1 Answers
মহাশূন্যে যাবার জন্য একপায়ে খাড়া মানুষের কমতি নেই। এমনকি সারা জীবনের মতো মঙ্গলের চলে যাবারও ইচ্ছে আছে অনেকেরই। এখন কথা হল, মহাশূন্যে গেলে তো আপনি নিজের সুখ দুঃখের অনুভূতিগুলোকে নিয়েই যাবেন, তাই না! মহাশূন্যে যাবার পর যদি পৃথিবীতে ফেলে আসা প্রিয়জনের কথা মনে পড়ে তাহলে আপনার কান্না পাবারও সম্ভাবনা আছে। মহাশূন্যে বিশালতা দেখে মুগ্ধ হয়ে অথবা কোনও যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে ভয় পেয়ে গেলেও কান্না পেতে পারে। সমস্যাটা এখানেই। কান্নাকাটি করার জন্য মহাশূন্য যে মোটেই উপযুক্ত স্থান নয়!

একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে মহাশূন্যে কাঁদা যায় না। সেটা মোটেই সত্যি নয়। কাঁদতে পারবেন অবশ্যই, তবে সেই কান্নার সাথে পৃথিবীতে বসে কান্নার একটা বড় ফারাক আছে বৈকি! পৃথিবীতে যা হয় তা হলো আমাদের অশ্রুগ্রন্থি থেকে পানি বের হয় এবং মাধ্যাকর্ষণের টানে তা আমাদের গাল বেয়ে গড়িয়ে নিচে পড়তে থাকে। মহাশূন্যে এটা হবে না। হবে কি করে? আপনি যেই মহাকাশযানের ভেতরে আছেন ওতে তো মাধ্যাকর্ষণের মতো এমন কোনও বল নেই যাতে অশ্রুর ফোঁটা আপনার চোখ থেকে নিচে গড়িয়ে পড়বে। তাই মহাশূন্যে যেটা হয় তা হল আমাদের অশ্রুগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হওয়া অশ্রু চোখেই জমাট বেঁধে থাকে। দুঃখের অশ্রু হোক আর সুখের অশ্রু, সেটা আপনার চোখেই জমতে থাকবে আর দৃষ্টির ব্যাঘাত ঘটাবে। এ অবস্থায় তোয়ালে দিয়ে চোখ মুছে ফেলা ছাড়া আপনার আর কোনও গতি থাকবে না। তবে আপনি যদি অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হয়ে কাঁদতেই থাকে, এবং জমতে জমতে সেই অশ্রুর ফোঁটা যদি নেহায়েতই বেশি বড় হয়ে যায় তবে আপনার চোখের মায়া কাটিয়ে সেই মার্বেল আকারের অশ্রুর ফোঁটা ভেসে বেড়াবে আপনার মহাকাশযানের ভেতরে ভরশূন্য পরিবেশে।
তো এহেন পরিস্থিতিতে অশ্রু বর্ষণ করে তো খুব একটা লাভ হবেই না, বরং আপনার চোখে জমে থাকা জল বিরক্তির উদ্রেক করবে। তবে মানুষের আবেগকে তো দমিয়ে রাখা যায় না! তাই আপনার যদি ঘন ঘন কান্নার অভ্যাস থাকে তবে মহাশূন্যে গেলে অবশ্যই অশ্রু মোছার জন্য সাথে রাখবেন একটা তোয়ালে!
Related Questions
Next steps
- Find a doctor for in-person or online consultation
- Browse medical tests patients often ask about
- Check medicine information (uses, dosage, brands in Bangladesh)
- More health Q&A on Bissoy