ঈলা-ফিহিম রিহলাতাশশিতাই ওয়াসসাঈফ।উচ্চারণ
(অর্থাৎ) শীতের ও গ্রীষ্মের সফরে অভ্যস্ত। ২ তাফহীমুল কুরআন
অর্থাৎ তারা শীত ও গ্রীষ্মকালে (ইয়ামান ও শামে) সফর করতে অভ্যস্ত। মুফতী তাকী উসমানী
আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্ম সফরের,মুজিবুর রহমান
আসক্তির কারণে তাদের শীত ও গ্রীষ্মকালীন সফরের।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আসক্তি আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্মে সফরের ইসলামিক ফাউন্ডেশন
শীত ও গ্রীষ্মের সফরে তারা অভ্যস্ত হওয়ায়।আল-বায়ান
(অর্থাৎ) শীত ও গ্রীষ্মে তাদের বিদেশ সফরে অভ্যস্ত হওয়ার (কারণে)তাইসিরুল
শীতকালীন ও গ্রীকালীন বিদেশযাত্রায় তাদের নিরাপত্তার জন্য।মাওলানা জহুরুল হক
২
শীত ও গ্রীষ্মের সফরের মানে হচ্ছে গ্রীষ্মকালে কুরাইশরা সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের দিকে বাণিজ্য সফর করতো। কারণ এ দু’টি শীত প্রধান দেশ। আর শীতকালে সফর করতো দক্ষিণ আরবের দিকে। কারণ সেটি গ্রীষ্ম প্রধান এলাকা।
এ সূরার প্রেক্ষাপট এই যে, জাহেলী যুগে অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবের আগে আরব অঞ্চলে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ছিল না। হত্যা, লুণ্ঠন ইত্যাদি ব্যাপক আকার ধারণ করেছিল। কেউ নিরাপদে স্বাধীনভাবে সফর করতে পারত না। কেননা পথে যেমন চোর-ডাকাতের ভয় ছিল তেমনি আশঙ্কা ছিল শত্রু গোত্রের লোকে তাকে মেরে ফেলতে পারে। কিন্তু কুরাইশ গোত্র যেহেতু বাইতুল্লাহ শরীফের আশপাশে বাস করত এবং তারা এ পবিত্র ঘরের সেবা করত। তাই আরবের সমস্ত লোকই তাদেরকে সম্মান করত। তারা যখন সফর করত কেউ তাদের কোন ক্ষতি করত না। সুতরাং তারা প্রতি বছর শীতকালে শামে ও গ্রীষ্মকালে ইয়ামানে নিরাপদ বাণিজ্যিক সফর করত। তাদের আয়-রোজগার এসব সফরের উপরই নির্ভরশীল ছিল। মক্কা মুকাররমায় কোন খেত-খামার ছিল না। তা সত্ত্বেও এসব সফরের কারণে তারা সচ্ছল জীবন যাপন করত। আল্লাহ তাআলা এ সূরায় তাদেরকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, সারা আরবে তাদের যে সম্মান এবং যে কারণে তারা শীত ও গ্রীষ্মকালে নিরাপদে বাণিজ্যিক ভ্রমণ করতে পারে, এসব এই বাইতুল্লাহ শরীফেরই বরকত এবং এ ঘরের প্রতিবেশী হওয়ার কারণেই সকলে তাদেরকে বিশেষ সম্মান ও খাতির করে। সুতরাং তাদের উচিত এ ঘরের মালিক অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার ইবাদত করা ও মূর্তিপূজা পরিত্যাগ করা। কেননা এ ঘরের কারণেই তো তারা খাবার পাচ্ছে এবং এরই কারণে তারা শান্তি ও নিরাপত্তা ভোগ করছে। এর মধ্যে শিক্ষা রয়েছে যে, কোন দীনী সম্পর্কের কারণে যে ব্যক্তি দুনিয়ায় বিশেষ কোন সুবিধা ভোগ করে তার অন্যদের তুলনায় বেশি ইবাদত-বন্দেগীতে লিপ্ত থাকা উচিত।
২. তাদের আসক্তি আছে শীত ও গ্ৰীষ্মে সফরের(১)
(১) শীত ও গ্রীষ্মের সফরের অর্থ হচ্ছে গ্ৰীষ্মকালে কুরাইশরা সিরিয়া ও ফিলিস্তিনের দিকে বাণিজ্য সফর করতো। কারণ এ দু'টি শীত প্রধান দেশ। আর শীতকালে সফর করতো দক্ষিণ আরব তথা ইয়েমেনের দিকে। কারণ সেটি গ্ৰীষ্ম প্রধান এলাকা।
২। অভ্যাস আছে তাদের শীত ও গ্রীষ্ম সফরের। (1)
(1) إيلاف শব্দের অর্থ হল, স্বাভাবিক ও অভ্যাস হওয়া। অর্থাৎ, কোন কাজে কষ্ট ও বিরাগ অনুভব না হওয়া।
কুরাইশদের জীবন ধারণের একমাত্র মাধ্যম ছিল ব্যবসা-বাণিজ্য। প্রতি বছর তাদের বাণিজ্যিক কাফেলা দুইবার করে অন্য দেশে সফর করত এবং তারা সেখান থেকে ব্যবসার পণ্য নিয়ে আসত। তারা শীতকালে গরম এলাকা ইয়ামান এবং গ্রীষ্মকালে ঠান্ডা এলাকা শাম (সিরিয়া) সফর করত। কা’বাগৃহের খাদেম বলে আরববাসীরা তাদের সম্মান করত। এ জন্যই তাদের বাণিজ্যিক কাফেলা বিনা বাধা ও বিপত্তিতে সফর করত। এই সূরাতে আল্লাহ তাআলা কুরাইশদের উদ্দেশ্যে বলেছেন যে, তোমরা যে গরম ও শীতকালে দুইবার করে সফর কর, তা হল আমার এই অনুগ্রহের ফলে যে, আমি তোমাদেরকে মক্কা নগরীতে নিরাপত্তা দান করেছি এবং আরববাসীদের নিকট তোমাদেরকে সম্মানিত করেছি। যদি তা না হত, তাহলে তোমাদের সফর করা সম্ভব হত না। আর হস্তীবাহিনীকে এ জন্যই ধ্বংস করেছি, যাতে তোমাদের সম্মান-মর্যাদা বজায় থাকে এবং তোমাদের অভ্যাসগত বাণিজ্যিক সফরও অব্যাহত থাকে। যদি আবরাহার উদ্দেশ্য সফল হত, তাহলে তোমাদের মর্যাদা ও নেতৃত্ব সব খর্ব হয়ে যেত। আর সফরের যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ত। অতএব তোমাদের উচিত, কেবলমাত্র এই বাইতুল্লার (আল্লাহর ঘরের) প্রভুর উপাসনা করা।