ইন্না- বালাওনা- হুম কামা-বালাওনাআসাহা-বাল জান্নাতি ইযআকছামূ লাইয়াসরিমুন্নাহা- মুসবিহীন।উচ্চারণ
আমি এদের (মক্কাবাসী)-কে পরীক্ষায় ফেলেছি যেভাবে পরীক্ষায় ফেলেছিলাম ১২ বাগানের মালিকদেরকে, যখন তারা শপথ করেছিল যে, তারা খুব ভোরে গিয়ে অবশ্যি নিজেদের বাগানের ফল আহরণ করবে। তাফহীমুল কুরআন
আমি তাদেরকে (অর্থাৎ মক্কাবাসীকে) পরীক্ষায় ফেলেছি, যেমন পরীক্ষায় ফেলেছিলাম (এক) বাগানওয়ালাদেরকে, যখন তারা শপথ করেছিল, ভোর হওয়া মাত্র আমরা বাগানের ফসল কাটব। মুফতী তাকী উসমানী
আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম উদ্যান অধিপতিদেরকে, যখন তারা শপথ করেছিল যে, তারা প্রত্যুষে আহরণ করবে বাগানের ফল,মুজিবুর রহমান
আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেমন পরীক্ষা করেছি উদ্যানওয়ালাদের, যখন তারা শপথ করেছিল যে, সকালে বাগানের ফল আহরণ করবে,মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
আমি এদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম উদ্যান-অধিপতিগণকে, যখন এরা শপথ করেছিল যে, এরা প্রত্যূষে আহরণ করবে বাগানের ফল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন
নিশ্চয় আমি এদেরকে পরীক্ষা করেছি, যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদেরকে। যখন তারা কসম করেছিল যে, অবশ্যই তারা সকাল বেলা বাগানের ফল আহরণ করবে।আল-বায়ান
আমি এদেরকে (অর্থাৎ মক্কাবাসীদেরকে) পরীক্ষা করেছি যেমন আমি বাগানের মালিকদেরকে পরীক্ষা করেছিলাম। যখন তারা কসম করে বলেছিল যে, তারা সকাল বেলায় অবশ্যই বাগানের ফল সংগ্রহ করে নেবে।তাইসিরুল
আমরা নিশ্চয়ই তাদের পরীক্ষা করব যেমন আমরা পরীক্ষা করেছিলাম বাগান-মালিকদের, যখন ওরা কসম খেয়েছিল যে তারা নিশ্চয় ভোরবেলা এর ফসল কাটবে, --মাওলানা জহুরুল হক
১২
এখানে সূরা কাহাফের পঞ্চম রুকূর আয়াতগুলো সামনে রাখতে হবে। সেখানেও একইভাবে উপদেশ দেয়ার জন্য দুই বাগান মালিকের উদাহরণ পেশ করা হয়েছে।
মক্কা মুকাররমার বিত্তবান কাফেরগণ মনে করত, আল্লাহ তাআলা আমাদের উপর অসন্তুষ্ট থাকলে আমাদেরকে এতটা ধন-সম্পদ দিতেন না। সূরা মুমিনূন (২৩ : ৫৬)-এ আল্লাহ তাআলা তাদের এ ধারণার কথা উল্লেখ করেছেন। এখানে আল্লাহ তাআলা বলছেন, আমি অনেক সময় অর্থ-সম্পদ দেই পরীক্ষা করার জন্য। যাকে তা দেই, সে যদি শোকর আদায়ের পরিবর্তে নাশোকরী করে, তবে দুনিয়াতেই তার উপর আযাব এসে যায়। এরই প্রসঙ্গে এখানে একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। ঘটনাটি আরববাসীর কাছে প্রসিদ্ধ ছিল। তার সারসংক্ষেপ এরূপ, এক ব্যক্তি অত্যন্ত নেককার ছিল, তার ছিল একটি বড় বাগান। লোকটির অভ্যাস ছিল, যখনই বাগানের ফসল কাটত, তা থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গরীব-দুঃখীদের দান করত। তার ইন্তিকালের পর তার পুত্রগণ, যারা তাদের পিতার মত নেককার ছিল না, নিজেদের মধ্যে বলাবলি করল, আমাদের পিতার কোন বুদ্ধি ছিল না। তাই তো ফল-ফসলের এত বড় অংশ গরীবদের মধ্যে বিলাত আর এভাবে নিজ সম্পদ নষ্ট করত। এখন আমরা যখন বাগানের ফসল তুলব, তখন এমন ব্যবস্থা করব, যাতে কোন গরীব কাছেই আসতে না পারে। