ثُمَّ ٱلسَّبِيلَ يَسَّرَهُۥ

ছু ম্মাছ ছাবীলা ইয়াছছরহ।উচ্চারণ

পরে তার তকদীর নির্দিষ্ট করেছেন, ১২ তারপর তার জন্য জীবনের পথ সহজ করেছেন ১৩ তাফহীমুল কুরআন

অতঃপর তার জন্য পথ সহজ করে দিয়েছেন। মুফতী তাকী উসমানী

অতঃপর তার জন্য পথ সহজ করে দেন;মুজিবুর রহমান

অতঃপর তার পথ সহজ করেছেন,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরপর এর জন্যে পথ সহজ করে দেন; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারপর তিনি তার পথ সহজ করে দিয়েছেন।আল-বায়ান

অতঃপর তিনি (উপায়-উপকরণ ও প্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে জীবনে চলার জন্য) তার পথ সহজ করে দিয়েছেন।তাইসিরুল

তারপর তার জন্য পথ সহজ করে দিয়েছেন,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২

অর্থাৎ সে মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় তার তকদীর নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়েছে। সে কোন্ লিংগের হবে? তার গায়ের রং কি হবে? সে কতটুকু উঁচু হবে? তার দেহ কতটুকু কি পরিমাণ মোটা ও পরিপুষ্ট হবে? তার অংগ-প্রত্যংগগুলো কতটুকু নিখুঁত ও অসস্পূর্ণ হবে? তার চেহারা সুরাত ও কণ্ঠস্বর কেমন হবে? তার শারীরিক বল কতটুকু হবে? তার বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা কতটুকু হবে? কোন্ দেশে, পরিবারে এবং কোন্ অবস্থায় ও পরিবেশে সে জন্মগ্রহণ করবে, লালিত-পালিত হবে এবং শেষ পর্যন্ত কি হয়ে গড়ে উঠবে? তার ব্যক্তিত্ব গঠনে বংশ ও পরিবারের প্রভাব, পরিবেশের প্রভাব এবং তার নিজের ব্যক্তিসত্তা ও অহমের প্রভাব কি পর্যায়ে ও কতটুকু থাকবে? দুনিয়ার জীবনে সে কী ভূমিকা পালন করবে? পৃথিবীতে কাজ করার জন্য তাকে কতটুকু সময় দেয়া হবে? এই তকদীর থেকে এক চুল পরিমাণ সরে আসার ক্ষমতাও তার নেই। এর মধ্যে সামান্যতম পরিবর্তনও সে করতে পারবে না। এত সব সত্ত্বেও তার একি দুঃসাহস, যে স্রষ্টার তৈরি করা তকদীরের সামনে সে এতই অসহায়, তার মোকাবেলায় সে কুফরী করে ফিরছে।

১৩

অর্থাৎ দুনিয়ায় তার জীবন যাপনের সমস্ত উপকরণ সরবরাহ করেছেন। নয়তো স্রষ্টা যদি তার এই শক্তিগুলো ব্যবহার করার মতো এসব উপায় উপকরণ পৃথিবীতে সরবরাহ না করতেন তাহলে তার দেহ ও মস্তিস্কের সমস্ত শক্তি ব্যর্থ প্রমাণিত হতো। এছাড়াও স্রষ্টা তাকে এ সুযোগও দিয়েছেন যে, সে নিজের জন্য ভালো বা মন্দ, কৃতজ্ঞতা বা অকৃতজ্ঞতা, আনুগত্য বা অবাধ্যতার মধ্যে যে কোন পথ চায় গ্রহণ করতে পারে। তিনি উভয় পথই তার সামনে খুলে রেখে দিয়েছেন এবং প্রত্যেকটি পথই তার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। এখন এর মধ্য থেকে যে পথে ইচ্ছা সে চলতে পারে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

এর এক তাফসীর হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.) থেকে এ রকম বর্ণিত আছে যে, আল্লাহ তাআলা মাতৃগর্ভ হতে শিশুর বের হয়ে আসার পথ অত্যন্ত সুগম করে দিয়েছেন। ফলে এক সঙ্কীর্ণ স্থান থেকে সে সহজেই বের হয়ে আসে। কেউ কেউ এর ব্যাখ্যা করেছেন, আল্লাহ তাআলা দুনিয়ায় মানুষের জীবন যাপনের পথ সহজ করে দিয়েছেন এবং এখানে তার সব রকম প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ব্যবস্থা রেখেছেন।

তাফসীরে জাকারিয়া

২০. তারপর তার জন্য পথ সহজ করে দেন(১);

(১) অর্থাৎ আল্লাহ্ তা'আলা স্বীয় ক্ষমতা-বলে মাতৃগর্ভে মানুষকে সৃষ্টি করেন। তারপর তিনিই তার অপার শক্তির মাধ্যমে মাতৃগর্ভ থেকে জীবিত ও পুর্নাঙ্গ মানুষের বাইরে আসার পথ সহজ করে দেয়। ফলে দেহটি সহী-সালামতে বাইরে চলে আসে এবং মায়েরও এতে তেমন কোন দৈহিক ক্ষতি হয় না। এছাড়া আয়াতের আরেকটি অর্থ হচ্ছে, দুনিয়ায় তিনি তার জন্য নিজের জন্য ভালো বা মন্দ, কৃতজ্ঞতা বা অকৃতজ্ঞতা আনুগত্য বা অবাধ্যতার মধ্যে সে কোন পথ চায় তা তার সামনে খুলে রেখে দিয়েছেন এবং পথ তার জন্য সহজ করে দিয়েছেন। ফলে সে শুকরিয়া আদায় করে সৎপথ গ্রহণ করতে পারে, আবার কুফরী করে বিপথে যেতে পারে। (দেখুন: ইবন কাসীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

২০। অতঃপর তার জন্য তার পথ সহজ করে দিয়েছেন। (1)

(1) অর্থাৎ, ভাল-মন্দের পথ স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বলেন, এ থেকে উদ্দেশ্য হল মায়ের পেট থেকে বের হবার পথ। তবে প্রথম অর্থটিই অধিক শুদ্ধ।