আ ইয়াহছাবুল ইনছা-নুআল্লান নাজমা‘আ ‘ইজা-মাহ।উচ্চারণ
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার হাড়সমূহ একত্র করতে পারবো না? ৩ তাফহীমুল কুরআন
মানুষ কি মনে করে আমি তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারব না?মুফতী তাকী উসমানী
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারবনা?মুজিবুর রহমান
মানুষ কি মনে করে যে আমি তার অস্থিসমূহ একত্রিত করব না?মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারিব না ? ইসলামিক ফাউন্ডেশন
মানুষ কি মনে করে যে, আমি কখনই তার অস্থিসমূহ একত্র করব না?আল-বায়ান
মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার হাড়গুলোকে একত্রিত করতে পারব না।তাইসিরুল
মানুষ কি মনে করে যে আমরা কখনো তার হাড়গোড় একত্রিত করব না?মাওলানা জহুরুল হক
৩
কসম আকারে ওপরে বর্ণিত দু’টি দলীল শুধু দু’টি বিষয় প্রমাণ করে। এক, এ দুনিয়ার পরিসমাপ্তি (অর্থাৎ কিয়ামদের প্রথম পর্যায়) একটি নিশ্চিত ও অনিবার্য ব্যাপার।
দুই, মৃত্যুর পরে আরেকটি জীবন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। কারণ তা ছাড়া মানুষের একটি নৈতিক সত্তা হওয়ার যৌক্তিক ও প্রকৃতিগত দাবী পুরণ হতে পারে না। আর এ ব্যাপারটি অবশ্যই সংঘটিত হবে। মানুষের মধ্যে বিবেক থাকাটাই তা প্রমাণ করে। মৃত্যুর পরের জীবন যে সম্ভব একথা প্রমাণ করার জন্যই এ তৃতীয় দলীলটি পেশ করা হয়েছে। মক্কার যেসব লোক মৃত্যুর পরের জীবনকে অস্বীকার করতো তারা বার বার একথা বলতো যে, যেসব লোকেরা মৃত্যুর পর হাজার হাজার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে, যাদের দেহের প্রতিটি অণূ-পরমাণু মাটিতে মিশে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেছে, যাদের হাড়গোড় পচে গলে পৃথিবীর কত জায়গায় যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে তার কোন হদিস নেই, যাদের কেউ মরেছে আগুনে পুড়ে, কেউ হিংস্র জন্তুর আহারে পরিণত হয়েছে। আবার কেউ সমুদ্রে ডুবে মাছের খোরাক হয়েছে। তাদের সবার দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আবার একত্র হবে এবং প্রতিটি মানুষ আবার হুবহু সে মানুষটি হয়ে জীবনলাভ করবে, যে মানুষটি দশ-বিশ হাজার কোন এক সময় ছিল, এটা কি করে সম্ভব? মক্কার লোকদের এসব কথার জবাব আল্লাহ তা’আলা একটি ছোট প্রশ্নের আকারে অত্যন্ত যুক্তিগ্রাহ্য ও বলিষ্ঠভাবে দিয়েছেন। তিনি বলছেনঃ “মানুষ কি মনে করেছে যে, আমি তার হাড়গোড় আদৌ একত্রিত করতে পারবো ন"? অর্থাৎ যদি তোমাদেরকে বলা হতো, তোমাদের দেহের বিক্ষিপ্ত এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কোন এক সময় আপনা থেকেই একত্রিত হয়ে যাবে এবং তোমরাও আপনি থেকেই হুবুহু এই দেহ নিয়েই জীবিত হয়ে যাবে তাহলে এরূপ হওয়াটিকে অসম্ভব মনে করা তোমাদের নিঃসন্দেহে যুক্তিসঙ্গত হতো। কিন্তু তোমাদের তো বলা হয়েছে এ কাজটি আপনা থেকেই হবে না। বরং তা করবেন আল্লাহ তা’আলা নিজে। তাহলে কি তোমরা প্রকৃতপক্ষেই মনে করো যে, সারা বিশ্ব-জাহানের সৃষ্টিকর্তা-যাকে তোমরা নিজেরাও সৃষ্টিকর্তা বলে স্বীকার করে থাকো-এ কাজ করতে অক্ষম? এটা এমন একটি প্রশ্ন যে, যারা আল্লাহ তা’আলাকে বিশ্ব-জাহানের স্রষ্টা বলে স্বীকার করে, সে যুগেও তারা বলতে পারতো না এবং বর্তমান যুগেও বলতে পারে না। যে, আল্লাহ তা’আলা নিজেও এ কাজ করতে চাইলে করতে পারবেন না। আর কোন নির্বোধ যদি এমন কথা বলেও ফেলে তাহলে তাকে জিজ্ঞেস করা যেতে পারে যে, তুমি আজ যে দেহের অধিকারী তার অসংখ্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে বাতাস, পানি, মাটি এবং অজ্ঞাত আরো কত জায়গা থেকে এনে একত্রিত করে সে আল্লাহ এ দেহটি কিভাবে তৈরী করলেন যার সম্পর্কে তুমি বলছো যে, তিনি পুনরায় এসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ একত্রিত করতে সক্ষম নন?
বলা হচ্ছে, অস্থিরাজি একত্র করা তো খুবই মামুলি ব্যাপার। আল্লাহ তাআলার তো এই শক্তি আছে যে, তিনি মানুষের প্রতিটি আঙ্গুলের অগ্র ভাগকেও আগে যেমন ছিল ঠিক তেমনই তৈরি করে দেবেন। বিশেষভাবে আঙ্গুলের অগ্র ভাগের কথা বলা হয়েছে এজন্য যে, তাতে যে অজস্র সূক্ষ্ম-সূক্ষ্ম রেখা আছে, তাতে একের সাথে অন্যের মিল নেই। প্রত্যেকেরই রেখাসমূহ অন্যের থেকে আলাদা। এ কারণেই দুনিয়ায় দস্তখতের স্থানে আঙ্গুলের ছাপ ব্যবহার করা হয়। আঙ্গুলের এসব রেখার মধ্যে এমন সূক্ষ্ম-সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে যদ্দরুন দুনিয়ার অগণ্য মানুষের মধ্যে কারও ছাপের সঙ্গে কখনও কারও ছাপ মেলে না। রেখার কী বিচিত্র বিন্যাস আঙ্গুলের এই সামান্য জায়গার ভেতর! এতদসত্ত্বেও কোটি-কোটি মানুষের রেখার এই প্রভেদ স্মরণ রেখে এগুলোকে ঠিক আগের মত পুনর্বিন্যস্ত করে মানুষকে পুনর্জীবিত করে তোলার মত সুকঠিন কাজও আল্লাহ তাআলা মুহূর্তের মধ্যে করে ফেলবেন। কতই না মহা শক্তির মালিক মহান সৃষ্টিকর্তা! সম্ভব কি এ কাজ অন্য কারও দ্বারা?
৩. মানুষ কি মনে করে যে, আমরা কখনোই তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারব না?
(৩) মানুষ কি মনে করে যে, আমি তার অস্থিসমূহ একত্র করতে পারব না? (1)
(1) এটা কসমের জওয়াব। এখানে ‘ইনসান’ বলতে কাফের ও নাস্তিককে বুঝানো হয়েছে, যারা কিয়ামতকে বিশ্বাস করে না। কিন্তু তাদের ধারণা ভুল। মহান আল্লাহ অবশ্যই মানুষের সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে একত্রিত করবেন। এখানে বিশেষ করে অস্থি বা হাড়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ, অস্থিই হল (মানবদেহ) সৃষ্টির মৌলিক কাঠামো।