وَأَنَّهُمۡ ظَنُّواْ كَمَا ظَنَنتُمۡ أَن لَّن يَبۡعَثَ ٱللَّهُ أَحَدٗا

ওয়া আন্নাহুম জান্নুকামা-জানানতুম আল্লাইঁ ইয়াব‘আছাল্লা- হু আহাদা- ।উচ্চারণ

আর “তোমরা যেমন ধারণা পোষণ করতে মানুষেরাও ঠিক তেমনি ধারণা পোষণ করেছিল যে, আল্লাহ‌ কাউকে রসূল বানিয়ে পাঠাবেন না।” তাফহীমুল কুরআন

এবং তোমরা যেমন ধারণা করতে, তেমনি মানুষও ধারণা করেছিল, আল্লাহ কাউকেই মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করবেন না। মুফতী তাকী উসমানী

আর জিনরা বলেছিলঃ তোমাদের মত মানুষও মনে করে যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ কেহকেও পুনরুত্থিত করবেননা।মুজিবুর রহমান

তারা ধারণা করত, যেমন তোমরা মানবেরা ধারণা কর যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ তা’আলা কখনও কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

আরও এই যে, জিনেরা বলেছিল, ‘তোমাদের মত মানুষও মনে করে যে, মৃত্যুর পর আল্লাহ্ কাউকেও পুনরুত্থিত করবেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

আর নিশ্চয় তারা ধারণা করেছিল যেমন তোমরা ধারণা করেছ যে, আল্লাহ কাউকে কখনই পুনরুত্থিত করবেন না।আল-বায়ান

আরো এই যে (জ্বিনেরা বলেছিল) তোমরা (জ্বিনেরা) যেমন ধারণা করতে তেমনি মানুষেরা ধারণা করত যে, (মৃত্যুর পর) আল্লাহ কাউকে পুনরুত্থিত করবে না।তাইসিরুল

"আর এই যে তারা ভেবেছিল যেমন তোমরা ভাবছো যে আল্লাহ্ কাউকেও পুনরুত্থিত করবেন না,মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

মূল ভাষ্য হচ্ছে اَنْ لَّنْ يُّبْعَثَ اللهُ اَحَدًا এ আয়াতাংশের দু’টি অর্থ হতে পারে। একটি আমরা যা অনুবাদ করেছি। অপরটি হলো, “মৃত্যুর পর আল্লাহ‌ তা’আলা কাউকে আর জীবিত করে উঠাবেন না। ” যেহেতু কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক তাই তার এ অর্থও গ্রহণ করা যেতে পারে যে, মানুষের মত জিনদের মধ্যে একদল আখেরাতকে অস্বীকার করতো। কিন্তু পরবর্তী বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যের দিক থেকে প্রথম অর্থটিই অধিক অগ্রাধিকার পাওয়ার যোগ্য। কারণ, পরবর্তী আয়াতসমূহে এ বিষয়টির উল্লেখ আছে যে, ঈমান আনয়নকারী এসব জিন তাদের কওমকে বলছে, আল্লাহ‌ আর কোন রসূল পাঠাবেন না। তোমাদের এ ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের জন্য আসমানের দরজা বন্ধ করার কারণ হলো আল্লাহ‌ একজন রসল পাঠিয়েছেন।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

একথা জিনেরা তাদের অপর জিন ভাইদের লক্ষ্য করে বলেছিল। বোঝাচ্ছিল যে, তোমরা যেমন আখেরাত বিশ্বাস করতে না, তেমনি মানুষেরও তাতে বিশ্বাস ছিল না। কিন্তু সেটা যে মহা ভুল তা এখন প্রমাণ হয়ে গেছে।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. এও যে, তারা ধারণা করেছিল যেমন তোমরা ধারণা কর(১) যে, আল্লাহ কাউকেও কখনো পুনরুত্থিত করবেন না।(২)

(১) আয়াতাংশের দু'টি অর্থ হতে পারে। এক. মানুষেরা ধারণা করেছিল, যেমন হে জিন্ন সম্প্রদায় তোমরা ধারণা করেছিলে’। (মুয়াস্‌সার) দুই. জিন্নরা ধারণা করেছিল, যেমন হে মানব সম্প্রদায় তোমরা ধারণা করেছিলে। (কুরতুবী) উভয় অর্থের মূল কথা হলো, মানুষ ও জিন্ন উভয় সম্প্রদায়ের পথভ্রষ্টদের ধারণার বিপরীতে এ কুরআন এক স্বচ্ছ হিদায়াত নিয়ে এসেছে।

(২) এ আয়াতাংশের দুটি অর্থ হতে পারে। একটি হলো, “মৃত্যুর পর আল্লাহ তা'আলা কাউকে আর জীবিত করে উঠবেন না।” যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। অপরটি হলো, ‘আল্লাহ কাউকে রাসূল বানিয়ে পাঠাবেন না।” (কুরতুবী) যেহেতু কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক তাই তার এ অৰ্থও গ্রহণ করা যেতে পারে যে, মানুষের মত জিনদের মধ্যে একদল আখেরাতকে অস্বীকার করতো। কিন্তু পরবর্তী বিষয়ের সাথে সামঞ্জস্যের দিক থেকে দ্বিতীয় অর্থটিই অধিক অগ্ৰাধিকার পাওয়ার যোগ্য।

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭) আর তারা (মানুষরা)ও ধারণা করে; যেমন তোমরা ধারণা কর যে, আল্লাহ কখনই কাউকেও (মৃত্যুর পর) পুনরুত্থিত করবেন না।(1)

(1) بَعْثٌ এর দু’টি অর্থ হতে পারে, আল্লাহ কাউকে পুনরুত্থিত করবেন না অথবা তিনি কাউকে নবীরূপে প্রেরিত করবেন না।