كَلَّآۖ إِنَّا خَلَقۡنَٰهُم مِّمَّا يَعۡلَمُونَ

কাল্লা ইন্না- খালাকনা-হুম মিম্মা-ইয়া‘লামূন।উচ্চারণ

কখখনো না। আমি যে জিনিস দিয়ে তাদের সৃষ্টি করেছি তারা নিজেরা তা জানে। ২৬ তাফহীমুল কুরআন

কখনও এরূপ হবে না। আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি এমন জিনিস দ্বারা যা তারা জানে। #%১২%#মুফতী তাকী উসমানী

না তা হবেনা, আমি তাদেরকে যা হতে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে।মুজিবুর রহমান

কখনই নয়, আমি তাদেরকে এমন বস্তু দ্বারা সৃষ্টি করেছি, যা তারা জানে।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

কখনো না, আমি এদেরকে যা হতে সৃষ্টি করেছি তা এরা জানে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

কখনো নয়, নিশ্চয় আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি তারা যা জানে তা থেকে।আল-বায়ান

কক্ষনো না, আমি তাদেরকে কী থেকে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে (এমন নগণ্য বস্তু থেকে সৃষ্ট মানুষ কেবল মানুষ হয়ে জন্ম নেয়ার কারণেই জান্নাতে চলে যাবে এ রকম লোভ করা বড়ই অবিবেচনাপ্রসূত ব্যাপার)।তাইসিরুল

কখনই না। নিঃসন্দেহ আমরা কি দিয়ে তাদের গড়েছি তা তারা জানে।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

২৬

এখানে এ আয়াতাংশের দু’টি অর্থ হতে পারে। আগে বর্ণিত বিষয়ের সাথে সম্পর্কিত ধরে নিলে এর অর্থ হবে, যে উপাদানে এসব লোককে সৃষ্টি করা হয়েছে সে হিসেবে সব মানুষ সমান। জান্নাতে যাওয়ার কারণ যদি ঐ উপাদানটি হয় তাহলে সৎ ও অসৎ, জালেম ও ন্যায়নিষ্ঠা, অপরাধী ও নিরপরাধ সবারই জান্নাতে যাওয়া উচিত। কিন্তু জান্নাতে যাওয়ার অধিকার যে, মানুষের সৃষ্টির উপাদানের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় না বরং শুধু তার গুণাবলীর ভিত্তিতে সৃষ্টি হয়। এ বিষয়টির ফায়সালার জন্য সাধারণ বিবেক-বুদ্ধিই যথেষ্ট। আর এ আয়াতাংশকে যদি পরবর্তী বিষয়ের পূর্বাভাস বা ভূমিকা হিসেবে ধরে নেয়া হয় তাহলে তার অর্থ হবে এসব লোক নিজেরাই নিজেদেরকে আমার আযাব থেকে নিরাপদ মনে করছে আর যে ব্যক্তি আমরা কাছে জবাবদিহি সম্পর্কে তাদেরকে সাবধান করে দেয় তাকে বিদ্রূপ ও হাসি-তামাসা করছে। অথচ আমি চাইলে যখন ইচ্ছা দুনিয়াতেও তাদেরকে আযাব দিতে পারি আবার যখন ইচ্ছা মৃত্যুর পর পুনরায় জীবিত করেও উঠাতে পারি। তারা জানে নগণ্য এক ফোটা বীর্য দিয়ে আমি তাদের সৃষ্টির সূচনা করেছি এবং তারপর তাদেরকে সচল ও সক্ষম মানুষ বানিয়েছি। তাদের এ সৃষ্টি কৌশল সম্পর্কে যদি তারা চিন্তা-ভাবনা করতো তাহলে কখনো এ ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী তারা হতো না যে, এখন তারা আমার কর্তৃত্বের গণ্ডির বাইরে কিংবা আমি তাদেরকে পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম নই।

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

অর্থাৎ তারা জানে আমি তাদেরকে সৃষ্টি করেছি শুত্রুবিন্দু হতে, অথচ শুক্রবিন্দু হতে মানবরূপ পর্যন্ত পৌঁছতে কতগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয়। তো আল্লাহ তাআলা যখন এতগুলো ধাপ অতিক্রম করিয়ে এক বিন্দু শুক্রকে জ্যান্ত-জাগ্রত মানুষ বানাতে সক্ষম, তিনি সেই মানুষের লাশকে পুনরায় জীবিত করতে পারবেন না?

তাফসীরে জাকারিয়া

৩৯. কখনো নয়(১), আমরা তাদেরকে যা থেকে সৃষ্টি করেছি তা তারা জানে।(২)

(১) অর্থাৎ তারা যা মনে করে, যা ইচ্ছা করে, ব্যাপার আসলে তা নয়। (সা'দী)

(২) বুসর ইবনে জাহহাস আল-কুরাশী বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (فَمَالِ الَّذِينَ كَفَرُوا قِبَلَكَ مُهْطِعِينَ ٭ عَنِ الْيَمِينِ وَعَنِ الشِّمَالِ عِزِينَ ٭ أَيَطْمَعُ كُلُّ امْرِئٍ مِنْهُمْ أَنْ يُدْخَلَ جَنَّةَ نَعِيمٍ ٭ كَلَّا إِنَّا خَلَقْنَاهُمْ مِمَّا يَعْلَمُونَ) এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন, তারপর তার হাতের তালুতে থুথু ফেলে বললেন, আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! কিভাবে তুমি আমাকে অপারগ করবে? অথচ তোমাকে আমি এর (থুথুর) মত বস্তু থেকে সৃষ্টি করেছি। তারপর যখন তোমাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুন্দর অবয়ব দান করে সৃষ্টি করেছি তখন তুমি দুটি দামী মূল্যবান চাদরে নিজেকে জড়িয়ে যমীনের উপর এমনভাবে চলাফেরা করেছ। যে, যমীন কম্পিত হয়েছে, তারপর তুমি সম্পদ জমা করেছ, তা থেকে দিতে নিষেধ করেছ। শেষ পর্যন্ত যখন প্ৰাণ কণ্ঠাগত হয়েছে তখন বল, আমি দান-সদকা করব! তখন কি আর সদকার সময় বাকী আছে?! (ইবনে মাজাহ: ২৭০৭, মুস্তাদরাকে হাকিম: ২/৫০২)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৩৯) না, তা হবে না।(1) নিশ্চয় আমি তাদেরকে এমন বস্তু হতে সৃষ্টি করেছি, যা তারা জানে। (2)

(1) অর্থাৎ, এটা হতে পারে না যে, মু’মিন এবং কাফের উভয়েই জান্নাতে প্রবেশ করবে। যাঁরা রসূল (সাঃ)-কে বিশ্বাস করেছে এবং যারা তাঁকে মিথ্যা ভেবেছে তারা উভয়েই আখেরাতের নিয়ামত লাভ করবে? এ রকম হতেই পারে না।

(2) অর্থাৎ, مَاءٍ مَهِيْنٍ (তুচ্ছ বীর্যবিন্দু) হতে। এটাই যখন প্রকৃত ব্যাপার, তখন অহংকার করা কি মানুষের শোভা পায়? যে অহংকারের কারণেই সে আল্লাহ ও তাঁর রসূলকে মিথ্যা ভাবে।