وَلَا يَحُضُّ عَلَىٰ طَعَامِ ٱلۡمِسۡكِينِ

ওয়ালা-ইয়াহুদ্দু‘আলা-তা‘আ-মিল মিছকীন।উচ্চারণ

এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ করে না। তাফহীমুল কুরআন

এবং মিসকীনকে খাদ্য দানে উৎসাহ দেয় না মুফতী তাকী উসমানী

এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্য দানে উৎসাহ প্রদান করেনা,মুজিবুর রহমান

এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহিত করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর মিসকীনকে খাদ্যদানে উৎসাহ দেয় না।আল-বায়ান

এবং মিসকীনকে অন্ন দিতে উৎসাহ দেয় নাতাইসিরুল

আর গরীব-দুঃখীকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে উৎসাহ দেখায় না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

اطَعَامِ الْمِسْكِينِ নয় বরং طَعَامِ الْمِسْكِينِ বলা হয়েছে “ইত্’আমুল মিসকিন” বললে অর্থ হতো, সে মিসকিনকে খানা খাওয়াবার ব্যাপারে উৎসাহিত করে না। কিন্তু “তাআমুল মিসকিন” বলায় এর অর্থ দাঁড়িয়েছে, “সে মিসকিনকে খানা দিতে উৎসাহিত করে না।” অন্য কথায়, মিসকিনকে যে খাবার দেয়া হয় তা দাতার খাবার নয় বরং ঐ মিসকিনেরই খাবার। তা ঐ মিসকিনের হক এবং দাতার ওপর এ হক আদায় করার দায়িত্ব বর্তায়। কাজেই দাতা এটা মিসকিনকে দান করছে না বরং তার হক আদায় করছে। সূরা আয্ যারিয়াতের ১৯ আয়াতে একথাটিই বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছেঃ وَفِي أَمْوَالِهِمْ حَقٌّ لِلسَّائِلِ وَالْمَحْرُومِ “আর তাদের ধন-সম্পদে রয়েছে ভিখারী ও বঞ্চিতদের হক।”

لَا يَحُضُّ শব্দের মানে হচ্ছে, সে নিজেকে উদ্বুদ্ধ করে না, নিজের পরিবারের লোকদেরকেও মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ করে না এবং অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করে না যে, সমাজে যেসব গরীব ও অভাবী লোক অনাহারে মারা যাচ্ছে তাদের হক আদায় করা এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য কিছু করো।

এখানে মহান আল্লাহ শুধুমাত্র দু’টি সুস্পট উদাহরণ দিয়ে আসলে আখেরাত অস্বীকার প্রবণতা মানুষের মধ্যে কোন্ ধরনের নৈতিক অসৎবৃত্তির জন্ম দেয় তা বর্ণনা করেছেন। আখেরাত না মানলে এতিমকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া এবং মিসকিনকে খাবার দিতে উদ্বুদ্ধ না করার মতো দু’টি দোষ মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়ে যায় বলে শুধুমাত্র এ দু’টি ব্যাপারে মানুষকে পাকড়াও ও সমালোচনা করাই এর আসল উদ্দেশ্য নয়। বরং এই গোমরাহীর ফলে যে অসংখ্য দোষ ও ত্রুটির জন্ম হয় তার মধ্য থেকে নমুনা স্বরূপ এমন দু’টি দোষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে প্রত্যেক সুস্থ বিবেক ও সৎ বিচার-বুদ্ধি সম্পন্ন ব্যক্তি যেগুলোকে নিকৃষ্টতম দোষ বলে মেনে নেবে। এই সঙ্গে একথাও হৃদয়পটে অংকিত করে দেয়াই উদ্দেশ্য যে, এ ব্যক্তিটিই যদি আল্লাহর সামনে নিজের উপস্থিতি ও নিজের কৃতকর্মের জবাবদিহির স্বীকৃতি দিতো, তাহলে এতিমের হক মেরে নেবার, তার ওপর জুলুম-নির্যাতন করার, তাকে ধিক্কার দেবার এবং মিসকিনকে নিজে খাবার না দেবার ও অন্যকে দিতে উদ্বুদ্ধ না করার মতো নিকৃষ্টতম কাজ সে করতো না। আখেরাত বিশ্বাসীদের গুণাবলী সূরা আসর ও সূরা বালাদে বয়ান করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছেঃ وَتَوَاصَوْا بِالْمَرْحَمَةِ আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি করুণা করার জন্য তারা পরস্পরকে উপদেশ দেয় এবং وَتَوَاصَوْا بِالْحَقِّ তারা পরস্পরকে সত্যপ্রীতি ও অধিকার আদায়ের উপদেশ দেয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ নিজে তো গরীব-দুঃখীর সাহায্য করেই না, অন্যকেও করতে উৎসাহ দেয় না।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. আর সে উদ্বুদ্ধ করে না(১) মিসকীনদের খাদ্য দানে।

(১) لَا يَحُضُّ শব্দের মানে হচ্ছে, সে নিজেকে উদ্ধৃদ্ধ করে না, নিজের পরিবারের লোকদেরকেও মিসকিনের খাবার দিতে উদ্ধৃদ্ধ করে না এবং অন্যদেরকেও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করে না যে, সমাজে যেসব গরীব ও অভাবী লোক অনাহারে মারা যাচ্ছে তাদের হক আদায় করো এবং তাদের ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য কিছু করো। কারণ তারা কৃপণ এবং আখেরাতে অবিশ্বাসী। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩। এবং সে অভাবগ্রস্তকে খাদ্যদানে উৎসাহ প্রদান করে না। (1)

(1) এ কর্মও তারাই করবে, যাদের মধ্যে উক্ত গুণসমূহ বিদ্যমান থাকবে। নচেৎ এও এতীমের মত মিসকীনদেরকেও রূঢ়ভাবে তাড়িয়ে দেবে।