وَٱلنَّـٰزِعَٰتِ غَرۡقٗا

ওয়ান্না-ঝি‘আ-তি গারক-।উচ্চারণ

সেই ফেরেশতাদের কসম যারা ডুব দিয়ে টানে তাফহীমুল কুরআন

শপথ তাদের (অর্থাৎ সেই ফেরেশতাদের), যারা (কাফেরদের প্রাণ) কঠোরভাবে টেনে বের করে। মুফতী তাকী উসমানী

শপথ তাদের যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে,মুজিবুর রহমান

শপথ সেই ফেরেশতাগণের, যারা ডুব দিয়ে আত্মা উৎপাটন করে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

শপথ তাদের যারা নির্মমভাবে উৎপাটন করে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কসম নির্মমভাবে (কাফিরদের রূহ) উৎপাটনকারীদের।*আল-বায়ান

শপথ সেই ফেরেশতাদের যারা (পাপীদের আত্মা) নির্মমভাবে টেনে বের করে,তাইসিরুল

ভাবো প্রচেষ্টাকারীদের প্রচন্ড-প্রচেষ্টার কথা;মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

কুরআন মাজীদে যে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, তার অর্থ কেবল এতটুকু ‘শপথ তাদের, যারা কঠোরভাবে টেনে বের করে’। কিন্তু হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযি.)-এর ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে যে, এর দ্বারা জান কবজকারী ফেরেশতাদের বোঝানো হয়েছে, যারা (সাধারণত কাফেরদের) রূহ দেহ থেকে কঠোরভাবে টেনে বের করে এবং কারও কারও (সাধারণত মুমিনদের) রূহ মৃদুভাবে বের করে, যেন রশির বাঁধন খুলে দেয়। তারপর তারা সেই রূহ নিয়ে শূন্যমণ্ডলে সাতার কেটে চলে যায় এবং খুব দ্রুত গন্তব্যস্থলে পৌঁছে, রূহদের সম্পর্কে আল্লাহ তাআলার যে হুকুম হয় তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এই হল প্রথম চার আয়াতের মর্ম। এসব ফেরেশতার শপথ করে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের পরিস্থিতি ব্যক্ত করছেন যে, যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, তখন বহু হৃদয় প্রকম্পিত হবে। পূর্বে বলা হয়েছে, নিজ কথা বিশ্বাস করানোর জন্য আল্লাহ তাআলার কোন শপথ করার প্রয়োজন নেই, কিন্তু তা সত্ত্বেও কুরআন মাজীদে যে বিভিন্ন বস্তুর শপথ করা হয়েছে, তা কেবলই কথাকে শক্তিশালী করে তোলার জন্য। আরবী অলংকার শাস্ত্রে কথায় বলিষ্ঠতা আনয়নের জন্য শপথ করার নিয়ম আছে। সাধারণত যে বস্তুর শপথ করা হয়, তা পরবর্তী যে দাবির উল্লেখ থাকে, তার পক্ষে সাক্ষী হয়ে থাকে। এস্থলে বোঝানো হচ্ছে যে, ফেরেশতাগণ সাক্ষী, আল্লাহ তাআলা তাদের মাধ্যমে যেমন জান কবজ করান, তেমনি তাদের মাধ্যমে শিঙ্গায় ফুঁ দেওয়ানোর পর মৃতদেরকে পুনরায় জীবিতও করা হবে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১. শপথ(১) নির্মমভাবে উৎপাটনকারীদের(২),

(১) এ সূরার শুরুতে কতিপয় গুণ ও অবস্থা বর্ণনা করে তাদের শপথ করা হয়েছে। এ পাঁচটি গুণাবলী কোন কোন সত্তার সাথে জড়িত, একথাও এখানে পরিস্কার করে বলা হয়নি। কিন্তু বিপুল সংখ্যক সাহাবী ও তাবেঈন এবং অধিকাংশ মুফাসসিরের মতে এখানে ফেরেশতাদের কথা বলা হয়েছে। তাছাড়া শপথের জওয়াবও উহ্য রাখা হয়েছে। মূলত কেয়ামত ও হাশর-নশর অবশ্যই হবে এবং সেগুলো নিঃসন্দেহে সত্য, একথার ওপরই এখানে কসম খাওয়া হয়েছে। (কুরতুবী) অথবা কসম ও কসমের কারণ এক হতে পারে, কেননা ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনা ঈমানের স্তম্ভসমূহের মধ্যে অন্যতম। (সা'দী)

(২) বলা হয়েছে, যারা নির্মমভাবে টেনে আত্মা উৎপাটন করে। এটা যাদের শপথ করা হয়েছে সে ফেরেশতাগণের প্রথম বিশেষণ। অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেয়ী বলেন, ডুব দিয়ে টানা এবং আস্তে আস্তে বের করে আনা এমন সব ফেরেশতার কাজ যারা মৃত্যুকালে মানুষের শরীরে গভীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে তার প্রতিটি শিরা উপশিরা থেকে তার প্রাণ বায়ু টেনে বের করে আনে। এখানে আযাবের, সেসব ফেরেশতা বোঝানো হয়েছে, যারা কাফেরের আত্মা নির্মমভাবে বের করে। (ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

১। শপথ তাদের (ফিরিশতাদের); যারা নির্মমভাবে (কাফেরদের প্রাণ) ছিনিয়ে নেয়। (1)

(1) نزع শব্দের অর্থ হল বড় শক্তের সাথে টানা। غرقًا মানে ডুবে। এটি আত্মা হরণকারী ফিরিশতার গুণবিশেষ। ফিরিশতা কাফেরদের আত্মা খুবই কঠিনভাবে শরীরের ভিতর ডুবে বের করে থাকেন। (غرقًا -এর আর এক অর্থঃ নির্মমভাবে।)