وَأَنتَ حِلُّۢ بِهَٰذَا ٱلۡبَلَدِ

ওয়া আনতা হিল্লুম বিহা-যাল বালাদ।উচ্চারণ

আর অবস্থা হচ্ছে এই যে (হে নবী!) তোমাকে এই নগরে হালাল করে নেয়া হয়েছে। তাফহীমুল কুরআন

যখন (হে নবী!) তুমি এই নগরের বাসিন্দা। মুফতী তাকী উসমানী

আর তুমি এই নগরের বৈধ অধিকারী হবে।মুজিবুর রহমান

এবং এই নগরীতে আপনার উপর কোন প্রতিবন্ধকতা নেই।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আর তুমি এই নগরের অধিবাসী, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর তুমি এই নগরীতে মুক্ত।আল-বায়ান

আর তুমি এই নগরের হালালকারী।তাইসিরুল

আর তুমি বৈধ থাকবে এই নগরীতে;মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মূলে বলা হয়েছে اَنْتَحِلُّ بِحآذَ الْبَلَدِ । মুফাসসিরগণ এর তিনটি অর্থ বর্ণনা করেছেন। এক, তুমি এই শহরে মুকীম অর্থাৎ মুসাফির নও। তোমার ‘মুকীম’ হবার কারণে এই শহরের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বে বেড়ে গেছে। দুই, যদিও এই শহরটি ‘হারম’ তবুও এমন এক সময় আসবে যখন কিছুক্ষণের জন্য এখানে যুদ্ধ করা তোমার জন্য হালাল হয়ে যাবে। তিন, এই শহরের বনের পশুদের পর্যন্ত মেরে ফেলা এবং গাছপালা পর্যন্ত কেটে ফেলা আরববাসীদের নিকট হারাম এবং সবাই এখানে নিরাপত্তা লাভ করে। কিন্তু অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে হে নবী, তোমার জন্য এখানে কোন নিরাপত্তা নেই। তোমাকে কষ্ট ও যন্ত্রনা দেয়া এবং তোমাকে হত্যা করার উপায় উদ্ভাবন করা হালাল করে নেয়া হয়েছে। যদিও এখানে ব্যবহৃত শব্দের মধ্যে তিনটি অর্থেরই অবকাশ রয়েছে তবুও পরবর্তী বিষয়বস্তু গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে বুঝা যায়, প্রথম অর্থ দু’টি এর সাথে কোন সম্পর্কই রাখে না এবং তৃতীয় অর্থটির সাথে এর মিল দেখা যায়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

‘এই নগর’ দ্বারা মক্কা মুকাররমাকে বোঝানো হয়েছে। আল্লাহ তাআলা এ নগরকে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবস্থানের কারণে এর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাঁর আবির্ভাবের জন্য এ নগরকে বাছাই করে আল্লাহ তাআলা একে মহিমান্বিত করেছেন। এ আয়াতের আরও দু’টি ব্যাখ্যা আছে। বিস্তারিত জানার জন্য ‘মাআরিফুল কুরআন’ দেখা যেতে পারে।

তাফসীরে জাকারিয়া

২. আর আপনি এ নগরের অধিবাসী(১),

(১) حِلٌّ শব্দের দুটি অর্থ হতে পারে (এক) এটা حلول থেকে উদ্ভূত। অর্থ কোন কিছুতে অবস্থান নেয়া, থাকা ও অবতরণ করা। সে হিসেবে আয়াতের মর্মার্থ এই যে, মক্কা নগরী নিজেও সম্মানিত ও পবিত্র, বিশেষত আপনিও এ নগরীতে বসবাস করেন। বসবাসকারীর শ্রেষ্ঠত্বের দরুনও বাসস্থানের শ্রেষ্ঠত্ব বেড়ে যায়। কাজেই আপনার বসবাসের কারণে এ নগরীর মাহাত্ম্য ও সম্মান দ্বিগুণ হয়ে গেছে। (ফাতহুল কাদীর) (দুই) এটা حلال থেকে উদ্ভূত। অর্থ হালাল হওয়া। এদিক দিয়ে এক অর্থ এই যে, আপনাকে মক্কার কাফেররা হালাল মনে করে রেখেছে এবং আপনাকে হত্যা করার ফিকিরে রয়েছে; অথচ তারা নিজেরাও মক্কা নগরীতে কোন শিকারকেই হালাল মনে করে না।

