1 Answers
মহাশূন্যে যে কোন মাধ্যাকর্ষণ নেই, তা তো সবাই জানে। পৃথিবী থেকে যে কোন জিনিস নিয়ে যাওয়া হোক, জীব কিংবা জড়, তা মহাশূন্যে থাকবে ভাসমান অবস্থায়। এর ফলে মহাশূন্যচারীরা মহাশূন্যে হয়ে যান ওজনহীন, কখনো কি ভেবে দেখেছেন তারা মহাশূন্যে এরকম অদ্ভুত অবস্থায় ঘুমোন কিভাবে? চলুন জানা যাক।

দেহ যেহেতু মহাশূন্যে ভেসে থাকে, তাই যেকোন দিকে যেকোন ভাবে ঘুমোতে পারেন মহাশূন্যচারীরা। তবে সুবিধার জন্য তারা কেবিনের ভেতরে কোন সিট, দেয়াল বা bunk bed (শোয়ার জায়গা) এর সাথে নিজেদেরকে আটকে রাখেন। এর ফলে ঘুমন্ত অবস্থায় অন্য কিছুর সাথে তাদের ধাক্কা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। যেসব মহাশূন্যচারীদের স্লিপিং মাস্ক বা চোখে ব্যবহারের জন্য আবরণী থাকে না, তারা মহাশূন্যযানের ককপিটে ঘুমান না। কারণ এ ককপিট দিয়ে আলো ও উষ্ণতা মহাশূন্যযানের ভেতর এসে পড়ে। তবে মাঝে মাঝে মহাশূন্য ভ্রমণের উত্তেজনা কিংবা মহাশূন্যযানের গতির ফলে সৃষ্ট অসুস্থতাতে তাদের ঘুমের ব্যঘাত ঘটে। আবার এক সাথে অনেক জন ঘুমালেও ঘুমের ব্যঘাত ঘটতে পারে। নাসা’র দেয়া তথ্যমতে, মহাশূন্যচারীরা সাধারণ ভাবে ব্যথানাশক ওষুধ ও ঘুমের ওষুধ সেবন করে থাকেন। ঘুমের ওষুধ কম ঘুম হওয়া কিংবা নিদ্রাহীনতার মত সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এ সমস্যাগুলো মহাশূন্যে খুবই সাধারণ ঘটনা।
মহাশূন্যচারীরা ঘুমানোর সময় আলো থেকে মুক্ত থাকতে চোখে মাস্ক ব্যবহার করেন, আর বিভিন্ন যন্ত্রের শব্দ থেকে মুক্ত থাকতে কানে ব্যবহার করেন ইয়ার-প্লাগ। এটা শব্দকে একেবারে কমিয়ে দিতে পারে না, তবে নভোচারীদেরকে ধীরে ধীরে শব্দে অভ্যস্ত করে ফেলে, ফলে তারা আরামে ঘুমোতে পারেন। আলো ও শব্দ সমস্যা তো দূর করা গেল, কিন্তু মহাশূন্যে যে মানুষের দেহ ভাসতে থাকে, তার সমাধান কী? সেটারও রয়েছে সমাধান। মহাশূন্যচারীদের স্লিপিং ব্যাগগুলো দেয়ালের সাথে আটকে রাখা হয়। এর ভেতরে ঢুকে মহাশূন্যচারীরা ঘুমিয়ে পড়েন।