لِّيَعۡلَمَ أَن قَدۡ أَبۡلَغُواْ رِسَٰلَٰتِ رَبِّهِمۡ وَأَحَاطَ بِمَا لَدَيۡهِمۡ وَأَحۡصَىٰ كُلَّ شَيۡءٍ عَدَدَۢا

লিইয়া‘লামা আন কাদ আবলাগূরিছা-লা-তি রব্বিহিম ওয়া আহা-তাবিমা-লাদাইহিম ওয়াআহসা- কুল্লা শাইয়িন ‘আদাদা- ।উচ্চারণ

যাতে তিনি নিশ্চিতরূপে জানতে পারেন যে, রসূলগণ তাদের রবের বাণীসমূহ পৌঁছিয়ে দিয়েছেন ২৯ তিনি তাদের গোটা পরিবেশ সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত। আর তিনি প্রতিটি জিনিস গুণে গুণে হিসেব করে রেখেছেন। ৩০ তাফহীমুল কুরআন

তারা (অর্থাৎ রাসূলগণ) তাদের প্রতিপালকের বাণী যে ঠিক পৌঁছিয়ে দিয়েছে তা জানার জন্য। আর তিনি তাদের যাবতীয় অবস্থা পরিবেষ্টন করে আছেন এবং তিনি সমস্ত কিছু পুরোপুরি হিসাব করে রেখেছেন।মুফতী তাকী উসমানী

রাসূলগণ তাদের রবের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন কি না জানার জন্য। রাসূলগণের নিকট যা আছে তা তাঁর জ্ঞান গোচর এবং তিনি সমস্ত কিছুর বিস্তারিত হিসাব রাখেন।মুজিবুর রহমান

যাতে আল্লাহ তা’আলা জেনে নেন যে, রসূলগণ তাঁদের পালনকর্তার পয়গাম পৌছিয়েছেন কি না। রসূলগণের কাছে যা আছে, তা তাঁর জ্ঞান-গোচর। তিনি সবকিছুর সংখ্যার হিসাব রাখেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

রাসূলগণ তাদের প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিয়েছেন কি না জানবার জন্যে। রাসূলগণের নিকট যা আছে তা তাঁর জ্ঞানগোচর এবং তিনি সমস্ত কিছুর বিস্তারিত হিসেব রাখেন।ইসলামিক ফাউন্ডেশন

যাতে তিনি এটা জানতে পারেন যে, তারা* তাদের রবের রিসালাত পৌঁছিয়েছে কিনা। আর তাদের কাছে যা রয়েছে, তা তিনি পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি প্রতিটি বস্তু গুণে গুণে হিসাব করে রেখেছেন।আল-বায়ান

এটা জানার জন্য যে, রসূলগণ তাদের প্রতিপালকের বাণী সত্যিই পৌঁছে দিয়েছে কিনা। রসূলদের কাছে যা আছে তা তিনি (স্বীয় জ্ঞান দ্বারা) পরিবেষ্টন করে রেখেছেন আর প্রত্যেকটি জিনিসকে গুণে গুণে রেখেছেন।তাইসিরুল

যেন তিনি জানতে পারেন যে তাঁরা তাঁদের প্রভুর বাণীসমূহ পৌঁছে দিয়েছেন কি না, আর তিনি ঘিরে আছেন তাঁদের কাছের সব- কিছু, আর তিনি সব-কিছুর হিসাব রাখেন গোনে-গোনে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৯

এর তিনটি অর্থ হতে পারে। এক, রসূল নিশ্চিতভাবে জানবেন যে, ফেরেশতারা তাঁর কাছে আল্লাহ‌ তা’আলার বাণীসমূহ ঠিক ঠিক পৌঁছিয়ে দিয়েছে। দুই, আল্লাহ‌ তা’আলা জানবেন যে, ফেরেশতারা তাদের রবের বাণীসমূহ তাঁর রসূলের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছিয়ে দিয়েছে। তিন, আল্লাহ‌ তা’আলা জানবেন যে রসূলগণ তাঁদের রবের বাণীসমূহ তাঁর বান্দাদের কাছে ঠিকমত পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। আয়াতটির শব্দমালা এ তিনটি অর্থেরই ধারক। অসম্ভব নয় যে, এখানে যুগপৎ এ তিনটি অর্থই বুঝানো হয়েছে। এছাড়াও আয়াতটির আরো দু’টি অর্থ হয়। প্রথমটি হলো রিসালাতের দায়িত্ব আঞ্জাম দেয়ার জন্য রসূলকে যতটুকু “ইলমে গায়েব” বা অদৃশ্য বিষয়ের জ্ঞান দান করা জরুরী ততটুকু জ্ঞান দান করা। দ্বিতীয়টি হলো, যেসব ফেরেশতাকে প্রহরা কাজে নিয়োজিত করা হয় তারা রসূল পর্যন্ত সুরক্ষিত পন্থায় অহী পৌঁছে যাওয়ার ব্যাপারটুকুই শুধু তত্ত্বাবধান করেন না বরং রসূল তাঁর রবের বাণীসমূহ তাঁর বান্দাদের কাছে যাতে পুরোপুরি পৌঁছিয়ে দিতে পারেন তার তত্ত্বাবধানও করে থাকেন।