এমতাবস্থায় তাদের যুলুম ও অবাধ্যতা কতটুকু যে, তারা আল্লাহর রাসূলের হত্যাকে হালাল মনে করে নিয়েছে। অপর অর্থ এই যে, আপনার জন্যে মক্কার হারামে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হালাল করে দেওয়া হবে। (ইবন কাসীর) বস্তুত মক্কা বিজয়ের সময় একদিনের জন্যেই তাই করা হয়েছিল। আনাস ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মক্কা বিজয়ের দিন মাথায় শিরস্ত্ৰাণ পরিধান করে মক্কায় প্রবেশ করলেন, তারপর যখন তিনি তা খুললেন, এক লোক এসে তাকে বলল যে, ইবনে খাতল কা’বার পর্দা ধরে আছে। তিনি বললেন, ‘তাকে হত্যা করা। (বুখারী: ১৮৪৬, মুসলিম: ৪৫০) কারণ, পূর্ব থেকেই তার মৃত্যুদণ্ডের ঘোষণা রাসূল দিয়েছিলেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২। আর তুমি এই নগরের অধিবাসী (বা বৈধতার অধিকারী হবে)।(1)

(1) এতে সেই সময়কার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে যখন মক্কা বিজয় হয়। সে সময় আল্লাহ তাআলা হারাম শহরে নবী (সাঃ) এর জন্য লড়াই-ঝগড়া বৈধ করে দিয়েছিলেন। অথচ সেখানে ঝগড়া-লড়ায়ের কোন প্রকার অনুমতি নেই। কেননা, হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘এই শহরকে আল্লাহ সেই সময় থেকে হারাম (নিষিদ্ধ ঘোষণা) করেছেন, যে সময়ে তিনি আকাশ-পৃথিবীকে সৃষ্টি করেছেন। অতএব আল্লাহর এই হারাম-এর বিধান কিয়ামত পর্যন্ত বজায় থাকবে। এই স্থানের গাছ কাটা যাবে না এবং কাঁটা তুলে ফেলা হবে না। তবে আমার জন্য মাত্র দিনের কিছু সময়ের জন্য তা হালাল করা হয়েছিল। পুনরায় আজ সেই নিষেধাজ্ঞা ফিরে এল যেমন গতকাল ছিল। এবার কেউ যদি যুদ্ধ করার ব্যাপারে আমার যুদ্ধকে দলীলরূপে পেশ করে তাহলে তাকে বল, আল্লাহ তো তাঁর রসূল (সাঃ)-কে ক্ষণেকের জন্য এই অনুমতি দিয়েছিলেন। তোমাকে তো এ অনুমতি দেওয়া হয়নি।’’ (সহীহ বুখারী শিক্ষা অধ্যায়, মুসলিম হজ্জ অধ্যায়, মক্কার হারাম পরিচ্ছেদ) এই কথা খেয়াল করে আয়াতের অর্থ হবেঃ ‘‘আর তুমি (ভবিষ্যতে) এই নগরের বৈধতার অধিকারী হবে।’’ কিছু উলামা এর অর্থ করেছেনঃ ‘‘আর তুমি এই নগরের অধিবাসী।’’ কিন্তু ইমাম শওকানী বলেন, এই অর্থ তখন সঠিক হবে, যখন আরবী ভাষায় এ কথা প্রমাণিত হবে যে, حِلّ বাস করার অর্থেও ব্যবহার হয়ে থাকে। আর এ আয়াতটি বাগধারার মাঝে পৃথক বাক্য হিসাবে ব্যবহূত হয়েছে।