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দূরত্ব কম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মনে খুশী সঞ্চারিত হয়৷ মনের উদাসীনতা দূর করতে এই কার্যকারিতা ভীষণ জরুরী৷ মানসিক দিক থেকে বিরক্তির নানা কারণ শারীরিক মিলনের ফলে দূর হয়ে যায়৷ এই সান্নিধ্যের ফলে সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক ভালো হয় এবং দুজনের মধ্যে ভালোবাসা বাড়ে৷ যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক উন্নতমানের তারা তাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন সমস্যায় পড়লে তার সমাধান একসঙ্গে করতে পারেন৷ কাজ করার ক্ষমতা বাড়ে : শারীরিক মিলনের সময় হরমোন নিঃসরণ হয় তাই মন শান্ত থাকে আর নিরন্তর কাজের ক্ষমতা বাড়তে থাকে৷ নিয়মিতভাবে শারীরিক মিলনের ফলে ব্যক্তির যৌবন অনেক দিন পর্যন্ত বর্তমান থাকে৷ এর মাধ্যমে ফিটনেস লেভেল বাড়ে৷ শারীরিক মিলনের ফলে ব্যক্তি সারাদিন স্ফুর্তি অনুভব করে৷ সারাদিনের কাজে এই স্ফুর্তির প্রভাব দেখা যায়৷ এর দ্বারা সারাদিনের ক্লান্তি থেকে এবং নানা রোগের হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়৷ ভালো ঘুম হয় : শারীরিক মিলনের ফলে অক্সিটোসিন হরমোন রিলিজ হয়, ফলে মিলনের পরে ঘুমও খুব ভালো হয়৷ তাই যাদের ঘুমের ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা আছে তারা অতি অবশ্যই এই পদ্ধতি অবলম্বন করে দেখতে পারেন৷ আত্মবিশ্বাস বাড়ে : শারীরিক মিনলের ফলে ব্যক্তির মনে চিন্তা করার ক্ষমতা বাড়ে৷ তার ভেতরকার সন্তুষ্টি তার মানসিক প্রশান্তি তার মধ্যে আত্মবিশ্বাসের পরিমাণ বাড়িয়ে তোলে৷ ওজন কমে : শারীরিক মিলনের ফলে প্রচুর পরিমান ক্যালোরি কম হয় তার ফলে ব্যক্তির ওজন কম হয়৷ নিয়মিতভাবে শারীরিক মিলনের ফলে পেটের স্থূলতা কম হয় আর মাংসপেশীতে জড়তা কম দেখা যায়৷ সৌন্দর্য্য বাড়ে : শারীরিক মিলনকালে হরমোন নিঃসরণের ফলে রক্তপ্রবাহের মাত্রা বেড়ে যাওয়াতে তার প্রভাব পড়ে ত্বকের ওপরে৷ তার ফলে সৌন্দর্য্য বেড়ে যায়৷ আপনার সারা শরীরের মাদকতা আপনার মধ্যে লাবণ্যতা আনে৷ শারীরিক মিলনকালে মহিলাদের শরীর থেকে এস্ট্রোজেন হরমোন নিংসৃত হতে থাকে, যার দ্বারা তাদের চুল এবং ত্বক আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে৷ ভালো ত্বক : শারীরিক মিলনের সময় সারা শরীরে একপ্রকার ম্যাসাজ চলে তার দ্বারা রিল্যাক্সেশনের ফলে শরীরে কোন প্রকার দাগ থাকে না বা তা ধীরে ধীরে লুপ্ত হতে থাকে৷ প্রোস্টেটে ক্যান্সার প্রবণতা কম হয় : নিয়মিত শারীরিক মিলনের ফলে প্রোস্টেটে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়৷ হাঁপানি বা জ্বর থেকে মুক্তি : শারীরিক মিলনকে ন্যাচারাল অ্যাণ্টি হিস্টামাইন রূপে দেখা হয়৷ এর দ্বারা নাক বন্ধ থাকলে তা খুলে যায়৷ আর যাদের ফুসফুসের সমস্যা বা জ্বর হয় তাদের সমস্যার সমাধানও হয়ে থাকে৷ কার্ডিওভাসকুলারের ক্ষেত্রে উন্নতি : মহিলারা শারীরিক মিলনের সময় উত্তেজিত হয়ে উঠলে তাদের হার্টের গতি বেড়ে যায়, ফলে তাদের কার্ডিওভাসকুলারের সমস্যার সমাধান হয়ে থাকে৷ বিশ্বস্ততা বাড়ে : স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শারীরিক মিলনের বোঝা পড়া ঠিক থাকলে তারা একে অপরকে কখনও ঠকায় না৷ তাদের ঘনিষ্ঠতা তাদের এমন কাজ করতে দেয় না৷ রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায় : শারীরিক মিলনের সময় ব্যক্তির উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে সারা শরীরে রক্তপ্রবাহের মাত্রা বেড়ে যায়৷ এর ফলে সারা শরীরের প্রতিটি কোষে সঠিক মাত্রায় অক্সিজেন পৌঁছায়৷

3341 views

Related Questions