৩০

অর্থাৎ আল্লাহর ক্ষমতা রসূল ও ফেরেশতা উভয়কে এমনভাবে পরিব্যাপ্ত করে আছে যে, তারা যদি তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে চুল পরিমাণ কাজও করেন তাহলে সঙ্গে সঙ্গে পাকড়াও হবেন। আর যে বাণীসমূহ আল্লাহ‌ পাঠান তার প্রতিটি বর্ণ গোণা ও হিসেব করা। তার একটি বর্ণের হ্রাস-বৃদ্ধি করার ক্ষমতাও রসূল বা ফেরেশতা করো নেই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

তাফসীরে জাকারিয়া

২৮. যাতে তিনি প্রকাশ করেন যে, অবশ্যই তারা তাদের রবের রিসালাত পৌছে দিয়েছেন।(১) আর তাদের কাছে যা আছে তা তিনি জ্ঞানে পরিবেষ্টন করে রেখেছেন এবং তিনি প্রতিটি বস্তু গণনা করে হিসেব রেখেছেন।(২)

(১) এর কয়েকটি অর্থ হতে পারে। এক. রাসূল নিশ্চিতভাবে জানবেন যে, ফেরেশতারা তাঁর কাছে আল্লাহ তা'আলার বাণীসমূহ ঠিক ঠিক পৌঁছিয়ে দিয়েছে। দুই. আল্লাহ তা'আলা জানবেন যে, রাসূলগণ তাঁদের রবের বাণীসমূহ তাঁর বান্দাদের কাছে ঠিকমত পৌছিয়ে দিয়েছেন। (ইবন কাসীর) আয়াতটির শব্দমালা সবগুলো অর্থেরই ধারক।

(২) অর্থাৎ প্রত্যেক বস্তুর পরিসংখ্যান আল্লাহ্ তা'আলারই গোচরীভুত। তিনি প্রত্যেকটি বস্তু বিস্তারিতভাবে জানেন, আর সব কিছুই তিনি হিসেব করে রেখেছেন, কোন কিছুই তার অজানা নয়। (মুয়াস্‌সার, কুরতুবী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(২৮) যাতে তিনি জেনে নেন, তারা তাদের প্রতিপালকের বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছে;(1) আর তাদের নিকট(2) যা আছে, তা তাঁর জ্ঞানায়ত্ত এবং তিনি প্রত্যেক জিনিসের সংখ্যা গুনে রেখেছেন। (3)

(1) لِيَعْلَمَ (যাতে তিনি বা সে---) এর সর্বনাম কার জন্য? কারো নিকট তা রসূল (সাঃ)-এর জন্য। অর্থাৎ, যাতে সে জেনে যায় যে, তার পূর্বের নবীরাও আল্লাহর পয়গাম ঐভাবেই পৌঁছিয়েছে, যেভাবে সে পৌঁছিয়েছে। অথবা দায়িত্বশীল ফিরিশতারা তাদের প্রতিপালকের পয়গাম পয়গম্বরের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। আবার কারো নিকট সর্বনাম মহান আল্লাহর জন্য ব্যবহার হয়েছে। আর তখন এর অর্থ হবে, মহান আল্লাহ ফিরিশতাদের মাধ্যমে তাঁর নবীদের হিফাযত করেন, যাতে তারা নবুঅতের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সক্ষম হয়। অনুরূপ নবীদের প্রতি কৃত অহীর হিফাযতও তিনি করেন, যাতে তিনি জেনে যান যে, তাঁর নবীরা তাদের প্রতিপালকের পয়গামগুলো ঠিকমত মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছে অথবা ফিরিশতারা পয়গম্বরদের কাছে আল্লাহর অহী পৌঁছে দিয়েছে। মহান আল্লাহ যদিও প্রতিটি বিষয়ে পূর্ব থেকেই জ্ঞাত থাকেন, তবুও এই ধরনের স্থানগুলোতে তাঁর জানার অর্থ হল, বিষয় সংঘটিত হওয়ার বাস্তবরূপ দর্শন। যেমন, {لِنَعْلَمَ مَنْ يَتَّبِعُ الرَّسُولَ} (যাতে জানতে পারি যে, কে রসূলের অনুসরণ করে---।) (বাক্বারাহঃ ১৪৩) {وَلَيَعْلَمَنَّ اللهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَيَعْلَمَنَّ المُنَافِقِينَ} (আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন কারা বিশ্বাসী এবং কারা মুনাফিক।) (আনকাবূতঃ ১১) ইত্যাদি আয়াতগুলোতে এসেছে। (ইবনে কাসীর)

(2) ফিরিশতাদের নিকট অথবা পয়গম্বরদের নিকট।

(3) কেননা, তিনিই হলেন অদৃশ্য বিষয়ে জ্ঞাতা। যা হয়ে গেছে এবং যা ভবিষ্যতে হবে, সব কিছুকে তিনি গণনা করে রেখেছেন। অর্থাৎ, সব কিছুই তাঁর জ্ঞানায়ত্ত রয়েছে।