وَإِذَا ٱلۡأَرۡضُ مُدَّتۡ

ওয়া ইযাল আরদুমুদ্দাত।উচ্চারণ

আর পৃথিবীকে যখন ছড়িয়ে দেয়া হবে। তাফহীমুল কুরআন

এবং পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হবে। মুফতী তাকী উসমানী

এবং পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হবে,মুজিবুর রহমান

এবং যখন পৃথিবীকে সম্প্রসারিত করা হবে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এবং পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর যখন যমীনকে সম্প্রসারিত করা হবে।আল-বায়ান

এবং যমীনকে যখন প্রসারিত করা হবে,তাইসিরুল

আর যখন পৃথিবীকে সমতল করা হবে,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

পৃথিবীকে ছড়িয়ে দেবার মানে হচ্ছে, সাগর, নদী ও সমস্ত জলাশয় ভরে দেয়া হবে। পাহাড়গুলো চূর্ণবিচূর্ণ করে চারদিকে ছড়িয়ে দেয়া হবে। পৃথিবীর সমস্ত উঁচু নীচু জায়গা সমান করে সমগ্র পৃথিবীটাকে একটি সমতল প্রান্তরে পরিণত করা হবে। সূরা ত্বা-হা’য় এই অবস্থাটিকে নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছেঃ মহান আল্লাহ “তাকে একটি সমতল প্রান্তরে পরিণত করে দেবেন। সেখানে তোমরা কোন উঁচু জায়গা ও ভাঁজ দেখতে পাবে না।” (১০৬-১০৭ আয়াত) হাকেম মুস্তাদ্রা নির্ভরযোগ্য সনদ সহকারে হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) এর বরাত দিয়ে একটি হাদীস উদ্ধৃত করেছেন। তাতে রসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন পৃথিবীকে একটি দস্তরখানের মতো খুলে বিছিয়ে দেয়া হবে। তারপর মানুষের জন্য সেখানে কেবলমাত্র পা রাখার জায়গাই থাকবে।” একথাটি ভালোভাবে বুঝে নেয়ার জন্য এ বিষয়টিও সামনে রাখতে হবে যে, সেদিন সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষের জন্ম হয়েছে ও হবে সবাইকে একই সঙ্গে জীবিত করে আল্লাহর আদালতে পেশ করা হবে। এ বিরাট জনগোষ্ঠীকে এক জায়গায় দাঁড় করাবার জন্য সমস্ত সাগর, নদী, জলাশয়, পাহাড়, পর্বত, উপত্যকা, মালভূমি, তথা উঁচু-নীচু সব জায়গা ভেঙে-চুরে ভরাট করে সারা দুনিয়াটাকে একটি বিস্তীর্ণ প্রান্তরে পরিণত করা হবে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বিভিন্ন বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, কিয়ামতে পৃথিবীকে রবারের মত টেনে বর্তমান পরিমাণ থেকে অনেক বড় করে ফেলা হবে, যাতে তাতে আগের ও পরের সমস্ত মানুষের স্থান সঙ্কুলান হতে পারে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৩. আর যখন যমীনকে সম্প্রসারিত করা হবে।(১)

(১) مُدَّتْ এর অর্থ টেনে লম্বা করা, ছড়িয়ে দেয়া। (ইবন কাসীর) পৃথিবীকে ছড়িয়ে দেবার মানে হচ্ছে, সাগর নদী ও সমস্ত জলাশয় ভরে দেয়া হবে। পাহাড়গুলো চুৰ্ণবিচূর্ণ করে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয়া হবে। পৃথিবীর সমস্ত উঁচু নীচু জায়গা সমান করে সমগ্ৰ পৃথিবীটাকে একটি সমতল প্রান্তরে পরিণত করা হবে। কুরআনের অন্যত্র এই অবস্থাটিকে নিম্নোক্তভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, মহান আল্লাহ “তাকে একটা সমতল প্রান্তরে পরিণত করে দেবেন। সেখানে তোমরা কোন উচু জায়গা ও ভাঁজ দেখতে পাবে। না।” (সূরা ত্ব-হা: ১০৬–১০৭) হাদীসে এসেছে, ‘কেয়ামতের দিন পৃথিবীকে চামড়ার ন্যায় টেনে সম্প্রসারিত করা হবে। তারপর মানুষের জন্য সেখানে কেবলমাত্র পা রাখার জায়গাই থাকবে।” (মুস্তাদরাকে হাকিম: ৪/৫৭১)

একথাটি ভালোভাবে বুঝে নেয়ার জন্য এ বিষয়টিও সামনে রাখতে হবে যে, সেদিন সৃষ্টির প্রথম দিন থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত যত মানুষের জন্ম হয়েছে ও হবে সবাইকে একই সংগে জীবিত করে আল্লাহর আদালতে পেশ করা হবে। এ বিরাট জনগোষ্ঠীকে এক জায়গায় দাঁড় করাবার জন্য সমস্ত সাগর, নদী, জলাশয়, পাহাড়, পর্বত, উপত্যকা, মালভূমি, তথা উঁচু-নীচু সব জায়গা ভেঙ্গে-চুরে ভরাট করে সারা দুনিয়াটাকে একটি বিস্তীর্ণ প্রান্তরে পরিণত করা হবে। (দেখুন: ফাতহুল কাদীর; সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

৩। এবং পৃথিবীকে যখন সম্প্রসারিত করা হবে। (1)

(1) অর্থাৎ, পৃথিবীকে অধিকভাবে লম্বা-চওড়া করে দেওয়া হবে। অথবা উদ্দেশ্য এটা যে, তার উপরে যে পাহাড় ইত্যাদি রয়েছে সমস্তকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে তাকে পরিষ্কার-পরিছন্ন এবং সমতল করে বিছিয়ে দেওয়া হবে। তাতে কোন রকমের উঁচু-নিচু থাকবে না।