আম ইয়াহছু দূ নান না-ছা ‘আলা-মাআ-তা-হুমুল্লাহু মিন ফাদলিহী ফাকাদ আ-তাইনাআ-লা ইবর-হীমাল কিতা-বা ওয়াল হিকমাতা ওয়া আ-তাইনা-হুম মুলকান ‘আজীমা।উচ্চারণ
তাহলে কি অন্যদের প্রতি তারা এ জন্য হিংসা করেছে যে, আল্লাহ তাদেরকে নিজের অনুগ্রহ দানে সমৃদ্ধ করেছেন। ৮৫ যদি এ কথাই হয়ে থাকে, তাহলে তাদের জেনে রাখা দরকার, আমি ইবরাহীমের সন্তানদেরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাদেরকে দান করেছি বিরাট রাজত্ব। ৮৬ তাফহীমুল কুরআন
নাকি তারা এই কারণে মানুষের প্রতি ঈর্ষা করে যে, তিনি তাদেরকে নিজ অনুগ্রহ দান করেন (কেন?)। আমি তো ইবরাহীমের বংশধরদিগকে কিতাব ও হিকমত দান করেছিলাম এবং তাদেরকে বিরাট রাজত্ব দিয়েছিলাম। #%৪৫%#মুফতী তাকী উসমানী
তাহলে কি তারা লোকদের প্রতি এ জন্য হিংসা করে যে, আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় সম্পদ হতে কিছু দান করেছেন? ফলতঃ নিশ্চয়ই আমি ইবরাহীম বংশীয়গণকে গ্রন্থ ও বিজ্ঞান দান করেছি এবং তাদেরকে বিশাল সাম্রাজ্য প্রদান করেছি।মুজিবুর রহমান
নাকি যাকিছু আল্লাহ তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে দান করেছেন সে বিষয়ের জন্য মানুষকে হিংসা করে। অবশ্যই আমি ইব্রাহীমের বংশধরদেরকে কিতাব ও হেকমত দান করেছিলাম আর তাদেরকে দান করেছিলাম বিশাল রাজ্য।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
বা আল্লাহ্ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন সেজন্যে কি তারা তাদেরকে ঈর্ষা করে ? আমি ইব্রাহীমের বংশধরকেও তো কিতাব ও হিকমত প্রদান করেছিলাম এবং তাদেরকে বিশাল রাজ্য দান করেছিলাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
বরং তারা কি লোকদেরকে হিংসা করে, আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তার কারণে? তাহলে তো আমি ইবরাহীমের বংশধরকে কিতাব ও হিকমত দান করেছি এবং তাদেরকে দিয়েছি বিশাল রাজত্ব।আল-বায়ান
কিংবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে লোকেদেরকে যেসব নি‘মাত দান করেছেন, সেজন্য কি এরা তাদের হিংসা করে, আমি ইবরাহীমের বংশধরদেরকেও তো কিতাব ও হিকমাত দিয়েছিলাম, তাদেরকে সুবিশাল রাজ্যও প্রদান করেছিলাম।তাইসিরুল
অথবা তারা কি লোকদের ঈর্ষা করে আল্লাহ্ তাঁর করুণাভান্ডার থেকে তাদের যা দিয়েছেন সেজন্য? তবে আমরা নিশ্চয়ই ইব্রাহীমের বংশধরদের দিয়েছি কিতাব ও জ্ঞানবিজ্ঞান, আর আমরা তাদের দিয়েছি এক বিশাল রাজত্ব।মাওলানা জহুরুল হক
৮৫
অর্থাৎ তারা নিজেদের অযোগ্যতা সত্ত্বেও নিজেরাই আল্লাহর যে অনুগ্রহ ও পুরস্কারের আশায় বসেছিল, অন্য লোকেরা যখন তা লাভ করে ধন্য হলো এবং আরবের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক মহান নবীর আবির্ভাবের মাধ্যমে এমন এক আধ্যাত্মিক, নৈতিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তিক ও বাস্তব জীবনধারার উদ্ভব হলো, যার অনিবার্য পরিণতি হচ্ছে, উত্থান, উন্নতি ও অগ্রগতি, তখন তারা হিংসায় জ্বলে পুড়ে মরছে। আর এই হিংসার কারণেই তাদের মুখ থেকে এসব কথা বের হচ্ছে।
৮৬
‘বিরাট রাজত্ব’ মানে দুনিয়ার নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব। আল্লাহর কিতাবের জ্ঞান লাভ করার এবং সেই জ্ঞান অনুযায়ী কাজ করার অনিবার্য ফল স্বরূপ পৃথিবীর জাতিদের নেতৃত্ব দান করার এবং তাদের ওপর কর্তৃত্ব করার ক্ষমতা অর্জিত হয়।
অর্থাৎ আল্লাহ তাআলা নিজ হিকমত অনুসারে যাকে সমীচীন মনে করেন নবুওয়াত, খিলাফত ও হুকুমতের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেন। সুতরাং তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে নবুওয়াত ও হিকমত দান করেন এবং তার বংশধরদের মধ্যে এ ধারা জারি রাখেন। ফলে তাদের মধ্যে কেউ নবী হওয়ার সাথে রাষ্ট্রনায়কও হন (যেমন হযরত দাঊদ ও সুলায়মান আলাইহিমাস সালাম)। নবুওয়াত ও হিকমতের এ ধারা এ যাবৎ তাঁর এক পুত্র (হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম)-এর বংশেই চালু ছিল। এখন যদি তাঁর অপর পুত্র (হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম)-এর বংশে হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সেই মর্যাদায় ভূষিত করা হয়, তাতে আপত্তি ও ঈর্ষার কী কারণ থাকতে পারে?
