ذَرۡنِي وَمَنۡ خَلَقۡتُ وَحِيدٗا

যারনী ওয়া মান খালাকতুওয়া হীদা- ।উচ্চারণ

আমাকে এবং সে ব্যক্তিকে ১০ ছেড়ে দাও যাকে আমি একা সৃষ্টি করেছি। ১১ তাফহীমুল কুরআন

সেই ব্যক্তির ব্যাপার আমার উপর ছেড়ে দাও, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একক করে। মুফতী তাকী উসমানী

আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে, যাকে আমি সৃষ্টি করেছি অসাধারণ করে।মুজিবুর রহমান

যাকে আমি অনন্য করে সৃষ্টি করেছি, তাকে আমার হাতে ছেড়ে দিন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

ছেড়ে দাও আমাকে এবং যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাকী। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আমাকে এবং যাকে আমি সৃষ্টি করেছি তাকে একাকী ছেড়ে দাও।আল-বায়ান

ছেড়ে দাও আমাকে (তার সঙ্গে বুঝাপড়া করার জন্য) যাকে আমি এককভাবে সৃষ্টি করেছি।তাইসিরুল

ছেড়ে দাও আমাকে ও তাকে যাকে আমি সৃষ্টি করেছি এককভাবে,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১০

এখানে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করে বলা হচ্ছেঃ হে নবী, কাফেরদের সে সম্মেলনে যে ব্যক্তি (ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা) তোমাকে বদনাম করার উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছিল যে, সমগ্র আরব থেকে আগত হাজীদের কাছে তোমাকে যাদুকর বলে প্রচার করতে হবে তার ব্যাপারটা তুমি আমার ওপর ছেড়ে দেও। এখন আমার কাজ হলো, তার সাথে বুঝাপড়া করা। তোমার নিজের এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করার কোন প্রয়োজন নেই।

১১

একথাটির দু’টি অর্থ হতে পারে এবং দু’টি অর্থই সঠিক। এক, আমি যখন তাকে সৃষ্টি করেছিলাম সে সময় কোন প্রকার ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্তুতি এবং মর্যাদা ও নেতৃত্বের অধিকারী ছিল না। দুই, একমাত্র আমিই তার সৃষ্টিকর্তা। অন্য যেসব উপাস্যের খোদায়ী ও প্রভুত্ব কায়েম রাখার জন্য সে তোমার দেয়া তাওহীদের দাওয়াতের বিরোধিতায় এত তৎপর, তাদের কেউই তাকে সৃষ্টি করার ব্যাপারে আমার সাথে শরীক ছিল না।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

বিভিন্ন তাফসীরী বর্ণনা দ্বারা জানা যায়, এর দ্বারা ইশারা ওয়ালীদ ইবনে মুগীরার প্রতি। সে ছিল মক্কা মুকাররমায় এক ধনাঢ্য ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তার সম্পত্তি মক্কা মুকাররমা থেকে তায়েফ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল [এ কারণেই আয়াতে বলা হয়েছে ‘যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একক করে। অর্থাৎ ধন-সম্পদে সে একক ও অসাধারণ ছিল। আবার সে পিতা-মাতারও একমাত্র পুত্র ছিল -অনুবাদক]। সে মাঝে-মাঝে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাযি.)-এর কাছে যেত ও তাঁর কাছ থেকে কুরআন মাজীদ শুনত। একবার তো সে স্বীকারই করেছিল যে, এটা এক অসাধারণ বাণী, যা কোন মানুষের হতে পারে না। একথা শুনে আবু জাহলের ভয় হল, পাছে সে ইসলাম গ্রহণ করে ফেলে। কালবিলম্ব না করে সে ওয়ালীদ ইবনে মুগীরার সঙ্গে সাক্ষাত করল এবং তার আত্মসম্মানবোধে আঘাত দেওয়ার চেষ্টা করল। তাকে লক্ষ্য করে বলল, লোকে তোমার সম্পর্কে বলাবলি করছে, তুমি নাকি অর্থের লোভে মুসলিমদের সাথে মেলামেশা করছ। ঠিকই এ কথায় তার আত্মসম্মানবোধে ঘা লাগল। বলে উঠল আগামীতে আমি আর কখনও আবু বকর বা অন্য কোন মুসলিমের কাছে যাব না। আবু জাহল বলল, তুমি যতক্ষণ কুরআনের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত লোকে তোমার ব্যাপারে আশ্বস্ত হবে না। ওয়ালীদ বলল, আমি তাকে কবিতা বলতে পারব না, অতীন্দ্রিয়বাদীদের কথাও না আর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কেও বিকারগ্রস্ত বলতে পারব না। কারণ এসব কথা ঠিক চালানো যাবে না। তারপর কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল, অবশ্য একে যাদু বলা যেতে পারে। কেননা যাদু দ্বারা যেমন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানো হয়, তেমনি এ বাণী যে শোনে সে ইসলাম গ্রহণ করতঃ তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন থেকে পৃথক হয়ে যায়। কোন কোন বর্ণনায় আছে, ওয়ালীদ একথা বলেছিল সেই সময়, যখন হজ্জের আগে কুরাইশ নেতৃবর্গ পরামর্শে বসেছিল। তারা বলেছিল, হজ্জে আরবের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন গোত্রের মানুষ আসবে এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেবে। তখন আমরা কী বলব তা এখনই স্থির করে নেওয়া উচিত। তখন ওয়ালিদ বলেছিল, আমরা তাকে না পাগল বলতে পারি, না কবি, অতীন্দ্রিবাদী বা মিথ্যুক। অন্যরা জিজ্ঞেস করল, তবে কী বলব? সে কিছুক্ষণ চিন্তা করে বলল, তাকে যাদুকর বললে সেটা চালানো যেতে পারে (ইবনে কাছীর)।

তাফসীরে জাকারিয়া

১১. ছেড়ে দিন আমাকে ও যাকে আমি সৃষ্টি করেছি একাকী।(১)

(১) একথাটির দু'টি অর্থ হতে পারে এবং দু'টি অর্থই সঠিক। এক. আমি যখন তাকে সৃষ্টি করেছিলাম সে সময় সে কোন প্রকার ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি এবং মর্যাদা ও নেতৃত্বের অধিকারী ছিল না, সে একা ছিল। আমি তাকে সেসব দান করেছি। দুই. একমাত্র আমিই তার সৃষ্টিকর্তা। অন্য যেসব উপাস্যের প্রভুত্ব কায়েম রাখার জন্য সে আপনার দেয়া তাওহীদের দাওয়াতের বিরোধিতায় এত তৎপর, তাদের কেউই তাকে সৃষ্টি করার ব্যাপারে আমার সাথে শরীক ছিল না। (কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১১) আমাকে ছেড়ে দাও এবং তাকে যাকে আমি একাই সৃষ্টি করেছি। (1)

(1) এ বাক্যে রয়েছে ধমক ও তিরস্কারের স্বর। যাকে আমি একাই মায়ের পেটে সৃষ্টি করেছি, তার কাছে না ছিল মাল-ধন, আর না ছিল সন্তান-সন্ততি, তাকে আর আমাকে একাই ছেড়ে দাও। অর্থাৎ, আমি নিজেই তাকে দেখে নেব। বলা হয় যে, এখানে অলীদ ইবনে মুগীরার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই লোকটি কুফরী ও অবাধ্যতায় সীমা অতিক্রম করেছিল। এই জন্যই তার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর আল্লাহই অধিক জানেন।