فَأَمَّا مَنۡ أُوتِيَ كِتَٰبَهُۥ بِيَمِينِهِۦ فَيَقُولُ هَآؤُمُ ٱقۡرَءُواْ كِتَٰبِيَهۡ

ফাআম্মা-মান ঊতিয়া কিতা-বাহূবিইয়ামীনিহী ফাইয়াকূলুহাউমুকরঊ কিতা-বিয়াহ।উচ্চারণ

সে সময় যাকে তার আমলনামা ডান হতে দেয়া হবে, ১২ সে বলবেঃ নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখো। ১৩ তাফহীমুল কুরআন

অতঃপর যাকে আমলনামা দেওয়া হবে তার ডান হাতে, সে বলবে, হে লোকজন! এই যে আমার আমলনামা, তোমরা পড়ে দেখ।মুফতী তাকী উসমানী

তখন যাকে তার ‘আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবেঃ নাও, আমার ‘আমলনামা পাঠ করে দেখ।মুজিবুর রহমান

অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবেঃ নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

তখন যাকে তার ‘আমলনামা তার দক্ষিণ হস্তে দেওয়া হবে, সে বলবে, ‘লও, আমার ‘আমলনামা, পড়ে দেখ ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তখন যার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ’।আল-বায়ান

তখন যাকে তার ‘আমালনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে সে বলবে, ‘এই যে আমার ‘আমালানামা পড়ে দেখ,তাইসিরুল

তারপর যাকে তার বই তার ডান হাতে দেয়া হবে সে তখন বলবে -- "নাও, আমার এই বই পড়ে দেখো!মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

১২

ডান হাতে আমলনামা দেয়ার অর্থই হবে তার হিসেব-নিকেশ অত্যন্ত পরিষ্কার। আর সে আল্লাহ‌ তাআলার আদালতে অপরাধী হিসেবে নয়, বরং একজন সৎ ও সত্যনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে উপস্থিত হতে যাচ্ছে। অধিকতর সম্ভাবনা হলো, আমলনামা দেয়ার সময়ই সৎ ও সত্যনিষ্ঠ মানুষগুলো নিজেরাই ডান হাত বাড়িয়ে আমলনামা গ্রহণ করবে কারণ মৃত্যুর সময় থেকে হাশরের ময়দানে উপস্থিত হওয়ার সময় পর্যন্ত তার সাথে যে আচরণ করা হবে তাতে তার মনে এতটা আস্থা ও প্রশান্তি থাকবে যে, সে মনে করবে আমাকে এখানে পুরস্কার প্রদানের জন্য হাজির করা হচ্ছে, শাস্তিদানের জন্য নয়। একজন মানুষ সৎ ও সত্যনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরপারে যাত্রা করছে, না অসৎ ও পাপী হিসেবে যাত্রা করছে মৃত্যুর সময় থেকেই তা তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। একথাটি কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে। তাছাড়া মৃত্যুর সময় থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত একজন নেককার মানুষের সাথে সম্মানিত মেহমানের মত আচরণ করা হয়। কিন্তু একজন অসৎ ও বদকার মানুষের সাথে আচরণ করা হয় অপরাধে অভিযুক্ত কয়েদীর মত। এরপর কিয়ামতের দিন আখেরাতের জীবনের সূচনালগ্ন থেকেই নেককার মানুষের জীবন যাপনের ধরন-ধারণাই পাল্টে যায়। একইভাবে কাফের, মুনাফিকও পাপীদের জীবন যাপনের ধরনও ভিন্ন রূপ হয়ে যায়। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, তাফহীমুল কোরআন, সূরা আনফাল, আয়াত ৫০; আল নাহল, আয়াত ২৮ ও ৩২ এবং টীকা ২৬; বনী ইসরাঈল, আয়াত ৯৭; ত্বা-হা আয়াত ১০২, ১০৩ ও ১২৪ থেকে ১২৬ এবং টীকা ৭৯, ৮০ ও ১০৭; আল আম্বিয়া, আয়াত ১০৩ টীকা ৯৮;আল ফুরকান, আয়াত ২৪ও টীকা ৩৮; আন নামল, আয়াত ৮৯ ও টীকা ১০৯; সাবা আয়াত ৫১ ও টীকা৭২; ইয়াসীন, আয়াত ২৬ও ২৭ এবং টীকা ২২-৩২; আল মু’মিন আয়াত ৪৫ ও ৪৬ এবং টীকা ৬৩; মুহাম্মাদ, আয়াত ২৭ এবং টীকা ৩৭; ক্বাফ, আয়াত ১৯থেকে ২৩ পর্যন্ত টীকা ২২, ২৩ ও ২৫)।

১৩

অর্থাৎ আমলনামা পাওয়ার সাথে সাথেই তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠবে এবং নিজের বন্ধু-বান্ধবদের তা দেখাবে। সূরা ইনশিকাকের ৯ আয়াতে বলা হয়েছে যে, “সে আনন্দ চিত্তে আপনজনদের কাছে ফিরে যাবে। “

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

যারা সৎকর্মশীল, তাদেরকে আমলনামা দেওয়া হবে তাদের ডান হাতে আর পাপীদেরকে দেওয়া হবে তাদের বাম হাতে।

তাফসীরে জাকারিয়া

১৯. তখন যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবে, লও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ(১);

(১) هَاؤُم শব্দের এক অর্থ, আসা অন্য অর্থ, লও। উদ্দেশ্য এই যে, আমলনামা ডানহাতে পাওয়ার সাথে সাথেই তারা আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠবে এবং নিজের বন্ধু-বান্ধবদের তা দেখাবে। সে আহলাদে আটখানা হয়ে আশেপাশের লোকজনকে বলবে, লও আমার আমলনামা পাঠ করে দেখ। কুরআনের অন্যত্র বলা হয়েছে যে, “সে আনন্দচিত্তে আপনজনদের কাছে ফিরে যাবে” (সূরা আল-ইনশিকাক: ৯)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(১৯) সুতরাং যাকে তার আমলনামা তার ডান হাতে দেওয়া হবে(1) সে বলবে, ‘এই নাও, আমার আমলনামা পড়ে দেখ; (2)

(1) যা তার সৌভাগ্য, মুক্তি ও সাফল্যের দলীল হবে।

(2) অর্থাৎ, সে অত্যধিক খুশী হয়ে সকলকে বলবে যে, ‘নাও পড়। আমার আমলনামা তো আমি পেয়ে গেছি।’ কারণ সে জেনে যাবে যে, এতে কেবল পুণ্যসমূহই থাকবে। কিছু পাপ থাকলেও আল্লাহ হয়তো তা ক্ষমা করে দেবেন অথবা সে পাপগুলোকে পুণ্যে পরিবর্তন করে দেবেন। যেমন, মহান আল্লাহ ঈমানদারদের সাথে দয়া ও অনুগ্রহের এমনতর বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করবেন।