1 Answers

বর্তমান সময়ে অর্থনৈতিক মন্দা, হঠাৎ চাকরী চলে যাওয়া, লেখাপড়া শেষে চাকরী না পাওয়া, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ইত্যাদি সমস্যা প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত ঘরেই দেখা দিয়েছে কমবেশি আর্থিক টানাপোড়ন। কদিন আগেও লাইফ স্টাইলযেমন ছিল, সেটা থেকে সরে আসতে হচ্ছে বেশিরভাগ পরিবারই। বলাই বাহুল্য যে আর্থিক সঙ্কট পরিবারে খুব বিরূপ প্রভাব ফেলে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পরস্পরের সাথে সম্পর্ক খারাপ হয়, ঝগড়া বেড়ে যায়। এ সময় পরিবারের সকল সদস্যের উচিৎ একে অপরের পাশে থাকা, সাহস যোগানো।

কিছু কিছু পরিবারে আর্থিক সঙ্কট দেখা দিলে পরিবারের সদস্যারা বাইরে খাওয়া, ছেলেমেয়েদের দামী উপহার দেওয়া, ছুটি হলে ঘুরতে যাওয়া ইত্যাদি বন্ধ করে দেন। অর্থাৎ তাদের উপর আর্থিক সমস্যার প্রভাব খুব প্রকট আকার ধারণ করে না। কিন্তু কিছু পরিবারে এ সমস্যার প্রভাব খুব খারাপ ভাবে পড়ে। এর ফলে বাবা মা অনেক সময় সন্তানদের স্কুল ফিস দিতে পারেন না অথবা বড় বাসা ছেড়ে অপেক্ষাকৃত কম ভাড়ার বাসা নিতে বাধ্য হন।

পরিবারে আর্থিক সমস্যা দেখা দিলে সদস্যের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ দেখা যাওয়াই স্বাভাবিক। কিন্তু সন্তানদের মনে রাখা উচিৎ এ সময় বাবা মা অত্যন্ত মানসিক চাপের মাঝে থাকেন, তাই তাদের ওপর অভিমান বা তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার না করে সন্তানদের উচিৎ তাদের পাশে দাঁড়ানো। পরিবারের আর্থিক সঙ্কট সকলের ওপরেই বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, তবে এ সময় তাদের উচিৎ আর্থিক সঙ্কটের সমাধান না করতে পারলেও অন্যান্য উপায়ে বাবা মাকে সাহায্য করা।

পরিবারে হঠাৎ আর্থিক সমস্যা দেখা দিলে সন্তান হিসেবে পরিস্থিতি ভালো করার জন্য আপনি নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো মেনে চলতে পারেনঃ

১) নিজে কিছু করাঃ
আপনি যদি ফুল টাইম স্টুডেন্ট হয়ে থাকেন তাহলে চাকরী করা সম্ভব নয়। কিন্ত অন্যান্য উপায়ে আপনি সামান্য হলেও কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারেন। যেমন, অবসর সময়ে টিউশনি করতে পারেন। আপনি যদি গান বা ছবি আঁকায় পারদর্শী হন তাহলে বাড়ির আশেপাশের ছোট শিশুদের গান কিংবা ছবি আঁকা শেখাতে পারেন,লেখার হাত ভালো হলে পত্রিকা বা ম্যাগাজিন এ লিখতে পারেন। এছাড়া আপনার প্রয়োজন নেই কিন্ত দরকারী এমন জিনিষ অনলাইনের বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিক্রি করতে পারেন। নিজের হাতে জিনিষ তৈরি করে, পোশাক ডিজাইন করেও বিক্রি করতে পারেন অনলাইনে।

২)শখ কিংবা বিলাসিতার চেয়ে প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিনঃ

এ সময়ে বাবা মার কাছে কিছু চাওয়ার আগে চিন্তা করুন জিনিষটি আসলেই আপনার প্রয়োজন কিনা। এছাড়া এ সময় দামী ও সৌখিন জিনিষের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম দামী কিছু কিনতে পারেন। যেমন, ব্র্যান্ডের খুব দামী পোশাকের বদলে সাধারণ কিন্তু সুন্দর পোশাক কিনতে পারেন।


৩)পরিবারের সদস্যদের সাথে সমস্যা নিয়ে কথা বলুন:
আপনার বাবা-মাকে জানান যে বর্তমান অবস্থার সাথে মানিয়ে চলার মত মানসিক শক্তি আপনার আছে। সাধারনত এ সময়ে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটি অত্যন্ত বিষণ্ণ ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যায়, তাই পরিবারের সকল সদস্যের উচিৎ তার পাশে দাঁড়ানো। পরিবারের সদস্যের এ সময়ে বন্ধু ও কাউন্সিলার এর মত একে অপরের পাশে দাঁড়ানো উচিৎ।

৪)ধৈর্য ধারণ করুনঃ
জীবনের কঠিন সময়ে ধৈর্য ধারণ করা খুব কঠিন ব্যাপার কিন্তু আপনি কতটা ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবেলা করতে পারবেন তার উপরই ভবিষ্যতের সফলতা নির্ভর করে। আপনার কিছু বন্ধুরা হয়ত এ সময়ে দামী সেলফোন,আইপ্যাড ইত্যাদি দামী ও সৌখিন বস্তু ব্যবহার করবে যা আপনার পক্ষে কেনা সম্ভব হবে না। কিন্তু এ জন্য বাবা-মাকে অযথা দোষারোপ করবেন না কিংবা তাদের প্রতি নেতিবাচক ধারণা পোষণ করবেন না।

৫)নিজেকে ব্যস্ত রাখুনঃ
আপনার দুঃখ ও হতাশার কথা ডায়েরীতে লিখে রাখতে পারেন। এটা মন হালকা করতে সাহায্য করে। তবে লেখার অভ্যাস না থাকলে সিনেমা দেখা, বই পড়া,গান শোনা, বাগান করা, সেলাই করা ইত্যাদি উপায়ে নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। এগুলো আপনার বিষণ্ণতা ও হতাশাবোধ কাটতে সহায়তা করবে।

৬)পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়ান কিন্তু নিজেকে দোষারোপ করবেন নাঃ
জীবনে অনেক সমস্যার সমাধান নির্ভর করে ইতিবাচক মনোভাবের উপর। তাই পরিবারের প্রতি আপনার দায়িত্ব পালনের যথাসাধ্য চেষ্টা করুন কিন্তু কখন ও নিজেকে পরিবারের বোঝা ভাববেন না কিংবা অহেতুক নিজেকে দোষারোপ করে মন খারাপ করবেন না। এটা আপনার আত্মবিশ্বাসকে ধ্বংস করে দেবে।

সঙ্কটের মুখোমুখি হলেই মানুষ বাঁচতে শেখে, প্রতিকুলতার সাথে লড়াই করতে শেখে। তাই সঙ্কটের সময় আপনার পরিবারের সদস্যের পাশে দাঁড়ান। পরিবারের সদস্যের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা ও পাশে দাঁড়ানোর প্রবনতা যে কোনো সঙ্কট সমাধানে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

3016 views

Related Questions