ফাসবির লিহুকমি রব্বিকা ওয়ালা-তাকুন কাসা-হিবিল হূত । ইয না -দা- ওযা হুওয়া মাকজূম।উচ্চারণ
অতএব তোমার রবের চূড়ান্ত ফায়সালা পর্যন্ত ধের্য্যসহ অপেক্ষা করো। ৩১ এবং মাছওয়ালার (ইউনুস আলাইহিস সালাম) মতো ৩২ হয়ো না, যখন সে বিষাদ ভারাক্রান্ত ৩৩ হয়ে ডেকেছিলো। তাফহীমুল কুরআন
মোদ্দাকথা তুমি তোমার প্রতিপালকের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত সবর করতে থাক এবং মাছ-সম্পর্কিত ব্যক্তির মত হয়ো না, #%১৭%# যখন সে (আমাকে) ডেকেছিল বেদনার্ত অবস্থায়।মুফতী তাকী উসমানী
অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর তোমার রবের নির্দেশের অপেক্ষায়, তুমি মৎস্য সহচরের ন্যায় অধৈর্য হয়োনা, সে বিষাদ আচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করছিল।মুজিবুর রহমান
আপনি আপনার পালনকর্তার আদেশের অপেক্ষায় সবর করুন এবং মাছওয়ালা ইউনুসের মত হবেন না, যখন সে দুঃখাকুল মনে প্রার্থনা করেছিল।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
অতএব তুমি ধৈর্য ধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়, তুমি মৎস্য-সহচরের ন্যায় অধৈর্য হয়ো না, সে বিষাদ-আচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করেছিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
অতএব তুমি তোমার রবের হুকুমের জন্য ধৈর্যধারণ কর। আর তুমি মাছওয়ালার মত হয়ো না, যখন সে দুঃখে কাতর হয়ে ডেকেছিল।আল-বায়ান
কাজেই তুমি তোমার প্রতিপালকের হুকুমের জন্য ধৈর্য ধরে অপেক্ষা কর, আর মাছওয়ালা [ইউনুস (আঃ)] এর মত (অধৈর্য) হয়ো না। স্মরণ কর যখন সে (তার প্রতিপালককে ডাক দিয়েছিল চিন্তায় দুঃখে আচ্ছন্ন হয়ে।তাইসিরুল
অতএব তোমার প্রভুর হুকুমের জন্য অধ্যবসায় চালিয়ে যাও, এবং তুমি মাছের সঙ্গীর মতো হয়ো না। দেখো! তিনি বিষাদে কাতর হয়ে ডেকেছিলেন।মাওলানা জহুরুল হক
৩১
অর্থাৎ আল্লাহ তা’আলা কর্তৃক তোমাদের বিজয় ও সাহায্য দেয়া এবং তোমাদের এসব বিরোধীদের পরাজিত করার চূড়ান্ত ফায়সালার সময় এখনও বহু দূরে। চূড়ান্ত ফয়সালার সে সময়টি আমার পূর্ব পর্যন্ত এ দ্বীনের তাবলীগ ও প্রচারের পথে যত দুঃখ-কষ্ট ও মুসিবত আসবে তা ধৈর্যের সাথে বরদাশত করতে থাকো।
৩২
অর্থাৎ ইউনূস আলাইহিস সালামের মত অধৈর্য হয়ে পড়ো না। অধৈর্য হয়ে পড়ার কারণে তাকে মাছের পেটে যেতে হয়েছিলো। আল্লাহর চূড়ান্ত ফয়সালা না আসা পর্যন্ত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেয়ার পরক্ষণেই “ইউনুস আলাইহিস সাল্লামের মত হয়ো না” বলা থেকে স্বতঃই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, আল্লাহর চূড়ান্ত ফয়সালা আসার আগেই তিনি অধৈর্য হয়ে কোন কাজ করে ফেলেছিলেন এবং এভাবে আল্লাহর অসন্তুষ্টি লাভ করেছিলেন। (ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, তাফমুল কুরআন, সূরা ইউনূস, আয়াত ৯৮, টীকা ৯৯; সূরা আল আম্বিয়া, আয়াত ৮৭-৮৮, টীকা ৮২ থেকে ৮৫; সূরা আস সাফ্ফাত, আয়াত ১৩৯ থেকে ১৪৮, টীকা ৭৮ থেকে ৮৫।
৩৩
সূরা আম্বিয়াতে এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মাছের পেটের এবং সাগরের পানির অন্ধকারে হযরত ইউনুস আলাইহিস সালাম উচ্চস্বরে এ বলে প্রার্থনা করলেনঃ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ তোমার পবিত্র সত্তা ছাড়া আর কোন ইলাহ নেই। আসলে আমিই অপরাধী।” আল্লাহ তা’আলা তাঁর ফরিয়াদ গ্রহণ করলেন এবং তাকে এ দুঃখ ও মুসিবত থেকে মুক্তি দান করলেন। (আয়াত ৮৭-৮৮)
ইশারা হযরত ইউনুস আলাইহিস সালামের প্রতি, যাঁর ঘটনা সূরা ইউনুস (১০ : ৯৮), সূরা আম্বিয়া (২১ : ৮৭) ও সূরা সাফফাত (২৭ : ১৪০)-এ গত হয়েছে।
৪৮. অতএব আপনি ধৈর্য ধারণ করুন আপনার রবের নির্দেশের অপেক্ষায়, আর আপনি মাছওয়ালার ন্যায় হবেন না, যখন তিনি বিষাদ আচ্ছন্ন অবস্থায় আহবান করেছিলেন।(১)
(১) পবিত্ৰ কুরআনের অন্যত্র এ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, মাছের পেটের এবং সাগরের পানির অন্ধকারে ইউনুস আলাইহিস সালাম উচ্চস্বরে এ বলে প্রার্থনা করলেনঃ তোমার পবিত্র সত্তা ছাড়া আর কোন সত্য ইলাহ নেই। আসলে আমি অপরাধী। আল্লাহ তা'আলা তার ফরিয়াদ গ্ৰহণ করলেন এবং তাকে এ দুঃখ ও মুসিবত থেকে মুক্তি দান করলেন। (সূরা আম্বিয়া: ৮৭–৮৮)
(৪৮) অতএব তুমি ধৈর্যধারণ কর তোমার প্রতিপালকের নির্দেশের অপেক্ষায়,(1) তুমি তিমি-ওয়ালা(2) (ইউনুস)এর মত অধৈর্য হয়ো না, যখন সে বিষাদ আচ্ছন্ন অবস্থায় কাতর প্রার্থনা করেছিল। (3)
(1) فَاصْبِر এ ‘ফা’ হরফটি তাফরী’র (পরবর্তী বাক্যকে পূর্বোক্ত বাক্যের শাখাস্বরূপ সংযুক্ত করার) জন্য ব্যবহার হয়েছে। অর্থাৎ, যখন ঘটনা এইরূপ নয়, তখন হে নবী! তুমি তোমার রিসালতের দায়িত্ব পালন করে যাও এবং মিথ্যাজ্ঞানকারীদের ব্যাপারে আল্লাহর ফায়সালার অপেক্ষা কর।
(2) যে নিজের জাতির নিকট মিথ্যাজ্ঞানের আচরণ লক্ষ্য করে তাড়াহুড়া করেছিল এবং স্বীয় প্রতিপালকের ফায়সালা ও অনুমতি ছাড়াই নিজের জাতিকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল।
(3) যার কারণে তাঁকে দুঃখাকুল অবস্থায় স্বীয় প্রতিপালককে সাহায্যের জন্য ডাকতে হয়েছিল। (এর বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে।)