1 Answers
মানসিক চাপ মোকাবিলা করতে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের কোপিং স্ট্র্যাটেজি বা মানিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি মানুষ অবলম্বন করে থাকে, যার কোনোটা গ্রহণযোগ্য, আবার কোনোটা অগ্রহণযোগ্য। অগ্রহণযোগ্য কোপিংগুলোর মধ্যে নিজের শরীরের সরাসরি ক্ষতি করা বা করার প্রবণতা অন্যতম। অতিরিক্ত ওষুধ খাওয়া, হাত-পা কাটা, শরীরের কোনো অংশ পুড়িয়ে ফেলা এসবের মধ্যে পড়ে। বিজ্ঞানসম্মতভাবে যাকে বলা হয়, ‘ডেলিবারেট সেল্ফ হার্ম’ বা ‘প্যারাসুইসাইড’। আমাদের চারদিকের অনেক মানুষকেই আমরা জানি, যারা যখন-তখন হাত-পা কাটে, কথায় কথায় ঘুমের ওষুধ খায় কিংবা কখনো কখনো গায়ে আগুন পর্যন্ত ধরিয়ে দেয়। সত্যিকারের মৃত্যুচিন্তা বা আত্মহত্যার চিন্তা এখানে না থাকলেও কখনো এর পরিণতি মৃত্যু পর্যন্ত গড়াতে পারে। কোনো একটি ঘটনা, পরিবেশ বা পরিস্থিতির প্রতিক্রিয়া হিসেবে মানুষ যে কাজটি কারে বা করতে অভ্যস্ত হয়, সেটাই আসলে কোপিং বা কোপিং স্ট্র্যাটেজি। অজান্তেই এই প্রতিক্রিয়াগুলোতে মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায়, যা সামাজিক, পারিবারিক, ধর্মীয় বা বৈজ্ঞানিকভাবে গ্রহণযোগ্য বা অগ্রহণযোগ্য দুই ধরনেরই হতে পারে। ধরুন, কেউ একজন পরীক্ষায় ফেল করল, তখন তার মন খারাপ হলো এবং ঠিক করল আমি আর লেখাপড়া করব না। এখানে লেখাপড়া না করার চিন্তাটি তাকে মন খারাপ হওয়ার বিষয়টি থেকে মুক্তি দিতে পারে। কিন্তু এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য প্রতিক্রিয়া নয়। আবার পাস করার আনন্দে যদি কেউ নেশাদ্রব্য গ্রহণ করতে চায়, সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। ডেলিবারেট সেল্ফ হার্মও একটি কোপিং স্ট্র্যাটেজি, যা নির্দিষ্ট কোনো ঘটনার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মানুষ করে থাকে। সাময়িক মুক্তি দেয় বলে অনেকে দাবি করলেও বাস্তবে তার ফল হয় উল্টো এবং অবশ্যই এটি একটি অগ্রহণযোগ্য কোপিং স্ট্র্যাটেজি।