ইযা-জাআ নাসরুল্লা-হি ওয়াল ফাতহ।উচ্চারণ
যখন আল্লাহর সাহায্য এসে যায় এবং বিজয় লাভ হয়, ১ তাফহীমুল কুরআন
যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে মুফতী তাকী উসমানী
যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়,মুজিবুর রহমান
যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যখন আসবে আল্লাহ্ র সাহায্য ও বিজয় ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যখন আল্লাহর সাহায্য ও বিজয় আসবে,আল-বায়ান
যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও (ইসলামের চূড়ান্ত) বিজয়,তাইসিরুল
যখন আল্লাহ্র সাহায্য ও বিজয় আসছে,মাওলানা জহুরুল হক
১
বিজয় মানে কোন একটি যুদ্ধ বিজয় নয়। বরং এর মানে হচ্ছে এমন একটি চূড়ান্ত বিজয় যার পরে ইসলামের সাথে সংঘর্ষ করার মতো আর কোন শক্তির অস্তিত্ব দেশের বুকে থাকবে না এবং একথাও সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, বর্তমানে আরবে এ দ্বীনটিই প্রাধান্য বিস্তার করবে। কোন কোন মুফাসসির এখানে বিজয় মানে করেছেন মক্কা বিজয়। কিন্তু মক্কা বিজয় হয়েছে ৮ হিজরীতে এবং এ সূরাটি নাযিল হয়েছে ১০ হিজরীর শেষের দিকে। ভূমিকায় আমি হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ও হযরত সারাআ বিনতে নাবহানের (রা.) যে হাদীস বর্ণনা করেছি তা থেকে একথাই জানা যায়। এছাড়াও হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) যে একে কুরআন মজীদের সর্বশেষ সূরা বলেছেন, তাঁর এ বক্তব্যও এ তাফসীরের (রা.) বিরুদ্ধে চলে যায়। কারণ বিজয়ের মানে যদি মক্কা বিজয় হয় তাহলে সমগ্র সূরা তাওবা মক্কা বিজয়ের পর নাযিল হয়। তাহলে আন নসর কেমন করে শেষ সূরা হতে পারে? নিঃসন্দেহে মক্কা বিজয় এ দিক দিয়ে চূড়ান্ত বিজয় ছিল যে, তারপর আরবের মুশরিকদের সাহস ও হিম্মত নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল। কিন্তু এরপরও তাদের মধ্যে যথেষ্ট শক্তি-সামর্থ্য ছিল। এরপরই অনুষ্ঠিত হয়েছিল তায়েফ ও হুনায়েনের যুদ্ধ। আরবে ইসলামের পূর্ণাংগ প্রাধান্য প্রতিষ্ঠিত হতে আরো প্রায় দু’বছর সময় লেগেছিল।
এর দ্বারা মক্কা মুকাররমার বিজয় বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ যখন আপনার হাতে মক্কা মুকাররমার বিজয় লাভ হবে। অধিকাংশ তাফসীরবিদের মত অনুযায়ী এ সূরাটি মক্কা বিজয়ের কিছু পূর্বে নাযিল হয়েছিল। এতে এক দিকে তো সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে যে, মক্কা মুকাররমা বিজিত হয়ে যাবে এবং তারপর আরবের মানুষ দলে-দলে ইসলাম গ্রহণ করবে, আর বাস্তবে তাই হয়েছিল; অন্যদিকে চারদিকে ইসলাম বিস্তারের ফলে দুনিয়ায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের উদ্দেশ্য যেহেতু পূরণ হয়ে যাবে, তাই এরপর আর দুনিয়ায় তার বেশি দিন থাকার দরকার নেই, এভাবে এ সূরায় তাঁর আশু ওফাতের দিকেও ইশারা করে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং তাঁকে আদেশ করা হয়েছে, তিনি যেন আল্লাহ তাআলার হামদ ও তাসবীহতে রত হয়ে এবং তাঁর কাছে মাগফিরাত প্রার্থনা করে দুনিয়া হতে বিদায়ের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। যখন এ সূরাটি নাযিল হল, সাহাবায়ে কেরামের অনেকেই এতে প্রদত্ত সুসংবাদের কারণে খুব খুশী হলেন। কিন্তু মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চাচা এ সূরা শুনে কাঁদতে শুরু করলেন। তিনি এর কারণ বর্ণনা করলেন যে, এ সূরা দ্বারা বোঝা যাচ্ছে, দুনিয়া থেকে মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় গ্রহণের দিন কাছে এসে গেছে।
১. যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়(১)
(১) এ ব্যাপারে প্রায় সকলেই একমত যে, এখানে বিজয় বলে মক্কা বিজয় বোঝানো হয়েছে। (মুয়াস্সার, ইবন কাসীর)। আর বিজয় মানে কোন একটি সাধারণ যুদ্ধে বিজয় নয় বরং এর মানে হচ্ছে এমন একটি চুড়ান্ত বিজয় যার পরে ইসলামের সাথে সংঘর্ষ করার মতো আর কোন শক্তির অস্তিত্ব দেশের বুকে থাকবে না এবং একথাও সুস্পষ্ট হয়ে যাবে যে, বর্তমানে আরবে এ দ্বীনটিই প্রাধান্য বিস্তার করবে। (দেখুন: আদওয়াউল বায়ান)
১। যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়।