‘আবাছা ওয়া তাওয়াল্লা-।উচ্চারণ
ভ্রুকুঁচকাল ও মুখ ফিরিয়ে নিল, তাফহীমুল কুরআন
(রাসূল) মুখ বিকৃত করল ও চেহারা ফিরিয়ে নিল। মুফতী তাকী উসমানী
সে ভ্রু কুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিলো,মুজিবুর রহমান
তিনি ভ্রূকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
সে ভ্রূকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
সে* ভ্রকুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল।আল-বায়ান
(নবী) মুখ ভার করল আর মুখ ঘুরিয়ে নিল।তাইসিরুল
তিনি ভ্রকুটি করলেন এবং ফিরে বসলেন,মাওলানা জহুরুল হক
এ আয়াতসমূহ একটি বিশেষ ঘটনার প্রেক্ষাপটে নাযিল হয়েছিল। ঘটনাটি এইরূপ, একদিন মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরাইশ গোত্রের কয়েকজন বড়-বড় নেতাকে ইসলামের দাওয়াত দিচ্ছিলেন। তিনি তাদের সাথে দাওয়াতী কথাবার্তায় মশগুল ছিলেন, ঠিক এই মুহূর্তে প্রসিদ্ধ অন্ধ সাহাবী হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাযি.) সেখানে উপস্থিত হলেন। তিনি যেহেতু অন্ধ ছিলেন, তাই মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কার-কার সাথে কথায় ব্যস্ত আছেন তা দেখতে পাচ্ছিলেন না। কাজেই এসেই তিনি তাকে কিছু শিক্ষা দানের জন্য মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অনুরোধ করলেন। যেহেতু অন্যের কথা কেটে মাঝখানে তিনি ঢুকে পড়েছিলেন, তাই তাঁর এ পন্থা মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পছন্দ হল না। এ অসন্তুষ্টির ছাপ তাঁর চেহারায়ও ফুটে উঠল। তিনি তাঁর কথার কোন উত্তরও দিলেন না; বরং সেই কাফেরদের সাথেই যথারীতি আলোচনা চালিয়ে গেলেন। কিন্তু তাঁর এ কার্যক্রম আল্লাহ তাআলার পছন্দ হল না। সুতরাং লোকগুলো চলে যাওয়ার পর পরই এ সূরা নাযিল করলেন এবং তাঁকে তাঁর এ কাজের জন্য সতর্ক করে দিলেন। সূরাটির প্রথম শব্দ হল عَبَس (আবাস), এর অর্থ ভ্রু কুঞ্চিত করা, মুখ বিকৃত করা। এরই থেকে সূরাটির নাম হয়েছে সূরা আবাস। এতে মৌলিকভাবে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, যার অন্তরে সত্যের অনুসন্ধিৎসা আছে, খাঁটি মনে সে নিজেকে সংশোধনও করতে চায়, তাকে কিছুতেই অগ্রাহ্য করা চলে না; বরং তাঁরই এ অধিকার বেশি যে, শিক্ষা দানের জন্য তাকে সময় দেওয়া হবে। পক্ষান্তরে যাদের অন্তরে সত্য জানার কোন আগ্রহ নেই এবং নিজেদেরকে সংশোধন করারও কোন প্রয়োজন মনে করে না, সত্য-সন্ধানীদের থেকে মুখ ফিরিয়ে তাদের প্রতি মনোযোগী হওয়া ও তাদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া কিছুতেই যুক্তিযুক্ত নয়। এরূপ কাজ মোটেই সমীচীন নয়।
১. তিনি ভ্ৰকুঞ্চিত করলেন এবং মুখ ফিরিয়ে নিলেন(১),
(১) عبس শব্দের অর্থ রুষ্টতা অবলম্বন করা এবং চোখে মুখে বিরক্তি প্ৰকাশ করা। تولى শব্দের অর্থ মুখ ফিরিয়ে নেয়া। (জালালাইন)
১। সে ভ্রূ কুঞ্চিত করল এবং মুখ ফিরিয়ে নিল।