1 Answers
বাংলা মদ বা চুয়ানি তৈরির প্রাচীন কালের সেই পদ্ধতি এখনো এর উৎপাদকরা মেনে চলে। এই জন্য প্রয়োজন তাল গাছ। তবে সে তাল গাছ মর্দা হলে ভাল হয়। এই গাছের রস ভাল পাওয়া যায়। মাদি গাছ অর্থাৎ তাল ধরাগাছেও রস পাওয়াযায় তবে তা কম। এই মর্দা গাছেরএক প্রকার জটা বের হয়। দেখতে লম্বা ও চিকন ঠিক পানির পাইপের মত দেখতে। এই জটাকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় কেটে এবং মৎথন করে এই জটার নিচে মাটির ঠিলে পাতা হয়। এই রস দুই তিন দিন পর সংগ্রহ করা হয়। তবে প্রতিদিন সংগ্রহ করা রস খূব সুস্বাদু ওমিষ্টি। এই রস শরীরের জন্য খুব উপকারী। আমি অনেক বার খেয়েছি।[আমাদের একটা মর্দা তাল গাছ ছিল এবং এখনো আছে। এই তাল গাছে রস লাগাত আমার এক সাঁওতাল বন্ধু জতিন। ওকে বললেআর নতুন ভাল ঠিলে দিলে ও লাগিয়ে দিত]দুই তিন দিন পর রস সংগ্রহ করারফলে রস যেমন বেশি পাওয়া যায়তেমনি রোদের তাপে রস গুলি বেশ জাগ হয় [ জাগ- হল অনেক দিন রেখে পচানো]। এই রস সংগ্রহ করে আনার পর তা বড় একটা পাতিলে সংরক্ষণ করা হয়। ঐ দিকে চাল সিদ্ধ করে মাড় সহ ভাত বা পান্তা কয়েক দিন ধরে জাগ দেওয়া হয়। এর ফলে ঐ দুই এ পর্যাপ্ত এলকোহল [ ইথাইল এলকোহল- C2H5OH,মিথাইল এলকোহল-CH3OH এ দুই এরযে কোন একটা, আমি সঠিক জানি না। পান্তা খেলে কেমন ঘুম ঘুম আসে না, এটিএলকোহল এর কল্যাণে] তৈরি হয়। পান্তার জাগকে পচানি বলে। এই পচানিরপানি কে ছেকে ভাত গুলি আলাদাকরা হয়।[ এই ভাতগুলি আবার গৃহপালিত গরু মহিষের উত্তম খাবার এবং মাছেরও ভাল খাদ্য] পানি গুলি তখন ঐ রসের মধ্যে ঢেলে দেওয়া হয়।এর পর ভাল ভাবে মিশ্রিত তরলকে উত্তম রূপে আগুনে তাপ দেওয়া হয়। এর পর ঠাণ্ডা করে পানের জন্য পরিবেশনা করা হয়। এর রং কিছুটা ঘোলা বাভাতের মাড়ের মতহয়। আর গন্ধ হয় প্রচুর।তো এই হল চুয়ানি তৈরির যাবতীয় ইতিহাস। সুত্র : http://spicknews.com/?p=7220 [[[Bissoy.Com কখনোই কাউকে উপরোক্ত উপায় অবলম্বনে উৎসাহীত করেনা, কেউ এটি অনুযায়ী কোনোরুপ মাদক তৈরি করে আইনি জটিলতায় পড়লে বা অসুস্থ হয়ে পড়লে বিস্ময় কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেনা]]]