وَبِكُفۡرِهِمۡ وَقَوۡلِهِمۡ عَلَىٰ مَرۡيَمَ بُهۡتَٰنًا عَظِيمٗا

ওয়াবিকুফরিহিম ওয়াকাওলিহিম ‘আলা-মারইয়ামা বুহতা-নান ‘আজীমা।উচ্চারণ

তারপর ১৮৯ তাদের নিজেদের কুফরীর মধ্যে অনেক দূর অগ্রসর হয়ে মারয়ামের ওপর গুরুতর অপবাদ লাগাবার জন্য ১৯০ তাফহীমুল কুরআন

এবং তাদের কুফরী এবং মারয়ামের প্রতি গুরুতর অপবাদ আরোপ করার কারণে। #%১০৮%#মুফতী তাকী উসমানী

এবং তাদের কুফরী ও মারইয়ামের প্রতি তাদের ভয়ানক অপবাদের জন্য।মুজিবুর রহমান

আর তাদের কুফরী এবং মরিয়মের প্রতি মহা অপবাদ আরোপ করার কারণে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর তারা লা‘নতগ্রস্ত হয়েছিল তাদের কুফরীর জন্যে ও মারইয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদের জন্যে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তাদের কুফরীর কারণে এবং মারইয়ামের বিরুদ্ধে মারাত্মক অপবাদ দেয়ার কারণে।আল-বায়ান

(তাদের প্রতি আল্লাহর অসন্তোষ নেমে এসেছে) তাদের কুফরীর জন্য আর মারইয়ামের প্রতি তাদের গুরুতর অপবাদপূর্ণ কথা উচ্চারণের জন্য।তাইসিরুল

আর তাদের বলার জন্য -- "আমরা নিশ্চয়ই কাতল করেছি মসীহ্‌কে, -- মরিয়ম-পুত্র ঈসাকে” আল্লাহ্‌র রসূল, আর তারা তাঁকে কাতল করে নি, আর তারা তাঁকে ত্রুশে বধও করে নি, কিন্তু তাদের কাছে তাঁকে তেমন প্রতীয়মান করা হয়েছিল। আর নিঃসন্দেহ যারা এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করছিল, তারা অবশ্য তাঁর সন্বন্ধে সন্দেহের মধ্যে ছিল। এ বিষয়ে তাদের কোনো জ্ঞান নেই অনুমানের অনুসরণ ছাড়া। আর এ সুনিশ্চিত যে তারা তাঁকে হত্যা করে নি।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১৮৯

এ বাক্যটি মূল ভাষণের ধারাবাহিক বিবরণীর সাথে সংশ্লিষ্ট।

১৯০

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের জন্মবৃত্তান্ত সম্পর্কে আসলে ইহুদী জাতির মধ্যে বিন্দুমাত্র সংশয় ছিল না। বরং যেদিন তার জন্ম হয়েছিল সেদিনই আল্লাহ‌ সমগ্র জাতিকে এই মর্মে সাক্ষী বানিয়েছিলেন যে, এটি একটা অসাধারণ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন শিশু। তাঁর জন্ম কোন নৈতিক অপরাধের নয় বরং একটি মু’জিযার ফলশ্রুতি। যখন বনী ইসরাঈলের সবচাইতে ভদ্র, শরীফ ও খ্যাতনামা ধর্মীয় পরিবারের একটি কুমারী মেয়ে একটি শিশু পুত্র কোলে নিয়ে এগিয়ে এলেন এবং জাতির ছোট বড় শত শত হাজার হাজার লোক তার ঘরে ভিড় জমালো, তখন কুমারী মেয়েটি তাদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নীরবে নবজাত সন্তানের দিকে অংগুলি নির্দেশ করলেন। অর্থাৎ এই নবজাতকেই তোমাদের সব প্রশ্নের জবাব দেবে। লোকেরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলোঃ একে আমরা কি জিজ্ঞেস করবো, এতো দোলনায় শুয়ে আছে? কিন্তু হঠাৎ শিশুটি বোল ফুটলো এবং সে সুস্পষ্টও বলিষ্ট কণ্ঠে বলে উঠলোঃ

إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ آتَانِيَ الْكِتَابَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا

“আমি আল্লাহর বান্দা, আল্লাহ‌ আমাকে কিতাব দিয়েছেন ও নবী বানিয়েছেন।”(সূরা মারয়াম, ২য় রুকূ’)

