ওয়া কাদ আদাল্লুকাছীরওঁ ওয়ালা-তাঝিদিজ্জা-লিমীনা ইল্লা-দালা-লা- ।উচ্চারণ
অথচ এসব দেব-দেবী বহু লোককে গোমরাহীতে নিক্ষেপ করেছে। তুমিও এসব জালেমদের জন্য গোমরাহী ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করো না। ১৮ তাফহীমুল কুরআন
এভাবে তারা বহুজনকে বিপথগামী করেছে। সুতরাং (হে আমার প্রতিপালক!) আপনিও এই জালেমদের কেবল বিপথগামিতাই বৃদ্ধি করে দিন।মুফতী তাকী উসমানী
তারা অনেককে বিভ্রান্ত করছে; সুতরাং যালিমদের বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি করেনা।মুজিবুর রহমান
অথচ তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে। অতএব আপনি জালেমদের পথভ্রষ্টতাই বাড়িয়ে দিন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘এরা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে; সুতরাং জালিমদের বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি কর না।’ ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘বস্তুত তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেছে, আর (হে আল্লাহ) আপনি যালিমদেরকে ভ্রষ্টতা ছাড়া আর কিছুই বাড়াবেন না’।আল-বায়ান
তারা গুমরাহ করেছে অনেককে, তুমি যালিমদের গুমরাহী ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করো না।তাইসিরুল
আর তারা অনেককে পথভ্রষ্ট করেই ফেলেছে। আর তুমি অন্যায়াচারীদের বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই বাড়াচ্ছ না!মাওলানা জহুরুল হক
১৮
এ সূরার ভূমিকাতেই আমরা এ বিষয়টি উল্লেখ করেছি যে, হযরত নূহ আলাইহিস সালামের এ বদদোয়া কোন প্রকার ধৈর্যহীনতার কারণ ছিল না। বরং এ বদদোয়া তাঁর মুখ থেকে তখনই উচ্চারিত হয়েছিল যখন তাবলীগ ও দাওয়াতের ক্ষেত্রে শত শত বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর তিনি তাঁর জাতির ব্যাপারে পুরোপুরি নিরাশ হয়েছিলেন। হযরত মূসাও এরূপ পরিস্থিতিতেই ফেরাউন ও ফেরাউনের কওমের জন্য এ বলে বদদোয়া করেছিলেনঃ “হে প্রভু! তুমি এদের অর্থ-সম্পদ ধ্বংস করে দাও এবং তাদের দিলের ওপর মোহর লাগিয়ে দাও, এরা কঠিন আযাব না দেখা পর্যন্ত ঈমান আনবে না।” তার জবাবে আল্লাহ তা’আলা বলেছিলেনঃ তোমার দোয়া কবুল করা হয়েছে। (ইউনূস, আয়াত ৮৮-৮৯) হযরত মূসা আলাইহিস সালামের বদদোয়ার মত নূহ আলাইহিস সালামের এ বদদোয়াও ছিল আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিধ্বনি। তাই সূরা হূদে আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ
وَ اُوْحِىَ اِلَى نُوْحٍ اَنَّهُ لَنْ يُّؤْمِنَ مِنْ قَوْمِكَ اِلاَّ مَنْ قَدْ اَمَنَ فَلاَ تَبْتَئِسْ بَمَا كَا نُوْا يَفْعَلُوْنَ
“আর অহী পাঠিয়ে নূহকে জানিয়ে দেয়া হলো, এ পর্যন্ত তোমার কওমের যেসব লোক ঈমান এনেছে এখন তারা ছাড়া আর কেউ ঈমান আনবে না। তাদের কৃতকর্মের জন্য আর দুঃখ করো না।” (হূদ, ৩৬)
২৪. বস্তুত তারা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে; কাজেই আপনি যালিমদের বিভ্রান্তি ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করবেন না।(১)
(১) অর্থাৎ এই যালেমদের পথভ্রষ্টতা আরও বাড়িয়ে দিন। এখানে প্রশ্ন হয় যে জাতিকে সৎপথ প্রদর্শন করা রাসূলগণের কর্তব্য নূহ আলাইহিস সালাম তাদের পথভ্রষ্টতার দো'আ করলেন কিভাবে? জওয়াব এই যে, প্রকৃতপক্ষে নূহ আলাইহিস সালাম দীর্ঘকাল তাদের মাঝে থেকে বুঝে গিয়েছিলেন যে, এখন তাদের মধ্যে কেউ ঈমান আনবে না। সেমতে পথভ্রষ্টতা ও কুফরের উপর তাদের মৃত্যু নিশ্চিত ছিল। নূহ আলাইহিস সালাম তাদের পথভ্রষ্টতা বাড়িয়ে দেয়ার দো'আ করলেন যাতে সত্ত্বরই তারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। (দেখুন: আয়সারুত তাফসীর)
(২৪) তারা অনেককে বিভ্রান্ত করেছে; (1) সুতরাং অনাচারীদের বিভ্রান্তি ব্যতীত আর কিছুই বৃদ্ধি করো না।’
(1) أَضَلُّوا ক্রিয়ার কর্তা (তারা) হল নূহ (আঃ)-জাতির মান্য লোকেরা। অর্থাৎ, তারা বহু সংখ্যক লোককে ভ্রষ্ট করেছিল। উদ্দেশ্য হল, উল্লিখিত ঐ পাঁচ নেক লোকের প্রতিমা। জাতির ভ্রষ্টতায় তাঁদের হাত না থাকলেও তাঁদেরকে কেন্দ্র করেই লোকেরা ভ্রষ্ট হয়েছিল। আর সে জন্যই ক্রিয়ার সম্বন্ধ তাঁদের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। যেমন, ইবরাহীম (আঃ)-ও বলেছিলেন, رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ ‘‘হে আমার পালনকর্তা! ওরা অনেক মানুষকে বিপথগামী করেছে।’’ (সূরা ইবরাহীম ৩৬ আয়াত)