‘উতুলিলম বা‘দা যা- লিকা ঝানীম।উচ্চারণ
চরম পাপিষ্ঠ ঝগড়াটে ও হিংস্র ৮ এবং সর্বোপরি বজ্জাত। ৯ তাফহীমুল কুরআন
রূঢ় স্বভাব, তাছাড়া অজ্ঞাতকুলশীল।মুফতী তাকী উসমানী
রূঢ় স্বভাব এবং তদুপরি কুখ্যাত।মুজিবুর রহমান
কঠোর স্বভাব, তদুপরি কুখ্যাত;মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
রূঢ় স্বভাব, তদুপরি কুখ্যাত ; ইসলামিক ফাউন্ডেশন
দুষ্ট প্রকৃতির, তারপর জারজ।আল-বায়ান
কঠোর স্বভাব, তার উপরে আবার কুখ্যাত।তাইসিরুল
ষন্ডা-গুন্ডার, তদুপরি অসচ্চরিত্রের, --মাওলানা জহুরুল হক
৮
আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ হলো عُتُل (ওতুল্লিন)। আরবী ভাষায় عتل ওতুল বলা হয় এমন লোককে যে অত্যন্ত সুঠামদেহী ও অধিকমাত্রায় পানাহারকারী। অধিকন্তু চরম দুশ্চরিত্র ঝগড়াটে এবং হিংস্র ও পাষণ্ড।
৯
মূল আয়াতে زَنِيمٍ (যানীম) শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। আরবদের ভাষায় এ শব্দটি এমন অবৈধ সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যে পরিবারের লোক নয়, কিন্তু তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছে। সাঈদ ইবনে জুবাইর এবং শা'বী বলেনঃ এ শব্দটি এমন লোকের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয় যে তার অন্যায় ও দুষ্কৃতির কারণে বেশ প্রসিদ্ধি লাভ করেছে।
এসব আয়াতে বর্ণিত বৈশিষ্টগুলো যে ব্যক্তিকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে তার সম্পর্কে মুফাসিসরগণ ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। কেউ বলেছেন যে, সে ওয়ালীদ ইবনে মুগীরা। কেউ আসওয়াদ ইবনে আবদে ইয়াগুসের নাম উল্লেখ করেছেন। কেউ আখনাস ইবনে শুরাইককে এই ব্যক্তি বলে চিহ্নিত করেছেন। আবার কেউ কেউ অন্য ব্যক্তির প্রতিও ইঙ্গিত করেছেন। কিন্তু কুরআন মজীদে তার নাম উল্লেখ না করে শুধু বৈশিষ্টগুলো বর্ণনা করা হয়েছে। এ থেকে বুঝা যায় এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে সে মক্কায় বেশ পরিচিত ছিল। তাই তার নাম উল্লেখ করা প্রয়োজন ছিল না। এসব বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা মাত্র যে কোন লোক বুঝতে পারতো, কার প্রতি ইঙ্গিত করা হচ্ছে।
১৩. রূঢ় স্বভাব(১) এবং তদুপরি কুখ্যাত(২);
(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “আমি কি তোমাদেরকে জান্নাতবাসীদের স্বভাব-চরিত্র সম্পর্কে জনাব না? প্রতিটি দুর্বল, যাকে লোকেরা দুর্বল করে রাখে বা দুর্বল হিসেবে চলে নিজের শক্তিমত্তার অহংকারে মত্ত হয় না, সে যদি কোন ব্যাপারে আল্লাহর কাছে শপথ করে বসে আল্লাহ সেটা পূর্ণ করে দেন। আমি কি তোমাদেরকে জাহান্নামবাসীদের চরিত্র সম্পর্কে জানাব না? প্রতিটি রূঢ় স্বভাববিশিষ্ট মানুষ, প্রচণ্ড কৃপন, অহংকারী।” (বুখারী: ৪৯১৮)
(২) কোন কোন বর্ণনায় এসেছে, زنيم বলে এমন লোক উদ্দেশ্য যার কানের অনেকাংশ কেটে লটকে রাখা হয়েছে। যেমন কোন কোন ছাগলের কানের কর্তিত অংশ লটকে থাকে। (বুখারী: ৪৯১৭)
(১৩) রূঢ় স্বভাব এবং তার উপর গোত্রহীন; (1)
(1) এখানে কাফেরদের চারিত্রিক অবনতির কথা বলা হচ্ছে, যার কারণে নবী (সাঃ)-কে শিথিলতা করতে নিষেধ করা হয়েছে। এই মন্দ গুণগুলো নির্দিষ্ট কোন এক ব্যক্তির বর্ণনা করা হয়েছে, না সাধারণভাবে সকল কাফেরের? প্রথমটির সমর্থন কোন কোন বর্ণনায় থাকলেও তা প্রামাণিক নয়। সুতরাং উদ্দেশ্য ব্যাপক। অর্থাৎ, এমন সকল ব্যক্তিই উদ্দেশ্য, যার মধ্যে উক্ত (মন্দ) গুণগুলো পাওয়া যাবে। زَنِيْمٌ অবৈধ সন্তান (জারজ, গোত্রহীন) অথবা প্রসিদ্ধ ও কুখ্যাত।