এভাবে ঈসা মসীহ আলাইহিস সালামের জন্ম সম্পর্কে যে সংশয় জমে ওঠার সম্ভাবনা ছিল আল্লাহ‌ নিজেই তার মূলোৎপাটন করেন। এজন্য হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের যৌবনে পদার্পণ করা পর্যন্ত কেউ কোন দিন হযরত মারয়ামের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ আনেনি এবং হযরত ঈসাকে অবৈধ সন্তানও বলেনি। কিন্তু তিরিশ বছর বয়স হবার পর যখন তিনি নবুওয়াতের কাজের সূচনা করলেন এবং যাবতীয় অসৎকাজের জন্য ইহুদীদের তিরস্কার করতে শুরু করলেন, তাদের আলেমও ফকীহদের রিয়াকারীর সমালোচনা করতে থাকলেন তাদের সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষকে তাদের নৈতিক ও চারিত্রিক অবনতির জন্য সতর্ক করতে লাগলেন এবং আল্লাহ‌র দ্বীনকে বাস্তবে কায়েম করার জন্য নিজের জাতিকে সব রকমের ত্যাগ স্বীকার করার ও সব ক্ষেত্রে শয়তানি শক্তির সাথে লড়াই করার আহবান জানালেন, তখন এই নির্লজ্জ অপরাধীরা সত্য ও সততার কণ্ঠরোধ করার জন্য সব রকমের নিকৃষ্ঠতম অস্ত্র ব্যবহার করতে এগিয়ে এলো। তখন তারা এমন সব কথা বলতে থাকলো যা তারা তিরিশ বছর পর্যন্ত বলেনি। অর্থাৎ মারয়াম আলাইহাস সালাম (নাউযুবিল্লাহ) একজন ব্যভিচারিণী এবং ঈসা ইবনে মারয়াম তার অবৈধ সন্তান। অথচ এই জালেমরা নিশ্চিতভাবেই জানতো, এই মাতা ও পুত্র উভয়েই এই ধরনের কলুষতা থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত। কাজেই তাদের মনে যথার্থই এ ধরনের কোন সন্দেহ পুঞ্জিভূত ছিল না যার ভিত্তিতে তারা এই দোষারোপ করেছিল। এটা ছিল তাদের একটা স্বেচ্ছাকৃত দোষারোপ। জেনে বুঝে নিছক হকের বিরোধিতা করার জন্য তারা তাদের মাতা পুত্রের বিরুদ্ধে এই মিথ্যাটি তৈরী করেছিল। তাই আল্লাহ‌ একে জুলুম ও মিথ্যার পরিবর্তে কুফরী গণ্য করেছেন। কারণ এই দোষারোপের মাধ্যমে তারা আসলে আল্লাহর দ্বীনের পথে বাধা সৃষ্টি করতে চাচ্ছিল। একজন নিষ্পাপ ও নিরপরাধ মহিলার বিরুদ্ধে দোষারোপ করা তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের কোনও পিতা ছিল না, কুমারী মাতা মারয়াম আলাইহিস সালামের গর্ভে (আল্লাহর কুদরতে) জন্ম নিয়েছিলেন। কিন্তু ইয়াহুদীরা আল্লাহর কুদরতপ্রসূত এ মুজিযা (অলৌকিকতা)কে স্বীকার তো করলই না, উল্টো তারা হযরত মারয়াম (আ.)-এর মত পূত:পবিত্র, সতী-সাধ্বী নারীর প্রতি ন্যাক্কারজনক অপবাদ আরোপ করেছিল।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৫৬. আর তাদের কুফরীর জন্য এবং মারইয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অপবাদের জন্য।(১)

(১) মারইয়ামের উপর চাপানো তাদের গুরুতর অপবাদ কি ছিল তা এখানে বর্ণনা করা হয় নি। অন্যত্র এসেছে যে, তারা মারইয়ামকে ব্যভিচারের অপবাদ দিতে ক্রটি করে নি। আল্লাহ বলেন, “তারপর সে সন্তানকে নিয়ে তার সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থিত হল; তারা বলল, ‘হে মারইয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত জিনিস নিয়ে এসেছ’। (সূরা মারইয়াম: ২৭) এখানে অঘটন বলতে তারা ব্যভিচারের দিকেই অঙ্গুলি নির্দেশ করছিল। কারণ পরবর্তী আয়াতে মারইয়ামের বাবা খারাপ লোক না হওয়া এবং মা-ও বেশ্যা না হওয়া বলার মাধ্যমে সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। (আদওয়াউল বায়ান)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৫৬) এবং তারা তাদের অবিশ্বাসের জন্য ও মারয়্যামের প্রতি জঘন্য অপবাদ আরোপ করার জন্য (অভিশপ্ত হয়েছিল)। (1)

(1) এই আয়াতের লক্ষার্থ হল, ইউসুফ নাজ্জার (যোসেফ) নামক একজন লোকের সঙ্গে মারয়্যাম (‘আলাইহাস্ সালাম)-এর ব্যভিচারের যে মিথ্যা অপবাদ আরোপ করা হয়েছিল তার খন্ডন। আজও কিছু তথাকথিত তত্ত্বানুসন্ধানী এই মস্তবড় মিথ্যা অপবাদকে একটি ‘প্রামাণ্য সত্য’ বলে বিশ্বাস করে এবং ইউসুফ নাজ্জারকে ঈসা (আঃ)-এর পিতা প্রমাণ করার অপচেষ্টা করে। (نَعُوْذُبِاللهِ) এমনকি তারা ঈসা (আঃ)-এর অলৌকিক জন্মকেও অস্বীকার করে।