وَٱلشَّفۡعِ وَٱلۡوَتۡرِ

ওয়াশশাফা‘ই ওয়াল ওয়াতর ।উচ্চারণ

জোড় ও বেজোড়ের তাফহীমুল কুরআন

এবং জোড় ও বেজোড়ের মুফতী তাকী উসমানী

শপথ জোড় ও বেজোড়ের,মুজিবুর রহমান

যা জোড় ও যা বিজোড়মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শপথ জোড় ও বেজোড়ের ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কসম জোড় ও বিজোড়ের।আল-বায়ান

জোড় ও বেজোড়ের শপথ,তাইসিরুল

আর জোড়ের ও বেজোড়ের কথা,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ যখন রাতের অবসান শুরু হয়ে যায়। এসব দিন ও রাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করার তাৎপর্য সম্ভবত এই যে, আরবের কাফেরগণও এগুলোর মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন ছিল। এটা তো জানা কথা যে, এগুলোর এ মর্যাদা আপনা-আপনিই সৃষ্টি হয়ে যায়নি। বরং আল্লাহ তাআলাই দান করেছেন। সে হিসেবে এসব দিন ও রাত আল্লাহ তাআলার কুদরত ও হেকমতের প্রমাণ বহন করে আর তাঁর সেই কুদরত ও হেকমতেরই দাবি হল নেককার ও বদকারের সাথে একই রকম ব্যবহার না করা; বরং যারা নেককার তাদেরকে পুরস্কৃত করা এবং যারা বদকার তাদেরকে শাস্তি দেওয়া। সুতরাং এ সূরায় এ দুটি বিষয়ই অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও অলঙ্কারপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. শপথ জোড় ও বেজোড়ের(১)

(১) এ দুটি শব্দের আভিধানিক অর্থ যথাক্রমে ‘জোড়’ ও ‘বিজোড়'। এই জোড় ও বিজোড় বলে আসলে কি বোঝানো হয়েছে, আয়াত থেকে নির্দিষ্টভাবে তা জানা যায় না। তাই এ ব্যাপারে তাফসীরকারগণের উক্তি অসংখ্য। কিন্তু জাবের রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু বর্ণিত হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “বেজোড় এর অর্থ আরাফা দিবস (যিলহজ্বের নবম তারিখ) এবং জোড় এর অর্থ ইয়াওমুন্নাহর (যিলহজ্বের দশম তারিখ)”। (মুসনাদে আহমাদ: ৩/৩২৭) কোন কোন তাফসীরবিদ বলেন, জোড় বলে যাবতীয় সালাত আর বেজোড় বলে বিতর ও মাগরিবের সালাত বোঝানো হয়েছে। কোন কোন তাফসীরবিদ বলেন, জোড় বলে সমগ্র সৃষ্টজগৎ বোঝানো হয়েছে। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা সমস্ত সৃষ্টিকে জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছেন। তিনি বলেন, (وَخَلَقْنَاكُمْ أَزْوَاجًا) অর্থাৎ আমি সবকিছু জোড়ায় জোড়ায় সৃষ্টি করেছি। (সূরা আন-নাবা: ৮) যথা: কুফর ও ঈমান, সৌভাগ্য ও দুর্ভাগ্য, আলো ও অন্ধকার, রাত্রি ও দিন, শীত-গ্ৰীষ্ম, আকাশ ও পৃথিবী, জিন ও মানব এবং নর ও নারী। এগুলোর বিপরীতে বিজোড় একমাত্র আল্লাহ্ তা'আলার সত্তা। (ইবন কাসীর; ফাতহুল কাদীর) তবে যেহেতু জাবের রাদিয়াল্লাহু আনহু বৰ্ণিত হাদীসে এর একটি তাফসীর এসেছে সেহেতু সে তাফসীরটি বেশী অগ্রগণ্য।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩। শপথ জোড় ও বেজোড়ের। (1)

(1) এর দ্বারা জোড় এবং বিজোড় সংখ্যা অথবা জোড় এবং বিজোড় সংখ্যক বস্তুকে বুঝানো হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, আসলে এটা সৃষ্টির কসম। এই জন্য যে, সৃষ্টি জোড় অথবা বিজোড় হয়; অন্য কিছু নয়। (আয়সারুত তাফাসীর)