تَنَزَّلُ ٱلۡمَلَـٰٓئِكَةُ وَٱلرُّوحُ فِيهَا بِإِذۡنِ رَبِّهِم مِّن كُلِّ أَمۡرٖ

তানাঝঝালুল মালাইকাতুওয়াররুহু ফীহা-বিইযনি রব্বিহিম মিন কুল্লি আমর।উচ্চারণ

ফেরেশতারা ও রূহ এই রাতে তাদের রবের অনুমতিক্রমে প্রত্যেকটি হুকুম নিয়ে নাযিল হয়। তাফহীমুল কুরআন

সে রাতে ফেরেশতাগণ ও রূহ প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে অবতীর্ণ হয়। মুফতী তাকী উসমানী

ঐ রাতে (মালাইকা) ফিরিশতাগণ ও রুহ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের রবের অনুমতিক্রমে।মুজিবুর রহমান

এতে প্রত্যেক কাজের জন্যে ফেরেশতাগণ ও রূহ অবতীর্ণ হয় তাদের পালনকর্তার নির্দেশক্রমে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

সেই রাত্রিতে ফিরিশতাগণ ও রূহ্ অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

সে রাতে ফেরেশতারা ও রূহ (জিবরাইল) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত নিয়ে অবতরণ করে।আল-বায়ান

এ রাতে ফেরেশতা আর রূহ তাদের রব-এর অনুমতিক্রমে প্রত্যেক কাজে অবতীর্ণ হয়।তাইসিরুল

ফিরিশ্‌তাগণ ও রূহ্ তাতে অবতীর্ণ হয় তাদের প্রভুর অনুমতিক্রমে প্রতিটি ব্যাপার সন্বন্ধে --মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

রূহ বলতে জিব্রাঈল আলাইহিস সালামকে বুঝানো হয়েছে। তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার কারণে সমস্ত ফেরেশতা থেকে আলাদা করে তাঁর উল্লেখ করা হয়েছে।

অর্থাৎ তারা নিজেদের তরফ থেকে আসে না। বরং তাদের রবের অনুমতিক্রমে আসে। আর প্রত্যেকটি হুকুম বলতে সূরা দুখানের ৫ আয়াতে “আমরে হাকীম” (বিজ্ঞতাপূর্ণ কাজ) বলতে যা বুঝানো হয়েছে এখানে তার কথাই বলা হয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এ রাতে ফেরেশতাদের পৃথিবীতে নেমে আসার দুটি উদ্দেশ্য থাকে। (এক) এ রাতে যারা ইবাদত-বন্দেগীতে মশগুল থাকে, ফেরেশতাগণ তাদের জন্য দুআ করে, যেন আল্লাহ তাআলা তাদের প্রতি রহমত বর্ষণ করেন। (দুই) দ্বিতীয় উদ্দেশ্য এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, সারা বছরে যা-কিছু ঘটবে বলে তাকদীরে ফায়সালা হয়ে আছে, আল্লাহ তাআলা এ রাতে তা ফেরেশতাদের উপর ন্যস্ত করেন, যাতে তারা যথাসময়ে তা কার্যকর করেন। ‘প্রত্যেক কাজে অবতীর্ণ হওয়া-এর এ ব্যাখ্যাই মুফাসসিরগণ করেছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

৪. সে রাতে ফিরিশতাগণ ও রূহ নাযিল হয়(১) তাদের রবের অনুমতিক্রমে সকল সিদ্ধান্ত(২) নিয়ে।

(১) الروح বলে কি বুঝানো হয়েছে মতপার্থক্য থাকলেও প্রাধান্যপ্রাপ্ত মত হলো এর দ্বারা জিবরীলকে বোঝানো হয়েছে। জিবরীল আলাইহিস সালামের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার কারণে সমস্ত ফেরেশতা থেকে আলাদা করে তার উল্লেখ করা হয়েছে। জিবরীলের সাথে ফেরেশতারাও সে রাত্ৰিতে অবতরণ করে। (ফাতহুল কাদীর) হাদীসে আছে, “লাইলাতুল-কদরের রাত্রিতে পৃথিবীতে ফেরেশতারা এত বেশী অবতরণ করে যে, তাদের সংখ্যা পাথরকুচির চেয়েও বেশী।” (মুসনাদে আহমাদ: ২/৫১৯, মুসনাদে তায়ালাসী: ২৫৪৫)

(২) সকল সিদ্ধান্ত বা প্রত্যেক হুকুম বলতে অন্যত্র বর্ণিত “আমরে হাকীম” (বিজ্ঞতাপূর্ণ কাজ) (সূরা আদ-দোখান: ৪) বলতে যা বুঝানো হয়েছে তার কথাই এখানে বলা হয়েছে। অর্থাৎ ফেরেশতাগণ শবে-কদরে সারা বছরের অবধারিত ঘটনাবলী নিয়ে পৃথিবীতে অবতরণ করে। কোন কোন তাফসীরবিদ একে سلام এর সাথে সম্পর্কযুক্ত করে এ অর্থ করেছেন যে, এ রাত্রিটি যাবতীয় অনিষ্ট ও বিপদাপদ থেকে শান্তিস্বরূপ। (ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৪। ঐ রাত্রিতে ফিরিশতাগণ ও রূহ (জিবরীল) অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। (1)

(1) এখানে ‘রূহ’ বলে জিবরীল (আঃ)-কে বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, জিবরীল (আঃ) সহ ফিরিশতাগণ এই রাতে ঐ সকল কর্ম আঞ্জাম দেওয়ার উদ্দেশ্যে পৃথিবীতে অবতরণ করেন, যা আল্লাহ এক বছরের জন্য ফায়সালা করে থাকেন।