يَـٰٓأَيُّهَا ٱلۡإِنسَٰنُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَىٰ رَبِّكَ كَدۡحٗا فَمُلَٰقِيهِ

ইয়াআইয়ুহাল ইনছা-নুইন্নাকা ক-দিহুন ইলা-রব্বিকা কাদহান ফামুলা-কীহ।উচ্চারণ

হে মানুষ! তুমি কঠোর পরিশ্রম করতে করতে তোমার রবের দিকে এগিয়ে যাচ্ছো, পরে তাঁর সাথে সাক্ষাত করবে। তাফহীমুল কুরআন

হে মানুষ! তুমি নিজ প্রতিপালকের কাছে না পৌঁছা পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিশ্রম করে যাবে, পরিশেষে তুমি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাত করবে। মুফতী তাকী উসমানী

হে মানবসকল! তোমরা কঠোর পরিশ্রম করতে থাক, তোমাদের আমাল অনুযায়ী তোমাদের রবের সাক্ষাত লাভ করবে, আর এটাতো অবশ্যম্ভাবি।মুজিবুর রহমান

হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

হে মানুষ! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছা পর্যন্ত কঠোর সাধনা করে থাক, পরে তুমি তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

হে মানুষ, তোমার রব পর্যন্ত (পৌঁছতে) অবশ্যই তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে।আল-বায়ান

হে মানুষ! তোমাকে তোমার রব পর্যন্ত পৌঁছতে বহু কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তুমি তার সাক্ষাৎ লাভ করবে।তাইসিরুল

ওহে মানব! নিশ্চয় তোমার প্রভুর তরফে তোমাকে প্রচেষ্টা চালাতে হবে বিশেষ উদ্যমে, তাহলে তুমি তাঁর সাক্ষাৎ পাবে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

অর্থাৎ দুনিয়ায় তুমি যা কিছু কষ্ট সাধনা প্রচেষ্টা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছ, সে সম্পর্কে তুমি মনে করতে পারো যে, তা কেবল দুনিয়ার জীবন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ এবং দুনিয়াবী স্বার্থ লাভ করাই তার উদ্দেশ্য। কিন্তু আসলে তুমি সচেতন বা অচেতনভাবে নিজের রবের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছো এবং অবশেষে তোমাকে তাঁর কাছেই পৌঁছতে হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

মানুষের গোটা আয়ুই কোনও না কোন শ্রমে ব্যয় করা হয়ে থাকে। যারা নেককার তারা আল্লাহ তাআলার আদেশ-নিষেধ পালনে শ্রম ব্যয় করে আর যারা দুনিয়াদার, তারা কেবল পার্থিব সুযোগ-সুবিধা লাভের পেছনে চেষ্টারত থাকে। এভাবে প্রতিটি মানুষই আপন-আপন পথে পরিশ্রম করতে থাকে। পরিশেষে সকলেই আল্লাহ তাআলার কাছে পৌঁছে যায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. হে মানুষ! তুমি তোমার রবের কাছে পৌছা পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, অতঃপর তুমি তাঁর সাক্ষাত লাভ করবে।(১)

(১) كدح এর অর্থ কোন কাজে পূর্ণ চেষ্টা ও শক্তি ব্যয় করা। (ফাতহুল কাদীর) মানুষের প্রত্যেক চেষ্টা ও অধ্যবসায় আল্লাহর দিকে চূড়ান্ত হবে। অর্থাৎ মানুষ দুনিয়ায় যা কিছু কষ্ট-সাধনা প্ৰচেষ্টা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে সে সম্পর্কে সে মনে করতে পারে যে তা কেবল দুনিয়ার জীবন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ এবং দুনিয়াবী স্বাৰ্থ লাভ করাই এর উদ্দেশ্য। কিন্তু আসলে সে সচেতন বা অচেতনভাবে নিজের রবের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছে এবং অবশেষে তাকে তার কাছেই পৌছতে হবে। মানুষ এখানে যে চেষ্টা-চরিত্র করছে, পরিশেষে তার পালনকর্তার কাছে পৌছে এর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে এবং এর শুভ অথবা অশুভ পরিণতি সামনে এসে যাবে। অথবা এর অর্থ প্রত্যেক মানুষ আখেরাতে তার পালনকর্তার সাথে সাক্ষাৎ করবে এবং হিসাবের জন্যে তার সামনে উপস্থিত হবে। (দেখুন: কুরতুবী)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত করতে চায়, আল্লাহও তার সাক্ষাত করতে পছন্দ করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাত করতে চায় না, আল্লাহও তার সাথে সাক্ষাত করতে অপছন্দ করেন।” আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা (অথবা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অন্য কোন স্ত্রী) বলেন, “আমরা তো মৃত্যুকে অপছন্দ করি।” রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “তা নয়। কিন্তু মুমিন ব্যক্তির যখন মৃত্যু ঘণিয়ে আসে, তখন তাকে আল্লাহ তা'আলার সস্তুষ্টি ও সম্মানের সুসংবাদ দেওয়া হয়। তখন তার কাছে মৃত্যু অপেক্ষা অন্য কিছু প্রিয় হতে পারে না। এভাবে সে আল্লাহর সাক্ষাত করতে পছন্দ করে, তাই আল্লাহ্ তা'আলাও তার সাথে সাক্ষাত করতে পছন্দ করেন। আর কাফির ব্যক্তিকে মৃত্যুর সময় আল্লাহর আযাব ও শাস্তির সংবাদ দেওয়া হয়, তখন মৃত্যু অপেক্ষা অপ্রিয় আর কিছু থাকে না। সে আল্লাহর সাক্ষাত অপছন্দ করে বিধায় আল্লাহ্ তা'আলা তার সাথে সাক্ষাত অপছন্দ করেন”। (বুখারী: ৬৫০৭, মুসলিম: ২৬৮৩)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৬। হে মানব! তুমি তোমার প্রতিপালকের নিকট পৌঁছানো পর্যন্ত যে কঠোর সাধনা করে থাকো তা তুমি দেখতে পাবে।(1)

(1) এখানে ‘মানব’ শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহূত হয়েছে। যাতে মু’মিন এবং কাফের উভয় শামিল। كدح কঠোর সাধনা বা পরিশ্রম করাকে বলা হয়; চাহে সে সাধনা বা পরিশ্রম ভালো কাজের জন্য হোক অথবা মন্দ কাজের জন্য। উদ্দেশ্য হল যে, যখন উল্লিখিত বস্তুসমূহ প্রকাশ পাবে; অর্থাৎ কিয়ামত আসবে তখন হে মানুষ! তুমি ভাল-মন্দ যা করেছ তা নিজ সম্মুখে দেখতে পাবে এবং সেই অনুযায়ী তোমাকে ভাল-মন্দ বদলা দেওয়া হবে। সামনে এর বিস্তারিত বর্ণনা আসছে।