ٱلَّذِي يُؤۡتِي مَالَهُۥ يَتَزَكَّىٰ

আল্লাযী ইউ’তী মা-লাহূইয়াতাঝাক্ক-।উচ্চারণ

তাকে তা থেকে দূরে রাখা হবে। তাফহীমুল কুরআন

যে আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য নিজ সম্পদ (আল্লাহর পথে) দান করে মুফতী তাকী উসমানী

যে স্বীয় সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির উদ্দেশে,মুজিবুর রহমান

যে আত্নশুদ্ধির জন্যে তার ধন-সম্পদ দান করে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যে স্বীয় সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্যে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে তার সম্পদ দান করে আত্ম-শুদ্ধির উদ্দেশ্যে,আল-বায়ান

যে পবিত্রতা অর্জনের উদ্দেশে নিজের ধন-সম্পদ দান করে,তাইসিরুল

যে তার ধনদেলত দান করে, আ‌ত্মশুদ্ধি করে,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এর অর্থ এই নয় যে, চরম হতভাগ্য ছাড়া আর কেউ জাহান্নামে যাবে না এবং পরম মুত্তাকী ছাড়া আর কেউ তার হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবে না। বরং দু’টি চরম পরস্পর বিরোধী চরিত্রকে পরস্পরের বিরুদ্ধে পেশ করে তাদের পরস্পর বিরোধী চরম পরিণাম বর্ণনা করাই এখানে উদ্দেশ্য। এক ব্যক্তি আল্লাহ‌ ও তাঁর রসূলের শিক্ষাকে মিথ্যা বলে এবং আনুগত্যের পথ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর দ্বিতীয় ব্যক্তি কেবল ঈমান এনেই ক্ষান্ত হয় না বরং পরম আন্তরিকতা সহকারে কোনো প্রকার লোক দেখানো প্রবণতা, নাম যশ ও খ্যাতির মোহ ছাড়াই শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে পাক-পবিত্র মানুষ হিসেবে গণ্য হবার আকাংখায় আল্লাহর পথে নিজের ধন-সম্পদ ব্যয় করে। এই দু’ধরনের চরিত্র সম্পন্ন লোক সে সময় মক্কার সমাজে সবার সামনে বর্তমান ছিল। তাই কারো নাম না নিয়ে লোকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, জাহান্নামের আগুনে দ্বিতীয় ধরনের চরিত্র সম্পন্ন লোক নয় বরং প্রথম ধরনের চরিত্র সম্পন্ন লোকই পুড়বে। আর এই আগুন থেকে প্রথম ধরনের লোক নয় বরং দ্বিতীয় ধরনের লোককেই দূরে রাখা হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার পথে তারা যা-কিছু ব্যয় করে, তাতে তাদের উদ্দেশ্য মানুষকে দেখানো নয়; বরং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টি অর্জন করাই হয়ে থাকে। এরূপ দান-খয়রাতের ফলে মানুষের আত্মশুদ্ধি লাভ হয় ও আখলাক-চরিত্র পরিশুদ্ধ হয়। কোন কোন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, এ আয়াতসমূহ হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর প্রশংসায় নাযিল হয়েছে। তিনি আল্লাহ তাআলার পথে প্রচুর অর্থ ব্যয় করতেন। অবশ্য আয়াতের শব্দাবলী সাধারণ। সুতরাং যারা আয়াতে বর্ণিত গুণাবলী অর্জন করবে, তাদের প্রত্যেকের জন্যই এর সুসংবাদ প্রযোজ্য।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৮. যে স্বীয় সম্পদ দান করে আত্মশুদ্ধির জন্য(১),

(১) এতে সৌভাগ্যশালী মুত্তাকীদের প্রতিদান বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ যে ব্যক্তি আল্লাহর তাকওয়া শক্তভাবে অবলম্বন করে এবং একমাত্র আল্লাহর পথে নিজের গোনাহ থেকে বিশুদ্ধ হওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যয় করে, তাকে জাহান্নামের আগুন থেকে দূরে রাখা হবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৮। যে আত্মশুদ্ধির জন্য তার ধন-সম্পদ দান করে। (1)

(1) অর্থাৎ, যে ব্যক্তি নিজ মাল আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ব্যয় করে; যাতে তার অন্তর ও মাল পবিত্র হয়ে যায়।