كَلَّاۖ بَل لَّا يَخَافُونَ ٱلۡأٓخِرَةَ

কাল্লা বাল্লা- ইয়াখা-ফূনাল আ-খিরহ।উচ্চারণ

তা কখখনো হবে না। আসল কথা হলো, এরা আখেরাতকে আদৌ ভয় করে না। ৩৯ তাফহীমুল কুরআন

কখনও নয়, #%২২%# প্রকৃতপক্ষে তারা আখিরাতকে ভয় করে না। #%২৩%#মুফতী তাকী উসমানী

না ইহা হবার নয়, বরং তারাতো আখিরাতের ভয় পোষণ করেনা।মুজিবুর রহমান

কখনও না, বরং তারা পরকালকে ভয় করে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

না, এটা হওয়ার নয়; বরং এরা তো আখিরাতের ভয় পোষণ করে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনও নয়! বরং তারা আখিরাতকে ভয় করে না।আল-বায়ান

না, তা কক্ষনো হতে পারে না, বরং (কথা এই যে) তারা আখিরাতকে ভয় করে না।তাইসিরুল

কখনো না। তারা কিন্ত পরকালের ভয় করে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

৩৯

অর্থাৎ এদের ঈমান না আনার আসল কারণ এটা নয় যে, তাদের এ দাবী পূরণ করা হচ্ছে না। বরং এর আসল কারণ হলো এরা আখেরাতের ব্যাপারে বেপরোয়া ও নির্ভীক। এরা এ পৃথিবীকেই পরম পাওয়া মনে করে নিয়েছে। তাই তাদের এ ধারণাটুকু পর্যন্ত নেই যে, এ দুনিয়ার জীবন শেষ হওয়ার পর আরেকটি জীবন আছে যেখানে তাদেরকে নিজ নিজ কৃতকর্মের হিসেব দিতে হবে। এ জিনিসটিই তাদেরকে এ পৃথিবীতে নিরুদ্বিগ্ন ও দায়িত্বহীন বানিয়ে দিয়েছে। হক ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যার প্রশ্নে তারা অর্থহীন মনে করে। কারণ দুনিয়াতে এমন কোন সত্য তারা দেখতে পায় না যা অনুসরণ করার ফলাফল এ দুনিয়াতে সবসময় ভাল হয়ে থাকে এবং এমন কোন বাতিল বা মিথ্যাও তারা দুনিয়াতে দেখতে পায় না যার ফলাফল এ দুনিয়াতে সবসময় মন্দই হয়ে থাকে। তাই প্রকৃতপক্ষে সত্য কি আর মিথ্যা কি তা নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করা তারা নিরর্থক মনে করে। যে ব্যক্তি দুনিয়ার এ জীবনকে অস্থায়ী জীবন বলে মনে করে এবং সাথে সাথে এও বিশ্বাস করে যে, সত্যিকার এবং চিরস্থায়ী জীবন হলো আখেরাতের জীবন যেখানে সত্যের ফলাফল অনিবার্যরূপে ভাল এবং মিথ্যার ফলাফল অনিবার্যরূপে মন্দ হবে, হক ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যার প্রশ্নটি কেবলমাত্র সে ব্যক্তির কাছেই গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হতে পারে। এ প্রকৃতির লোক কুরআনের পেশকৃত যুক্তিপূর্ণ দলীল-প্রমাণ এবং পবিত্র শিক্ষাসমূহ দেখেই তার প্রতি ইমান আনবে এবং নিজের বিবেক-বুদ্ধি প্রয়োগ করে বুঝার চেষ্টা করবে যে, কুরআন যেসব আকীদা-বিশ্বাস এবং কাজ-কর্মকে ভ্রান্ত বলছে তার মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কি কি ভুল-ভ্রান্তি আছে। কিন্তু আখেরাতকে অস্বীকারকারী, যে সত্যের অনুসন্ধানে নিষ্ঠাবান নয় সে ঈমান গ্রহণ না করার জন্য নতুন নতুন দাবী পেশ করতে থাকবে। অথচ তার যে কোন দাবীই পূরণ করা হোক না কেন সত্যকে অস্বীকার করার জন্য সে আরেকটি নতুন বাহানা খাড়া করবে। এ কথাটিই সূরা আন’আমে এভাবে বলা হয়েছেঃ “হে নবী, আমি যদি কাগজে লিখিত কোন গ্রন্থও তোমার প্রতি নাযিল করতাম আর এসব লোকেরা তা হাত দিয়ে স্পর্শ করে দেখতো তারপরও যারা সত্যকে অস্বীকার করেছে তারা বলতো, এতো স্পষ্ট যাদু।” (সূরা আন’আম, ৭)

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ এসব আগা-মাথাহীন প্রশ্ন কোন সত্য সন্ধানের প্রেরণায় করা হচ্ছে না। আসল কথা হচ্ছে, তাদের অন্তর গাফলতির পর্দা দিয়ে ঢাকা। তাদের অন্তরে আল্লাহ তাআলার কোন ভয় নেই। তাই মুখ দিয়ে যা আসে তাই বলে দেয়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৫৩. কখনো নয়(১); বরং তারা আখেরাতকে ভয় করে না।(২)

(১) অর্থাৎ তাদের এ ধরনের কোন দাবী কক্ষনো পূরণ করা হবে না। (কুরতুবী)

(২) অর্থাৎ এদের ঈমান না আনার আসল কারণ এটা নয় যে, তাদের এ দাবী পূরণ করা হচ্ছে না বরং এর আসল কারণ হলো এরা আখেরাতের ব্যাপারে বেপরোয়া ও নির্ভীক। (ফাতহুল কাদীর) এরা এ পৃথিবীকেই পরম পাওয়া মনে করে নিয়েছে। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৫৩) না, এটা হবার নয়। বরং তারা তো পরকালের ভয় পোষণ করে না। (1)

(1) অর্থাৎ, তাদের ভ্রষ্টতার কারণ হল, আখেরাতের উপর ঈমান না আনা এবং তা মিথ্যা ভাবা। আর এই জিনিসই তাদেরকে ভয়শূন্য বানিয়ে দিয়েছে।