ফাবিমা-নাকদিহিম মীছা-কাহুম ওয়া কুফরিহিম বিআ-য়াতিল্লা-হিওয়া কাতলিহিমিুল আমবিইয়াআ বিগাইরি হাক্কিওঁ ওয়া কাওলিহিম কুলূবূনা-গুলফুন বাল তাবা‘আল্লাহু‘আলাইহা-বিকুফরিহিম ফালা-ইউ’মিনূনা ইল্লা-কালীলা-।উচ্চারণ
শেষ পর্যন্ত তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্য, আল্লাহর আয়াতের ওপর মিথ্যা আরোপ করার জন্য, নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্য এবং “আমাদের দিল আবরণের মধ্যে সুরক্ষিত” ১৮৭ তাদের এই উক্তির জন্য(তারা অভিশপ্ত হয়েছিল) । অথচ ১৮৮ মূলত তাদের বাতিল পরস্তির জন্য আল্লাহ তাদের দিলের ওপর মোহর মেরে দিয়েছেন এবং এ জন্য তারা খুব কমই ঈমান এনে থাকে। তাফহীমুল কুরআন
অতঃপর (তাদেরকে লানত করেছিলাম) তাদের কর্তৃক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার, নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা এবং আমাদের অন্তরের উপর পর্দা লাগানো রয়েছে তাদের এই উক্তির কারণে। #%১০৬%# অথচ বাস্তবতা হল, তাদের কুফরের কারণে আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর করে দিয়েছেন। এ জন্যই তারা অল্প কিছু বিষয় ছাড়া (অধিকাংশ বিষয়েই) ঈমান আনে না। #%১০৭%#মুফতী তাকী উসমানী
কিন্তু তারা লা‘নতগ্রস্ত হয়েছিল তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং আল্লাহর নিদর্শনাবলীর প্রতি তাদের অবিশ্বাস ও অন্যায়ভাবে তাদের নাবীদের হত্যা এবং ‘‘তাদের স্ব স্ব অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত’’ এই উক্তি করার জন্য; হ্যাঁ - তাদের অবিশ্বাস হেতু আল্লাহ ওদের অন্তরে মোহর এঁটে দিয়েছেন, এ কারণে তারা অল্প সংখ্যক ব্যতীত বিশ্বাস করেনা ।মুজিবুর রহমান
অতএব, তারা যে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়েছিল, তা ছিল তাদেরই অঙ্গীকার ভঙ্গর জন্য এবং অন্যায়ভাবে রসূলগণকে হত্যা করার কারণে এবং তাদের এই উক্তির দরুন যে, আমাদের হৃদয় আচ্ছন্ন। অবশ্য তা নয়, বরং কুফরীর কারণে স্বয়ং আল্লাহ তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন। ফলে এরা ঈমান আনে না কিন্তু অতি অল্পসংখ্যক।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং তারা লা‘নতগ্রস্ত হয়েছিল তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্যে, আল্লাহ্ র আয়াতকে প্রত্যাখ্যান করার জন্যে, নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্যে আর ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’- তাদের এ উক্তির জন্যে; বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ্ তা মোহর করেছেন। সুতরাং তাদের অল্পসংখ্যক লোকই বিশ্বাস করে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতঃপর (তাদের শাস্তি দেয়া হয়েছিল) তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ, আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করা, অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করা এবং এ কথা বলার কারণে যে, ‘আমাদের অন্তরসমূহ আচ্ছাদিত’। বরং আল্লাহ তাদের কুফরীর কারণে অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছিলেন। সুতরাং স্বল্পসংখ্যক ছাড়া তারা ঈমান আনবে না।আল-বায়ান
(তাদের প্রতি আল্লাহর অসন্তোষ নেমে এসেছে) তাদের ওয়া‘দা ভঙ্গের কারণে, আর আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করার কারণে, অন্যায়ভাবে নাবীগণকে তাদের হত্যা করার কারণে, আর ‘আমাদের হৃদয়গুলো আচ্ছাদিত’ তাদের এ কথা বলার কারণে- বরং তাদের অস্বীকৃতির কারণে আল্লাহ তাদের হৃদয়গুলোতে মোহর মেরে দিয়েছেন। যে কারণে তাদের অল্পসংখ্যক ছাড়া ঈমান আনে না।তাইসিরুল
