وَأَنَّهُۥ كَانَ رِجَالٞ مِّنَ ٱلۡإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٖ مِّنَ ٱلۡجِنِّ فَزَادُوهُمۡ رَهَقٗا

ওয়া আন্নাহূক-না রিজা-লুম মিনাল ইনছি ইয়া‘ঊযূনা বিরিজা-লিম মিনাল জিন্নি ফাঝা-দূহুম রহাক- ।উচ্চারণ

আর “মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক জ্বীনদের কিছু লোকের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করতো। এভাবে তারা জ্বীনদের অহংকার আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।” তাফহীমুল কুরআন

এবং মানুষের মধ্যে কিছু লোক জিনদের কিছু লোকের আশ্রয় গ্রহণ করত। এভাবে তারা জিনদেরকে আরও বেশি আত্মম্ভরী করে তুলেছিল। মুফতী তাকী উসমানী

আর যে কতিপয় মানুষ কতক জিনের স্মরণ নিত, ফলে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।মুজিবুর রহমান

অনেক মানুষ অনেক জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্নম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

‘আরও এই যে, কতিপয় মানুষ কতক জিনের শরণ নিত, ফলে এরা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় কতিপয় মানুষ কতিপয় জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা তাদের অহংকার বাড়িয়ে দিয়েছিল।আল-বায়ান

আরো এই যে, কতক মানুষ কতক জ্বিনের আশ্রয় নিত, এর দ্বারা তারা জ্বিনদের গর্ব অহঙ্কার বাড়িয়ে দিয়েছে।তাইসিরুল

"আর এই যে মানুষের মধ্যের কিছু লোক জিনজাতির কিছু লোকের আশ্রয় নিত, ফলে ওরা তাদের পাপাচার বাড়িয়ে দিত,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

ইবনে আব্বাস বলেনঃ জাহেলী যুগে আরবরা যখন কোন জনহীন প্রান্তরে রাত্রি যাপন করতো তখন উচ্চস্বরে বলতো, “আমরা এ প্রান্তরের অধিপতি জ্বীনের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। “জাহেলী যুগের অন্যান্য বর্ণনাতেও এ বিষয়টির বহুল উল্লেখ দেখা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোন জায়গায় পানি এবং ঘাস ফুরিয়ে গেলে মুরুচারী যাযাবর বেদুঈনরা তাদের একজন লোককে এমন আরেকটি জায়গা খুঁজে বের করতে পাঠাতো যেখানে পানি এবং ঘাস পাওয়া যেতে পারে। অতঃপর উক্ত ব্যক্তির নির্দেশনা মুতাবিক এসব লোক নতুন জায়গায় পৌঁছলে সেখানে অবস্থান নেয়ার আগে চিৎকার করে বলতোঃ আমরা এ প্রান্তরের মালিকের আশ্রয় প্রার্থনা করছি, যাতে আমরা এখানে সব রকম বিপদ থেকে নিরাপদে থাকতে পারি। ” তাদের বিশ্বাস ছিল, প্রত্যেক জনমানবহীন জায়গা কোন না কোন জ্বীনের দখলে আছে। তার আশ্রয় প্রার্থনা ছাড়াই কেউ যদি সেখানে অবস্থান করে তাহলে সে জিন হয় নিজেই তাদের উত্যক্ত করে কিংবা অন্য জিনদের উত্যক্ত করার জন্য লেলিয়ে দেয়। ঈমান আনয়নকারী এ জিনরা এ বিষয়টির প্রতিই ইঙ্গিত করেছে। তাদের কথার অর্থ হলো এ পৃথিবীর খলিফা বা প্রতিনিধি মানুষ। তারাই যখন উল্টা আমাদের ভয় করতে শুরু করেছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে আমাদের আশ্রয় প্রার্থনা করতে শুরু করেছে তখন আমাদের জাতির লোকদের মস্তিষ্ক বিকৃতি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের গর্ব, অহংকার এবং কুফরী ও জুলুম অত্যাচারের মাত্রা অত্যধিক বেড়ে গিয়েছে এবং গোমরাহীর ক্ষেত্রে তারা আরো বেপরোয়া হয়ে গিয়েছে।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

জাহেলী যুগে মানুষ তাদের সফরকালে যখন বন-জঙ্গলে পৌঁছাত, তখন সেখানকার জিনদের আশ্রয় নিত। অর্থাৎ বনের জিনদের কাছে আবেদন করত, তারা যেন তাদেরকে নিজেদের আশ্রয়ে রেখে কষ্টদায়ক জীবজন্তু থেকে তাদেরকে রক্ষা করে। এ কারণে জিনরা মনে করত, তারা মানুষ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ, যেহেতু মানুষ তাদের আশ্রয়ের মুখাপেক্ষী। এর ফলে তাদের গোমরাহী ও অহমিকা আরও বৃদ্ধি পায়।

তাফসীরে জাকারিয়া

৬. এও যে, কিছু কিছু মানুষ কিছু জিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিয়েছিল।(১)

(১) জাহেলী যুগে আরবরা যখন কোন জনহীন প্ৰান্তরে রাত্রি যাপন করতো তখন উচ্চস্বরে বলতো, আমরা এ প্রান্তরের অধিপতি জিনের আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এভাবে ভয় পেলে মানুষরা জিনের আশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করত। ফলে জিনের আত্মম্ভরিতা বেড়ে যায়। আয়াতটির আরেকটি অর্থও হতে পারে, এভাবে আশ্রয়-গ্রহণের চেষ্টা করার পরও জিনরা মানুষদের উল্টো ভয় দেখাত। (সা’দী)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৬) আর কতিপয় মানুষ কতক জ্বিনদের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করত,(1) ফলে তারা জ্বিনদের অহংকার(2) বাড়িয়ে দিত।

(1) জাহেলিয়াতের যুগে একটি প্রচলন এও ছিল যে, যখন তারা সফরে কোথাও যেত, তখন যে উপত্যকায় তারা অবস্থান করত, সেখানকার জ্বিনদের কাছে আশ্রয় কামনা করত; যেমন, অঞ্চলের বিশেষ ব্যক্তি এবং সরদারের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়। ইসলাম এ প্রচলন বাতিল ঘোষণা করে কেবলমাত্র এক আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করার উপর তাকীদ করেছে।

(2) অর্থাৎ, যখন জ্বিনরা লক্ষ্য করল যে, মানুষ আমাদেরকে ভয় পায় এবং আমাদের কাছে আশ্রয় কামনা করে, তখন তাদের ঔদ্ধত্য ও অহংকার আরো বেড়ে গেল। এখানে رَهَقًا এর অর্থ হল ঔদ্ধত্য, অবাধ্যতা এবং অহংকার। এর আসল অর্থ হল, (ঢাকা) পাপ এবং হারাম কাজ সম্পাদন করা। (এর এক অর্থ ভয় করাও হয়। অর্থাৎ, মানুষরা জ্বিনদের কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করলে, জ্বিনরা মানুষদের ভয় বৃদ্ধি করত। দ্রঃ ফাতহুল ক্বাদীর -সম্পাদক)