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা যখন ফল পাড়ার জন্য বাগানে গেল, তারা আশ্চর্য হয়ে দেখল, আল্লাহ তাআলা বাগানটির উপর এমন এক বিপর্যয় ছেড়ে দিয়েছেন যে, তাতে গোটা বাগান তছনছ হয়ে গেছে। অধিকাংশ বর্ণনা অনুযায়ী এ ঘটনাটি ঘটেছিল ‘যারওয়ান’ নামক স্থানে, যা ইয়ামানের ‘সানআ’ শহর থেকে সামান্য দূরে অবস্থিত। আজও পর্যন্ত এলাকাটিকে ‘যারওয়ান’-ই বলা হয়। আমি সেখানে গিয়েছি। সেখানে চারদিকে বিস্তীর্ণ সবুজ-সজীবের মাঝখানে কালো পাথুরে একখণ্ড বিরাণ ভূমি পড়ে রয়েছে। প্রসিদ্ধ আছে, এটাই কুরআন বর্ণিত সেই বাগানটির স্থান, যা পরবর্তীতে আবাদ করা সম্ভব হয়নি।
১৭. আমরা তো তাদেরকে পরীক্ষা করেছি(১), যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম উদ্যান-অধিপতিদেরকে, যখন তারা শপথ করেছিল যে, তারা প্রত্যুষে আহরণ করবে বাগানের ফল,
(১) অর্থাৎ আমি মক্কাবাসীদের পরীক্ষায় ফেলেছি। (কুরতুবী)
(১৭) আমি তাদেরকে পরীক্ষা করেছি,(1) যেভাবে পরীক্ষা করেছিলাম বাগানের মালিকদেরকে,(2) যখন তারা শপথ করল যে, তারা ভোর-সকালে তুলে আনবে বাগানের ফল, (3)
(1) ‘তাদেরকে’ বলতে মক্কাবাসীকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, আমি তাদেরকে ধন-মাল দান করেছিলাম। যাতে তারা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে, কুফরী ও অহংকার করার জন্য নয়। কিন্তু তারা কুফরী এবং অহংকারের পথ অবলম্বন করেছিল। ফলে আমি তাদেরকে দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি দিয়ে পরীক্ষা করি। নবী (সাঃ)-এর অভিশাপের কারণে তাতে তারা কিছু দিন ভুগেছিল।
(2) বাগানওয়ালাদের ঘটনা আরবদের মাঝে প্রসিদ্ধ ছিল। এই বাগানটি (ইয়ামানের) সানআ’ থেকে দুই ফারসাখ (৬ মাইল) দূরত্বে অবস্থিত ছিল। বাগানের মালিক তা হতে উৎপন্ন ফল-মূল থেকে গরীব মিসকীনদের উপরও খরচ করত। কিন্তু তার মৃত্যুর পর যখন তার সন্তানরা তার উত্তরাধিকারী হল, তখন তারা বলল যে, এ থেকে আমাদের সংসারের খরচই তো কোন রকম বের হয়। তাই আমরা বাগানের উপার্জিত ফসল হতে গরীব ও অভাবীদেরকে কিরূপে দান করব? সুতরাং মহান আল্লাহ সেই বাগানটিকে ধ্বংস করে দিলেন। বলা হয় যে, এই ঘটনা ঈসা (সাঃ)-কে আসমানে উঠিয়ে নেওয়ার কিছু দিন পর ঘটেছিল। (ফাতহুল ক্বাদীর) বিস্তারিত এই আলোচনা তফসীর গ্রন্থের বর্ণনার ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়।
(3) صَرْمٌ এর অর্থ হল ফল তোলা, ফসল কাটা। مُصْبِحِيْنَ শব্দটি হল হাল (ক্রিয়া বিশেষণ)। অর্থাৎ, ভোর-সকালেই ফল তুলে ফেলব এবং ফসলাদি কেটে নেব।