আর তাদের অবিশ্বাসের জন্যে, আর মরিয়মের বিরুদ্ধে তাদের জঘন্য কুৎসা রটনার জন্যে;মাওলানা জহুরুল হক
১৮৭
সূরা বাকারার ৮৮ আয়াতে ইহুদীদের এই বক্তব্যটির দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আসলে দুনিয়ার সমস্ত বাতিল পূজারী জাহেলদের মতো এরাও এই মর্মে গর্ব করতো যে, নিজেদের বাপ-দাদাদের থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে তারা যে সমস্ত চিন্তাধারা, বংশ-প্রীতি, গোত্র-প্রীতি, রীতি-নীতি, রসম-রেওয়াজ লাভ করেছে সেসবের ওপর তাদের আকীদা-বিশ্বাস এতো বেশী পাকাপোক্ত হয়ে গেছে যে, কোন ক্রমেই তাদেরকে সেসব থেকে সরানো যাবে না। যখনই আল্লাহর পক্ষ থেকে পয়গাম্বররা এসে তাদের বুঝাবার চেষ্টা করেছেন তখনই তারা তাদের এই একই জবাব দিয়েছেনঃ তোমরা যে কোন যুক্তি-প্রমাণ, যে কোন নিদর্শন আনো না কেন আমরা তোমাদের কোন কথায় প্রভাবিত হবো না। এ পর্যন্ত আমরা যা কিছু মেনে এসেছি ও যা কিছু করে এসেছি এখনো তাই মানবো ও তাই করে যেতে থাকবো। (সূরা বাকারার ৯৪ নম্বর টীকা দেখুন)।
১৮৮
এটি প্রসঙ্গক্রমে আগত একটি বিচ্ছিন্ন বাক্য।
এর দ্বারা তারা বোঝাতে চাচ্ছিল যে, আমাদের অন্তর পুরোপুরি সংরক্ষিত। তাতে নিজেদের ধর্ম ছাড়া অন্য কোনও ধর্মের কথা প্রবেশ করতে পারে না। আল্লাহ তাআলা তাদের জবাবে একটি অন্তর্বর্তী বাক্যস্বরূপ বলছেন, আসলে অন্তর সংরক্ষিত নয়; বরং তাদের হঠকারিতার কারণে আল্লাহ তাআলা তাতে মোহর করে দিয়েছেন এবং সেজন্যই তাতে কোনও সত্য-সঠিক কথা প্রবেশ করে না।
১৫৫. অতঃপর (তারা অভিসম্পাত পেয়েছিল)(১) তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গের জন্য, আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করার জন্য, নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করার জন্য এবং ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত’ তাদের এ উক্তির জন্য। বরং তাদের কুফরীর কারণে আল্লাহ তার উপর মোহর মেরে দিয়েছেন। সুতরাং কেবল অল্প সংখ্যক লোকই ঈমান আনবে।
(১) বলা হয়েছে, ‘আর তাদের অঙ্গিকার ভঙ্গের কারণে এবং---’ কিন্তু এর কারণে কি হয়েছে সেটা বলা হয় নি। বরং উত্তরটি উহ্য রাখা হয়েছে। সূরা আল-মায়িদাহ এর ১৩ নং আয়াতে বলা হয়েছে, আর তাদের অঙ্গিকার ভঙ্গের জন্য আমরা তাদেরকে লা'নত করেছিলাম। সুতরাং এখানেও একই অর্থ গ্রহণ করা যায়। যাজ্জাজ বলেন, আয়াতের উত্তর হচ্ছে, তাদের অঙ্গিকার ভঙ্গের কারণে তাদের উপর আমরা অনেক হালাল বস্তু হারাম করেছি। কারণ, ১৬০ নং আয়াতে তা-ই বর্ণিত হয়েছে। কোন কোন মুফাসসিরের মতে, এ আয়াতের শেষে বর্ণিত, বরং আল্লাহ তাদের উপর মোহর করেছেন এ কথাটিই উপরোক্ত কথার উত্তর। আবার কারও কারও মতে, আয়াতের শেষে বর্ণিত, কেবল অল্প সংখ্যকই ঈমান আনবে এটাই হচ্ছে পূর্ববর্তী কথার উত্তর। (ফাতহুল কাদীর)
(১৫৫) (তারা অভিশপ্ত হয়েছিল) কারণ, তারা তাদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল, আল্লাহর আয়াতসমূহকে অবিশ্বাস করেছিল, নবীগণকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিল(1) এবং বলেছিল, ‘আমাদের হৃদয় আচ্ছাদিত।’ বরং তাদের অবিশ্বাসের জন্য আল্লাহই তাদের (হৃদয়ে) মোহর মেরে দিয়েছেন, ফলে তাদের অল্প সংখ্যকই বিশ্বাস করে।
(1) প্রকৃত বাক্য এই রকম হবে; (فَبِنَقْضِهِمْ مِيْثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُم) অর্থাৎ আমি তাদেরকে অঙ্গীকার ভঙ্গ, আল্লাহর নিদর্শনাবলীকে অস্বীকার ও অন্যায়ভাবে নবীগণকে হত্যা করার কারণে অভিশপ্ত করেছিলাম বা শাস্তি দিয়েছিলাম।