ওয়া আন্নাল মাছা-জিদা লিল্লা-হি ফালা- তাদ‘ঊ মা‘আল্লা-হি আহাদা-।উচ্চারণ
আর মসজিদসমূহ আল্লাহর জন্য। তাই তোমরা আল্লাহর সাথে আর কাউকে ডেকো না। ১৯ তাফহীমুল কুরআন
এবং আমার কাছে ওহী এসেছে যে, সিজদাসমূহ আল্লাহরই প্রাপ্য। #%১০%# সুতরাং আল্লাহর সাথে অন্য কারও ইবাদত করো না।মুফতী তাকী উসমানী
এবং এই যে মাসজিদসমূহ, আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কেহকেও ডেকনা।মুজিবুর রহমান
এবং এই ওহীও করা হয়েছে যে, মসজিদসমূহ আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করার জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহ তা’আলার সাথে কাউকে ডেকো না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এবং এই যে মসজিদসমূহ আল্লাহ্ র ই জন্যে। সুতরাং আল্লাহ্ র সঙ্গে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
আর নিশ্চয় মসজিদগুলো আল্লাহরই জন্য। কাজেই তোমরা আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।আল-বায়ান
আরো এই যে, মাসজিদগুলো কেবলমাত্র আল্লাহরই জন্য, কাজেই তোমরা আল্লাহর সঙ্গে অন্য আর কাউকে ডেকো না।তাইসিরুল
আর এই যে মসজিদগুলো হচ্ছে আল্লাহ্র জন্য, সুতরাং তোমরা আল্লাহ্র সঙ্গে আর কাউকেও ডেকো না।মাওলানা জহুরুল হক
১৯
মুফাস্সিরগণ مَسَاجِد(মাছাজিদ) শব্দটি সাধারণভাবে ইবাদাতখানা বা উপসানলায় অর্থে গ্রহণ করেছেনঃ “মাসাজিদ” শব্দটি এ অর্থ গ্রহণ করলে আয়াতটির অর্থ হয় “উপাসনালয় সমূহে আল্লাহর ইবাদাতের সাথে সাথে আর কারো ইবাদাত যেন করা না হয়। হযরত হাসান বাসরী বলেনঃ সমস্ত পৃথিবীটাই ইবাদাতখানা বা উপাসনালয়। তাই আয়াতটির মূল বক্তব্য হলো আল্লাহর এ পৃথিবীতে কোথাও যেন শিরক করা না হয়। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বাণী থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন وَجُعِلَتْ لِىَ الاَرْضُ مَسْجِدًا وَطُهُوْرًا (আমার জন্য সমগ্র পৃথিবীকে ইবাদতের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের উপায় বানিয়ে দেয়া হয়েছে)। হযরত সাঈদ ইবনে জুবাইর মসজিদ বলতে যেসব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে মানুষ সিজদা করে সেগুলো অর্থাৎ হাত, হাঁটু, পা ও কপাল বুঝিয়েছেন। এ ব্যাখ্যানুসারে আয়াতটির অর্থ হলো, সমস্ত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আল্লাহর তৈরী। এগুলোর সাহায্যে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা যাবে না।
এ বাক্যটির আরেক তরজমা হতে পারে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই।
১৮. আর নিশ্চয় মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। কাজেই আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকে ডেকো না।(১)
(১) مساجد শব্দটি مسجد এর বহুবচন। মুফাসসিরগণ শব্দটি সাধারণভাবে ইবাদাতখানা বা উপাসনালয় অর্থে গ্রহণ করেছেন। তখন আয়াতের এক অর্থ এই যে, মসজিদসমূহ কেবল আল্লাহ তা'আলার ইবাদতের জন্যে নির্মিত হয়েছে। অতএব, তোমরা মসজিদে গিয়ে আল্লাহ্ তা'আলা ব্যতীত অন্য কাউকে সাহায্যের জন্যে ডেকো না। সেগুলোতে আল্লাহর ইবাদাতের সাথে সাথে আর কারো ইবাদত করো না। যেমন ইহুদী ও নাসারারা তাদের উপাসনালয়সমূহে এ ধরনের শির্ক করে থাকে। অনুরূপভাবে মসজিদসমূহকে ভ্রান্ত আকীদা-বিশ্বাস ও মিথ্যা কর্মকাণ্ড থেকেও পবিত্র রাখতে হবে। হাসান বাসরী বলেন, সমস্ত পৃথিবীটাই ইবাদাতখানা বা উপাসনালয়। তাই আয়াতটির মূল বক্তব্য হলো আল্লাহর এ পৃথিবীতে কোথাও যেন শিরক করা না হয়। তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বাণী থেকে প্রমাণ পেশ করেছেন, তিনি বলেছেন, “আমার জন্য সমগ্ৰ পৃথিবীকে ইবাদাতের স্থান এবং পবিত্রতা অর্জনের উপায় বানিয়ে দেয়া হয়েছে।” (বুখারী: ৩৩৫, তিরমিযী: ৩১৭)
সাঈদ ইবনে জুবাইর এর মতে, মসজিদ বলতে যেসব অংগ-প্রত্যংগের সাহায্যে মানুষ সিজদা করে সেগুলো অর্থাৎ হাত, হাঁটু, পা ও কপাল বুঝানো হয়েছে। এ ব্যাখ্যা অনুসারে আয়াতটির অর্থ হলো, সমস্ত অংগ-প্রত্যংগ আল্লাহর তৈরী। এগুলোর সাহায্যে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কাউকে সিজদা করা যাবে না। (কুরতুবী)
(১৮) আর এই যে, মসজিদসমূহ আল্লাহরই জন্য। সুতরাং আল্লাহর সাথে তোমরা অন্য কাউকেও ডেকো না।(1)
(1) মসজিদের অর্থ সিজদা করার জায়গা। সিজদাও নামাযের একটি রুকন। এই জন্য নামায পড়ার স্থানকে মসজিদ বলা হয়। আয়াতের উদ্দেশ্য স্পষ্ট যে, মসজিদগুলোর উদ্দেশ্য হল, কেবল এক আল্লাহর ইবাদত করা। তাই মসজিদগুলোতে অন্য কারো ইবাদত করা, অন্য কারো কাছে প্রার্থনা করা এবং অন্য কারো নিকট ফরিয়াদ করা ও সাহায্য চাওয়া জায়েয নয়। এই বিষয়গুলো তো এমনিতেই নিষেধ। কোথাও গায়রুল্লাহর ইবাদত করা জায়েয নয়। তবে মসজিদের কথা বিশেষ করে এই জন্য উল্লেখ করা হয়েছে যে, এগুলোর নির্মাণ করার উদ্দেশ্যই হল এক আল্লাহর ইবাদত করা। যদি এখানেও গায়রুল্লাহর আহবান আরম্ভ হয়ে যায়, তাহলে এটা অতি জঘন্য এবং অন্যায় আচরণ হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, বর্তমানে অনেক অজ্ঞ মুসলমান মসজিদগুলোতেও আল্লাহর সাথে অন্যকেও সাহায্যের জন্য আহবান করে। বরং মসজিদগুলোতে এমন এমন বাক্য লিপিবদ্ধ থাকে, যাতে আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্যের নিকট ফরিয়াদ করা হয়। فَلْيَبْكِ عَلَى الإِسْلاَمِ مَنْ كَانَ بَاكِيًا