৫৪. অথবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন সে জন্য কি তারা তাদেরকে ঈর্ষা করে?(১) তবে আমরা তো ইবরাহীমের বংশধরকেও কিতাব ও হিকমত দিয়েছিলাম এবং আমরা তাদেরকে বিশাল রাজ্য করেছিলাম।
(১) এ আয়াতে ইয়াহুদীদের হিংসার কঠোর নিন্দা করা হয়েছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যে জ্ঞানৈশ্বর্য ও শান-শওকত দান করেছিলেন, তা দেখে ইয়াহুদীরা হিংসার অনলে জ্বলে মরত। আল্লাহ্ তাআলা এখানে তাদের সে হিংসা বিদ্বেষের কঠোর নিন্দা করেছেন এবং তাদের বিদ্বেষকে একান্ত অযৌক্তিক বলে আখ্যায়িত করে পরবর্তী আয়াতগুলোতে তার কারণ বর্ণনা করেছেন। তা হল এই যে, তোমাদের এই হিংসা ঈর্ষা ও বিদ্বেষের কারণটা কি? যদি এ কারণ হয়ে থাকে যে, তোমরাই প্রকৃত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অধিকারী অথচ তা তোমাদের হাতে না এসে তিনি পেয়ে গেছেন, তাহলে তোমাদের এ ধারণা যে একান্তই ভ্রান্ত তা সুস্পষ্ট।
কারণ এখন তোমরা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত। কিন্তু তোমরা যদি তা থেকে কোন অংশ প্রাপ্ত হতে, তাহলে তোমরা তো অন্য কাউকে একটি কড়িও দিতে না। পক্ষান্তরে যদি তোমাদের এ বিদ্বেষ এ কারণে হয়ে থাকে যে, রাজ-ক্ষমতা না হয় আমরা নাই পেলাম, কিন্তু তার হাতে যাবে কেন? রাষ্ট্রের সাথে তার কি সম্পর্ক? তাহলে তার উত্তর হল এই যে, ইনিও নবীগণেরই বংশধর, যাদের নিকট রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা পূর্ব থেকেই ছিল। কাজেই রাষ্ট্র কোন অপাত্রে অর্পিত হয়নি। অতএব, তোমাদের ঈর্ষা একান্তভাবেই অযৌক্তিক।
এখন জানা দরকার ঈর্ষা কি? আর তার পরিণামই বা কি? আলেমগণ বলেন, হাসাদ বা ঈর্ষা হচ্ছে, অন্যের প্রাপ্ত নেয়ামতের অপসারণ কামনা করা। যা হারাম ও নিন্দনীয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তোমরা পারস্পরিক হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করো না, পরস্পরের প্রতি মুখ ফিরিয়ে রেখো না; বরং আল্লাহর বান্দা ও পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও। আর কোন মুসলিম ভাইয়ের পক্ষে অন্য মুসলিম ভাইয়ের প্রতি তিন দিনের বেশী সময় পর্যন্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে রাখা জায়েয নয়। (বুখারী: ৬০৭৬; মুসলিমঃ ২৫৫৮)
(৫৪) অথবা আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে মানুষকে যা দিয়েছেন, সে জন্য কি তারা তাদের হিংসা করে?(1) ইব্রাহীমের বংশধরকেও তো ধর্মগ্রন্থ ও প্রজ্ঞা প্রদান করেছিলাম এবং তাদেরকে বিশাল রাজ্য দান করেছিলাম।
(1) اَم (নাকি, অথবা) بَل (বরং) অর্থেও ব্যবহার হতে পারে। অর্থাৎ, বরং এরা এই বলে হিংসা করে যে, মহান আল্লাহ বানী-ইসরাঈলদেরকে বাদ দিয়ে অন্যদের মধ্য থেকে (সর্বশেষ) নবী কেন বানালেন? আর এ কথা বিদিত যে, নবুঅত হল আল্লাহর সব থেকে বড় অনুগ্রহ।