يَوۡمَ تُبۡلَى ٱلسَّرَآئِرُ

ইয়াওমা তুবলাছ ছারইর।উচ্চারণ

যেদিন গোপন রহস্যের যাচাই বাছাই হবে, তাফহীমুল কুরআন

যে দিন সমস্ত গোপনীয় বিষয়ের যাচাই-বাছাই হবে। মুফতী তাকী উসমানী

যেদিন গোপন বিষয়সমূহ পরীক্ষা করা হবে –মুজিবুর রহমান

যেদিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষিত হবে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

যেই দিন গোপন বিষয় পরীক্ষিত হবে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যে দিন গোপন বিষয়াদি পরীক্ষা করা হবে।আল-বায়ান

যেদিন (কাজকর্ম আকীদা বিশ্বাস ও নিয়্যাত সম্পর্কিত) গোপন বিষয়াদি যাচাই পরখ করা হবে।তাইসিরুল

সেইদিন লুকোনো সব-কিছুকে প্রকাশ করা হবে;মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

গোপন রহস্য বলতে এখানে প্রত্যেক ব্যক্তির এমনসব কাজ বুঝানো হয়েছে যেগুলো রহস্যাবৃত্ত রয়ে গেছে আবার এমন সব কাজও বুঝানো হয়েছে, যেগুলো বাহ্যিক আকৃতিতে জন সমক্ষে এসে গেছে কিন্তু সেগুলোর পেছনে সক্রিয় নিয়ত, উদ্দেশ্য স্বার্থ ও আশা-আকাঙ্খা এবং সেগুলোর গোপন কার্যকারণ লোক চক্ষুর অন্তরালে থেকে গেছে। কিয়ামতের দিন এসব কিছু উন্মুক্ত হয়ে সামনে এসে যাবে। সেদিন কেবলমাত্র কে কি করেছে এর তদন্ত ও হিসেব-নিকেশ হবে না বরং কি কারণে, কি উদ্দেশ্য, কি নিয়তে ও কোন মানসিকতায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এ কাজ করেছিল তারও হিসেব হবে। অনুরূপভাবে এক ব্যক্তি যে কাজটি করেছে দুনিয়ায় তার কি প্রভাব পড়েছে, কোথায় তার প্রভাব পৌঁছেছে এবং কতদিন পর্যন্ত এ প্রভাব অব্যাহত থেকেছে--- তাও সারা দুনিয়ার চোখ থেকে গোপন থেকেছে, এমনকি যে ব্যক্তি এ কাজটি করেছে তার চোখ থেকেও। আর একটি রহস্যও শুধুমাত্র কিয়ামতের দিনেই উন্মুক্ত হবে এবং সেদিন এর পুরোপুরি তদন্ত ও হিসেব-নিকেশ হবে। সেটি হচ্ছে, এক ব্যক্তি দুনিয়ায় যে বীজ বপন করে গিয়েছিল তার ফসল কতখানি পর্যন্ত কোন্ কোন্ পদ্ধতিতে সে এবং তার সাথে আর কে কে কাটতে থেকেছে?

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ মানুষের অন্তরস্থ হক-নাহক বিশ্বাস, নিয়তের শুদ্ধাশুদ্ধি এবং সর্বপ্রকার গুপ্ত কথা ও কাজ প্রকাশ করে দেওয়া হবে এবং ভালো ও মন্দকে পৃথক করে ফেলা হবে। -অনুবাদক

তাফসীরে জাকারিয়া

৯. যেদিন গোপন বিষয় পরীক্ষিত হবে(১)

(১) গোপন রহস্য বলতে মানুষের যেসব বিশ্বাস ও সংকল্প অন্তরে লুক্কায়িত ছিল, দুনিয়াতে কেউ জানত না এবং যেসব কাজকর্ম সে গোপনে করেছিল, কেয়ামতের দিন সে সবগুলোই পরীক্ষিত হবে বা প্ৰকাশ করে দেয়া হবে। অর্থাৎ তাদের আমলনামা পেশ করা হবে, আর তখন ভাল-মন্দ, উত্তম-অনুত্তম সবই স্পষ্ট হয়ে যাবে। (ফাতহুল কাদীর) আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “কেয়ামতের দিন প্রত্যেক গাদ্দারের পিছনে একটি পতাকা লাগানো হবে যাতে থাকবে, এটা অমুকের পুত্ৰ অমুকের গাদ্দারী।” (বুখারী: ৬১৭৮, মুসলিম: ১৭৩৫) সুতরাং সেদিন মানুষের সব গোপন ভেদ খুলে যাবে। প্রত্যেক ভাল-মন্দ বিশ্বাস ও কর্মের আলামত মানুষের মুখমণ্ডলে শোভা পাবে।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৯। যেদিন গোপন বিষয়সমূহ পরীক্ষিত হবে। (1)

(1) অর্থাৎ, প্রকাশ পেয়ে যাবে। কেননা, তার উপরেই প্রতিদান ও শাস্তি দেওয়া হবে। বরং হাদীসে এসেছে যে, ‘‘প্রত্যেক বিশ্বাসঘাতকের পাছায় পতাকা গেড়ে দেওয়া হবে এবং ঘোষণা করা হবে, এই হল অমুকের বেটা অমুকের বিশ্বাসঘাতকতা।’’ (সহীহ বুখারী জিযিয়া অধ্যায় বিশ্বাসঘাতকের পাপ পরিচ্ছেদ, মুসলিম জিহাদ অধ্যায় বিশ্বাসঘাতকতা হারাম পরিচ্ছেদ) মোট কথা এই যে, কারো কোন আমল গোপন থাকবে না সেদিন।