লিনাফতিনাহুম ফীহি ওয়া মাইঁ ইউ‘রিদ‘আন যিকরি রব্বিহী ইয়াছলুকহু ‘আযা-বান সা‘আদা- ।উচ্চারণ
যাতে এ নিয়ামতের মাধ্যমে তাদের পরীক্ষা করতে পারি। ১৭ আর যারা তাদের প্রভুর স্মরণ থেকে বিমুখ হবে ১৮ তিনি তাদের কঠিন আযাবে নিক্ষেপ করবেন। তাফহীমুল কুরআন
এর মাধ্যমে তাদেরকে পরীক্ষা করার জন্য। আর কেউ তার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে আল্লাহ তাকে ক্রমবর্ধমান শাস্তিতে গেঁথে দেবেন।মুফতী তাকী উসমানী
যদ্বারা আমি তাদেরকে পরীক্ষা করতাম। যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ হতে বিমুখ হয় তিনি তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন।মুজিবুর রহমান
যাতে এ ব্যাপারে তাদেরকে পরীক্ষা করি। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাকে উদীয়মান আযাবে পরিচালিত করবেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যা দিয়ে আমি এদেরকে পরীক্ষা করতাম। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের স্মরণ হতে বিমুখ হয় তিনি তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাতে আমি তা দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি। আর যে তার রবের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাকে তিনি কঠিন আযাবে প্রবেশ করাবেন।আল-বায়ান
যেন আমি তা দিয়ে তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি (যে নি‘মাত পাওয়ার পর তারা শুকর-গুজার হয়, না না-ফরমান হয়)। যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তিনি তাকে কঠিন ‘আযাবে প্রবেশ করাবেন।তাইসিরুল
যেন আমরা তাদের পরীক্ষা করতে পারি তার দ্বারা। আর যে কেউ তার প্রভুর স্মরণ থেকে ফিরে থাকে, তিনি তাকে ঢুকিয়ে দেবেন চিরবর্ধমান শাস্তিতে।মাওলানা জহুরুল হক
১৭
অর্থাৎ তিনি দেখতে চান তারা নিয়ামত লাভ করার পর কৃতজ্ঞ থাকে কিনা এবং আমার দেয়া নিয়ামতসমূহ সঠিক ভাবে কাজে লাগায়, না ভ্রান্ত পথে কাজে লাগায়।
১৮
স্মরণ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়ার একটা অর্থ হলো, মানুষ আল্লাহর প্রেরিত উপদেশ গ্রহণ করবে না। আরেকটি অর্থ হলো, মানুষ আল্লাহর যিকরের কথা শোনা পছন্দই করবে না। এর আরেকটি অর্থ হলো, সে আল্লাহর ইবাদাত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে।
জিনদের ঘটনা শুনিয়ে মক্কাবাসীদের বলা হচ্ছে, জিনদের উল্লেখিত দলটি যেভাবে সত্য সন্ধানের প্রমাণ দিয়ে ঈমান এনেছে, তেমনি তোমাদেরও উচিত কুরআন মাজীদের প্রতি ঈমান নিয়ে আসা। তোমরা তা করলে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে পর্যাপ্ত বৃষ্টি দান করবেন। বৃষ্টির কথা বিশেষভাবে বলার কারণ, সে সময় মক্কাবাসী প্রচণ্ড খরার শিকার ছিল (বয়ানুল কুরআন)।
১৭. যা দ্বারা আমরা তাদেরকে পরীক্ষা করতে পারি। আর যে ব্যক্তি তার রবের স্মরণ হতে বিমুখ হয় তিনি তাকে দুঃসহ শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন।
(১৭) যার মাধ্যমে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করব। (1) আর যে ব্যক্তি তার প্রতিপালকের স্মরণ হতে বিমুখ হয়, তিনি তাকে কঠিন শাস্তিতে প্রবেশ করাবেন। (2)
(1)أَنْ لَّوِ اسْتَقَامُوْا (আর এই যে---) আয়াতটির সংযোগ হল أَنَّهُ اسْتَمَعَ نَفَرٌ مِّنَ الْجِنِّ (আমার প্রতি অহী প্রেরিত হয়েছে যে---) আয়াতের সাথে। অর্থাৎ, আর এ কথাও আমার প্রতি অহী করা হয়েছে যে,---। الطَّرِيْقَةِ অর্থ, সত্য-সরল পথ। অর্থাৎ, ইসলাম। غَدَقٌ অর্থ, প্রচুর। প্রচুর পানি বলতে পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, পৃথিবীতে মাল-ধন এবং বহু উপায়-উপকরণ দিয়ে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করব। যেমন, অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, {وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَى آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِمْ بَرَكَاتٍ مِنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ} অর্থাৎ, আর যদি জনপদের অধিবাসীরা ঈমান আনত এবং পরহেযগারী অবলম্বন করত, তাহলে আমি তাদের প্রতি আসমানী ও পার্থিব নিয়ামতসমূহের (দ্বার) উন্মুক্ত করে দিতাম।’’ (সূরা আ’রাফ ৯৬ আয়াত) আহলে কিতাবদের আলোচনায়ও এই কথাই বলা হয়েছে। (সূরা মায়িদাহ ৬৬ আয়াত) আবার কেউ কেউ বলেন, এই আয়াত সেই সময় অবতীর্ণ হয়, যখন কাফের কুরাইশদের উপর দুর্ভিক্ষ নেমে এসেছিল। الطَّرِيْقَةِ এর দ্বিতীয় অর্থ করা হয়েছে, ভ্রান্ত পথ। এই অর্থের দিক দিয়ে পার্থিব বরকত বা প্রাচুর্যের কথা ‘ইস্তিদরাজ’ (ক্রমান্বয়ে কিছু দিয়ে আবার কেড়ে নেওয়ার) অর্থে ব্যবহার হয়েছে। যেমন, অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, {فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ} অর্থাৎ, তাদেরকে যে উপদেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা যখন তা বিস্মৃত হল, তখন তাদের জন্য সমস্ত কিছুর দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম। (সূরা আনআম ৪৪ আয়াত) {أَيَحْسَبُونَ أَنَّمَا نُمِدُّهُمْ بِهِ مِنْ مَالٍ وَبَنِينَ، نُسَارِعُ لَهُمْ فِي الْخَيْرَاتِ অর্থাৎ, তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সাহায্য স্বরূপ যে ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি দান করি তার দ্বারা তাদের জন্যে সর্বপ্রকার মঙ্গল ত্বরান্বিত করছি? (সূরা মু’মিনূন ৫৫-৫৬ আয়াত) ইমাম ইবনে কাসীরের নিকট لِنَفْتِنَهُمْ (যাতে আমি তাদেরকে পরীক্ষা করি) এর দিকে লক্ষ্য করে এই দ্বিতীয় অর্থটাই বেশী সঙ্গতিপূর্ণ। পক্ষান্তরে ঈমাম শাওকানীর নিকট প্রথম অর্থটাই অধিক সঠিক।
(2) صَعَدًا، أي: عَذَابًا شَاقًّا شَدِيْدًا مُوْجِعًا مُؤْلِمًا অর্থাৎ, অত্যন্ত কঠিন ও কষ্টদায়ক আযাব বা শাস্তি।