كَلَّاۖ بَل لَّا تُكۡرِمُونَ ٱلۡيَتِيمَ

কাল্লা-বাল্লা-তুকরিমূনাল ইয়াতীম।উচ্চারণ

কখনোই নয়, ১০ বরং তোমরা এতিমের সাথে সম্মানজনক ব্যবহার কর না ১১ তাফহীমুল কুরআন

কখনও এরূপ সমীচীন নয়। (কেবল এতটুকুই নয়;) বরং তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান করো না।মুফতী তাকী উসমানী

না, কখনই নয়। বস্তুতঃ তোমরা ইয়াতীমদেরকে সম্মান করনা।মুজিবুর রহমান

এটা অমূলক, বরং তোমরা এতীমকে সম্মান কর না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

না, কখনও নয়। বরং তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান কর না, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনো নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমদের দয়া-অনুগ্রহ প্রদর্শন কর না।আল-বায়ান

না (রিযক) কক্ষনো (মান-সম্মানের মানদন্ড) নয়, বরং তোমরা ইয়াতীমের প্রতি সম্মানজনক আচরণ কর না,তাইসিরুল

না, বস্তুত তোমরা এতীমকে সম্মান কর না,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০

অর্থাৎ এটি কখনই মর্যাদা ও লাঞ্ছনার মানদণ্ড নয়। তোমরা মস্তবড় ভুল করছো। একে সৎ চারিত্রিক মনোবৃত্তি ও অসৎ চারিত্রিক মনোবৃত্তির পরিবর্তে তোমরা মর্যাদা ও লাঞ্ছনার মানদণ্ড বানিয়ে রেখেছো।

১১

অর্থাৎ তার বাপ জীবিত থাকাকালে তার সাথে তোমরা এক ধরনের ব্যবহার করো। আর তার বাপ মারা যাবার সাথে সাথেই প্রতিবেশী ও দূরের আত্মীয়দের তো কথাই নেই, চাচা, মামা এমনকি বড় ভাই পর্যন্ত তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

আল্লাহ তাআলা জীবিকা বণ্টন করেছেন নিজ হেকমত অনুযায়ী। কাজেই জীবিকায় সংকীর্ণতা দেখা দিলে তাকে নিজের জন্য লাঞ্ছনাকর মনে করা ঠিক নয় এবং জীবিকায় সমৃদ্ধি ঘটলে তাকে নিজের জন্য সম্মানের বিষয় ভাবাও উচিত নয়। দুনিয়ায় কত বদকার আছে, যারা প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক! বস্তুত উভয় অবস্থা দ্বারাই আল্লাহ তাআলা মানুষকে পরীক্ষা করে থাকেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৭. কখনো নয়।(১) বরং(২) তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান কর না,

(১) পূর্ববর্তী ধারণা খণ্ডানোর জন্যই মহান আল্লাহ্ এ আয়াতে বলছেন যে, তোমাদের পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত ধারণাসমূহ সম্পূর্ণ ভ্ৰান্ত ও ভিত্তিহীন। দুনিয়াতে জীবনোপকরণের স্বাচ্ছন্দ সৎ ও আল্লাহর প্ৰিয়পাত্র হওয়ার আলামত নয়, তেমনি অভাব-অনটন ও দারিদ্র প্রত্যাখ্যাত ও লাঞ্ছিত হওয়ার দলীল নয়। বরং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যাপার সম্পূর্ণ উল্টো হয়ে থাকে। কোন কোন নবী-রাসূল কঠিন কষ্ট ভোগ করেছেন আবার কোনও কোনও আল্লাহদ্রোহী আরাম-আয়েশ্যে জীবন অতিবাহিত করে দিয়েছেন। (দেখুন: ইবন কাসীর)

(২) এখানে কাফের ও তাদের অনুসারী ফাসিকদের কয়েকটি মন্দ অভ্যাস সম্পর্কে সাবধান করা হচ্ছে। প্রথমেই বলা হয়েছে যে, তোমরা ইয়াতীমকে সম্মান কর না। এখানে আসলে বলার উদ্দেশ্য এই যে, তোমরা ইয়াতীমদের প্রাপ্য আদায় কর না এবং তাদের প্রয়োজনীয় ব্যয়ভার গ্রহণ করো না। (ফাতহুল কাদীর) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “জন্নাতে আমি ও ইয়াতীমের তত্ত্বাবধানকারী এভাবে থাকবে” এটা বলে তিনি তার মধ্যমা ও তর্জনী আংগুলদ্বয় একসাথ করে দেখালেন। (বুখারী: ৬০০৫)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১৭। না, কখনই নয়। (1) বস্তুতঃ তোমরা পিতৃহীনকে সমাদর কর না। (2)

(1) অর্থাৎ, ব্যাপার এমন নয়, যেমন লোকেরা ধারণা করে থাকে। আল্লাহ তাআলা মাল-ধন নিজ প্রিয় বান্দাদেরকে দান করে থাকেন এবং অপ্রিয় বান্দাদেরকেও। আবার তাদের উভয়কে সংকীর্ণতাতেও ফেলে থাকেন। উভয় অবস্থাতেই আল্লাহর আনুগত্য জরুরী। অতএব বান্দার উচিত, তিনি মাল-ধন দান করলে তাঁর কৃতজ্ঞতা করা এবং সংকীর্ণতা দিলে ধৈর্য ধারণ করা।

(2) অর্থাৎ, তাদের সাথে সেই সুন্দর আচরণ করা হয় না, যা তাদের প্রাপ্য। নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘সেই গৃহ সব থেকে উত্তম যে গৃহে অনাথের সাথে ভাল ব্যবহার করা হয়। আর সব থেকে খারাপ গৃহ সেটা, যে গৃহে অনাথের সাথে মন্দ ব্যববহার করা হয়।’’ অতঃপর তিনি (সাঃ) নিজ (তর্জনী ও মধ্যমা) আঙ্গুল দ্বারা ইঙ্গিত করে বললেন, ‘‘আমি এবং অনাথের তত্ত্বাবধানকারী জান্নাতে এইভাবে পাশাপাশি অবস্থান করব; যেমন এই দুটি আঙ্গুল মিলিত আছে।’’(আবু দাউদ আদব অধ্যায়, অনাথকে শামিল করার পরিচ্ছেদ) (প্রকাশ থাকে যে, এ হাদীসের প্রথমাংশ আবূ দাঊদে নেই এবং সেটা যয়ীফও। অবশ্য শেষাংটি আবূ দাঊদ তথা বুখারী শরীফেও আছে। -সম্পাদক)