بَلۡ يُرِيدُ ٱلۡإِنسَٰنُ لِيَفۡجُرَ أَمَامَهُۥ

বাল ইউরীদুল ইনছা-নুলিইয়াফজুর আমা-মাহ।উচ্চারণ

কিন্তু মানুষ ভবিষ্যতেও কুকর্ম করতে চায়। তাফহীমুল কুরআন

বস্তুত মানুষ তার আগামী জীবনেও গুনাহে রত থাকতে চায়। মুফতী তাকী উসমানী

তবুও মানুষ তার সম্মুখে যা আছে তা অস্বীকার করতে চায়;মুজিবুর রহমান

বরং মানুষ তার ভবিষ্যত জীবনেও ধৃষ্টতা করতে চায়মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তবুও মানুষ তার ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে চায়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

বরং মানুষ চায় ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে।আল-বায়ান

কিন্তু মানুষ তার আগামী দিনগুলোতেও পাপাচার করতে চায়।তাইসিরুল

তবুও মানুষ চায় যা তার সামনে রয়েছে তা অস্বীকার করতে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

এ ছোট বাক্যটিতে আখেরাত অবিশ্বাসকারীদের আসল রোগ কি তা স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করে দেয়া হয়েছে। যেসব জিনিস এসব লোককে আখেরাত অস্বীকার করতে উদ্বুদ্ধ করতো তা মূলত এ নয় যে, প্রকৃতই তারা কিয়ামত ও আখেরাতকে অসম্ভব মনে করতো। বরং তারা যে কিয়ামত ও আখেরাতকে অস্বীকার করে তার মূল কারণ হলো, আখেরাতকে মেনে নিলে তাদের ওপর অনিবার্যভাবে কিছু নৈতিক বাধ্যবাধকতা আরোপিত হয়। সে বাধ্যবাধকতা মেনে নেয়া তাদের কাছে মোটেই মনঃপূত নয়। তারা চায় আজ পর্যন্ত তারা পৃথিবীতে যেরূপ লাগামহীন জীবন যাপন করে এসেছে ভবিষ্যতেও ঠিক তেমনি করতে পারে। আজ পর্যন্ত তারা যে ধরনের জুলুম-আত্যাচার, বেঈমানী, পাপাচার ও দুষ্কর্ম করে এসেছে ভবিষ্যতেও তা করার অবাধ স্বাধীনতা যেন তাদের থাকে। একদিন তাদেরকে আল্লাহর বিচারালয়ে দাঁড়িয়ে এসব কাজের জবাবদিহি করতে হবে এ বিশ্বাস যেন তাদের অবৈধ লাগামহীন স্বাধীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার পথ রোধ করতে না পারে। তাই প্রকৃতপক্ষে তাদের বিবেক-বুদ্ধি তাদেরকে আখেরাতের প্রতি ঈমান আনতে বাধা দিচ্ছে না। বরং তাদের প্রবৃত্তির কামনা বাসনাই এ পথের প্রতিবন্ধক।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তারা যে আখেরাতের জীবনকে অস্বীকার করে, এর পেছনে তাদের কোন বুদ্ধিবৃত্তিক প্রমাণ নেই; বরং তারা তা অস্বীকার করে স্বেচ্ছাচারী জীবন যাপনের জন্য, যাতে আগামী জীবনেও তারা নিশ্চিন্তে পাপাচারে লিপ্ত থাকতে পারে এবং আখেরাতের চিন্তা তাদের যা খুশী তাই করার পথে বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫. বরং মানুষ তার ভবিষ্যতেও পাপাচার করতে চায়।(১)

(১) তারা যে কিয়ামত ও আখেরাতকে অস্বীকার করে তার মূল কারণ হলো, তারা চায় আজ পর্যন্ত তারা পৃথিবীতে যেরূপ লাগামহীন জীবন যাপন করে এসেছে ভবিষ্যতেও ঠিক তেমনি করতে পারে। আজ পর্যন্ত তারা যে ধরনের জুলুম-অত্যাচার, বেঈমানী, পাপাচার ও দুষ্কর্ম করে এসেছে। ভবিষ্যতেও তা করার অবাধ স্বাধীনতা যেন তাদের থাকে। এভাবে সে অসৎকাজ করতেই থাকে, সৎপথে ফিরে আসতে চায় না। (মুয়াস্‌সার, ফাতহুল কাদীর) কোন কোন মুফাসসির বলেন, আয়াতের উদ্দেশ্য হচ্ছে, “বরং সে তার সম্মুখস্থ বস্তু অর্থাৎ কিয়ামতকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করতে চায়।” কারণ, এর পরই বলা হয়েছে, “সে প্রশ্ন করে কখন কিয়ামত আসবে” এ তাফসীরটি ইবনে কাসীর প্রাধান্য দিয়েছেন।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫) বরং মানুষ তার আগামীতেও পাপ করতে চায়; (1)

(1) অর্থাৎ, এই বিশ্বাসে পাপাচরণ এবং সত্যকে অস্বীকার করে যে, কিয়ামত আসবে না।