3 Answers
রাসুল সা: এর জলিলুল কদর সাহবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সা: বলেছেন, মানুষ যখন ঘুমায়, তখন তার আত্মা ঊর্ধ্ব আকাশে চলে যায়। অতঃপর তাকে মাহান আল্লাহর আরশের কাছে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়। যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় তার আত্মা আল্লাহর আরশের কাছেই সিজদা করে। আর যে ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় ঘুমায়, তার আত্মা আরশ থেকে দূরে সিজদা করে। (বায়হাকী, হাদিসটিিইমাম বুখারী তাঁর আত- তারীখুল কাবীর’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন)। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় তার মাথার কাছে একজনফেরেশতা রাতযাপন করে এবং ঐ ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত তার জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। ফেরেশতা বলতে থাকে, “হে আল্লাহ! তুমি তোমার এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও। কেননা সে পবিত্র অবস্থায় রাতযাপন করছে। (তাবরানী ও বায়হাকী।) অতএব, আসুন! আমরা পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় যাতে আমাদের আত্মা আল্লাহর আরশের কাছেই সিজদা দিতে পারে এবং ফেরেশতারা যেন আমাদের জন্য মাহন প্রভুর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে।
মানুষ ঘুমালে আত্মা কী করে? বিভিন্ন ধর্ম আর বিজ্ঞান অনুসারে নিম্নে তার যুক্তি দাঁড় করানো হলো-
ইসলাম ধর্ম অনুসারে
আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘মানুষ ঘুমালে তার আত্মা আকাশে চলে যায় এবং তাকে আল্লাহর আরশের কাছে সিজদা করার নির্দেশ দেয়া হয়। যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় তার আত্মা আল্লাহর আরশের কাছেই সিজদা দেয় এবং যে ব্যক্তি অপবিত্র ছিল তার আত্মা আরশ থেকে দূরে সিজদা দেয়।’ (সুনানে বায়হাকী, আত্-তারীখুল কাবীর লিল-বুখারী)
হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা রাতযাপন করে এবং ঐ ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দু‘আ করতে থাকে, “হে আল্লাহ! তুমি তোমার এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও, কেননা সে পবিত্র অবস্থায় রাতযাপন করছে। (মু’জামুল কাবীর লিত্-তাবরানী, সুনানে বায়হাকী)
অর্থাৎ এ থেকে বুঝা যায় ইসলাম ধর্ম অনুসারে ঘুমালে মানুষের আত্মা চলে যায় আল্লাহর কাছে। ঘুম থেকে জেগে ওঠা মানে তার আত্মাকে আবার দুনিয়ার বুকে ফিরিয়ে দেন আল্লাহ। আর ফিরিয়ে না দিলে সেই মানুষটির ক্ষেত্রে ঘটে জাগতিক মৃত্যু।
খ্রিস্টধর্ম অনুসারে
খ্রিস্টধর্মও প্রায় একই কথা বলে। বাইবেল মতে, ‘মানুষ ঘুমানোর পর তার আত্মা স্বর্গে চলে যায়। কিন্তু আত্মার সাথে তার দেহের সম্পর্ক থাকার কারণে এক সময় ফিরে আসে আত্মা আর ঘুম থেকে জেগে ওঠে সে।
বিজ্ঞান কি বলে
আমাদের মস্তিষ্কের একটি অংশে ‘স্লিপ সেন্টার’ বা ‘ঘুমকেন্দ্র’ নামের একটি জায়গা রয়েছে। সারাদিনের ক্লান্তি শেষে যখন বিশ্রামের প্রয়োজন হয় তখন সেই ঘুমকেন্দ্রে প্রবেশ করে ক্যালসিয়াম আয়ন। আর তখনই ঘুমের উদ্রেক হয় আমাদের। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক থাকে বিশ্রামে। ঘুমের বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা মুখোমুখি হই স্বপ্নের। আত্মা সাড়া দেয় সেই সকল স্বপ্নের ভেতর।
মহানবী (সাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা রাতযাপন করে এবং ঐ ব্যক্তি জাগ্রত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত দোয়া করতে থাকে, “হে আল্লাহ! তুমি তোমার এই বান্দাকে ক্ষমা করে দাও কেননা সে পবিত্র অবস্থায় রাতযাপন করছে। (তাবরানী ও বায়হাকী) অতএব আসুন আমরা পবিত্র অবস্থায় ঘুমায় যাতে আমাদের আত্মা আল্লাহর আরশের কাছেই সিজদা দিতে পারে এবং ফেরেশতা আমাদের ক্ষমা চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে।