ওয়া কাদ খালাকাকুম আতওয়া-র- ।উচ্চারণ
অথচ তিনিই তোমাদের পর্যায়ক্রমে সৃষ্টি করেছেন। ১৪ তাফহীমুল কুরআন
অথচ তিনি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন ধাপে ধাপে। মুফতী তাকী উসমানী
অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে।মুজিবুর রহমান
অথচ তিনি তোমাদেরকে বিভিন্ন রকমে সৃষ্টি করেছেন।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
‘অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
‘অথচ তিনি তোমাদেরকে নানা স্তরে সৃষ্টি করেছেন’।আল-বায়ান
অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন নানান স্তর অতিক্রম করিয়ে।তাইসিরুল
"অথচ তিনি তোমাদের সৃষ্টি করেইছেন স্তরে-স্তরে।মাওলানা জহুরুল হক
১৪
অর্থাৎ সৃষ্টিকর্মের বিভিন্ন পর্যায় ও স্তর অতিক্রম করে তোমাদের বর্তমান অবস্থায় পৌঁছানো হয়েছে। প্রথমে তোমরা বীর্য আকারে মা-বাপের দেহে ছিলে। অতঃপর আল্লাহর বিধান ও সৃষ্টি কৌশল অনুসারে এ দু’টি বীর্য সংমিশ্রিত হয়ে তোমরা মাতৃগর্ভে স্থিতি লাভ করেছিলে। এরপর মাতৃগর্ভে দীর্ঘ নয়টি মাস ধরে ক্রমবিকাশ ও উন্নয়ন ঘটিয়ে তোমাদের পূর্ণাঙ্গ মানবাকৃতি দেয়া হয়েছে এবং মানুষ হিসেবে দুনিয়াতে কাজ করার জন্য যে শক্তি ও যোগ্যতার প্রয়োজন তা তোমাদের মধ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে। তারপর তোমরা একটি জীবন্ত শিশু হিসেবে মাতৃগর্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছো, প্রতি মুহূর্তেই একটি অবস্থা থেকে আরেকটি অবস্থায় তোমাদের উত্তরণ ঘটানো হয়েছে। অবশেষে তোমরা যৌবনে ও প্রৌঢ়ত্যে উপনীত হয়েছো। এসব পর্যায় অতিক্রম কালে প্রতি মুহূর্তেই তোমরা পুরোপুরি আল্লাহর নিয়ন্ত্রণ ও কবজায় ছিলে। তিনি ইচ্ছা করলে তোমার জন্মের জন্য গর্ভ সঞ্চারই হতে দিতেন না এবং সে গর্ভে তোমার পরিবর্তে অন্য কেউ স্থিতিলাভ করতো। তিনি চাইলে মাতৃগর্ভেই তোমাদের অন্ধ, বধির, বোবা কিংবা বিকলাঙ্গ করে দিতেন অথবা তোমাদের বিবেক-বুদ্ধি বিশৃঙ্খল ও ত্রুটিপূর্ণ করে দিতেন। তিনি চাইলে তোমরা জীবন্ত শিশুরূপে জন্ম লাভই করতে পারতে না। জন্মলাভের পরও যে কোন মুহূর্তে তিনি তোমাদের ধ্বংস করতে পারতেন। তাঁর একটি মাত্র ইঙ্গিতেই তোমরা কোন দুর্ঘটনার শিকার হয়ে যেতে। যে আল্লাহর কর্তৃত্ব ও নিয়ন্ত্রণে তোমরা এতটা অসহায় তাঁর সম্পর্কে কি করে এ ধারণা পোষণ করে বসে আছো যে, তাঁর সাথে সব রকম ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অকৃতজ্ঞতার আচরণ করা যেতে পারে, তাঁর বিরুদ্ধে সব রকম বিদ্রোহ করা যেতে পারে, কিন্তু এসব আচরণের জন্য তোমাদের কোন শাস্তি ভোগ করতে হবে না?
ইশারা করা হয়েছে যে, শুক্রবিন্দু হতে পূর্ণাঙ্গ মানবরূপ লাভ করা পর্যন্ত মানুষকে বিভিন্ন পর্যায় অতিক্রম করতে হয়, যেমন সূরা হজ্জ (২২ : ৫) ও সূরা মুমিনূন (২৩ : ১৪)-এ বিস্তারিত বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমিক এ সৃজন আল্লাহ তাআলার মহা শক্তির পরিচয় বহন করে। এই মহামহিম সত্তা যে তোমাদেরকে পুনরায়ও সৃষ্টি করার ক্ষমতা রাখেন এ বিষয়ে তোমরা কেন সন্দেহ করছ?
১৪. অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পৰ্যায়ক্রমে(১),
(১) অর্থাৎ সৃষ্টিকর্মের বিভিন্ন পর্যায় ও স্তর অতিক্রম করে তোমাদের বর্তমান অবস্থায় পৌছানো হয়েছে। প্রথমে বীর্য আকারে, মাতৃগর্ভে, দুগ্ধপানরত অবস্থায়, অবশেষে তোমরা যৌবন ও প্রৌঢ়ত্যে উপনীত হয়েছ। এসব পর্যায় প্রতিটিই মহান আল্লাহর সৃষ্টি। যিনি এগুলো সৃষ্টি করেন, তিনিই একমাত্র ইবাদতের যোগ্য। আর তিনিই মৃত্যুর পর তাদেরকে পুনরুত্থিত করতে সক্ষম। (সা'দী)
(১৪) অথচ তিনিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন পর্যায়ক্রমে। (1)
(1) অর্থাৎ, প্রথমে বীর্য থেকে। তারপর সেটাকে রক্তপিন্ডে পরিণত করে। অতঃপর সেটাকে গোশতপিন্ডে রূপান্তরিত করে। এর পর হাড় বানিয়ে তার উপর গোশত চড়িয়ে পরিপূর্ণ আকৃতি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়। এর বিস্তারিত আলোচনা সূরা হাজ্জ ৫নং, সূরা মু’মিনুন১৪নং এবং সূরা মু’মিন ৬৭নং আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে।