هُمُ ٱلَّذِينَ يَقُولُونَ لَا تُنفِقُواْ عَلَىٰ مَنۡ عِندَ رَسُولِ ٱللَّهِ حَتَّىٰ يَنفَضُّواْۗ وَلِلَّهِ خَزَآئِنُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ وَلَٰكِنَّ ٱلۡمُنَٰفِقِينَ لَا يَفۡقَهُونَ

হুমুল্লাযীনা ইয়াকূলূনা লা-তুনফিকূ‘আলা-মান ‘ইনদা রছূলিল্লা-হি হাত্তা-ইয়ানফাদ্দূ ওয়া লিল্লা-হি খাঝাইনুছ ছামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদিওয়ালা-কিন্নাল মুনা-ফিকীনা লাইয়াফকাহূন।উচ্চারণ

এরাই তো সেই সব লোক যারা বলে, আল্লাহর রসূলের সাথীদের জন্য খরচ করা বন্ধ করে দাও যাতে তারা বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। অথচ আসমান ও যমীনের সমস্ত ধন ভাণ্ডারের মালিকানা একমাত্র আল্লাহর। কিন্তু এই মুনাফিকরা তা বুঝে না। তাফহীমুল কুরআন

তারাই বলে, যারা রাসূলুল্লাহর কাছে আছে, তাদের জন্য ব্যয় করো না, যতক্ষণ না তারা নিজেরাই সরে পড়ে, অথচ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ধন-ভাণ্ডার তো আল্লাহরই। কিন্তু মুনাফিকরা বোঝে না।মুফতী তাকী উসমানী

তারাই বলেঃ আল্লাহর রাসূলের সহচরদের জন্য ব্যয় করনা যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর ধন ভান্ডারতো আল্লাহরই। কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝেনা।মুজিবুর রহমান

তারাই বলেঃ আল্লাহর রাসূলের সাহচর্যে যারা আছে তাদের জন্যে ব্যয় করো না। পরিণামে তারা আপনা-আপনি সরে যাবে। ভূ ও নভোমন্ডলের ধন-ভান্ডার আল্লাহরই কিন্তু মুনাফিকরা তা বোঝে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান

এরাই বলে, ‘তোমরা আল্লাহ্ র রাসূলের সহচরদের জন্যে ব্যয় কর না, যাতে এরা সরে পড়ে।’ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর ধনভাণ্ডার তো আল্লাহ্ র ই; কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন

তারাই বলে, যারা আল্লাহর রাসূলের কাছে আছে তোমরা তাদের জন্য খরচ করো না, যতক্ষণ না তারা সরে যায়। আর আসমানসমূহ ও যমীনের ধন-ভান্ডার তো আল্লাহরই, কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।আল-বায়ান

তারা বলে- ‘রসূলের সঙ্গী সাথীদের জন্য অর্থ ব্যয় করো না, শেষে তারা এমনিতেই সরে পড়বে।’ আসমান ও যমীনের ধন ভান্ডার তো আল্লাহরই, কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।তাইসিরুল

ওরাই তো তারা যারা বলে -- "আল্লাহ্‌র রসূলের সঙ্গে যারা রয়েছে তাদের জন্য খরচ করো না যে পর্যন্ত না তারা সরে পড়ে।" আর মহাকাশমন্ডলের ও পৃথিবীর ধনভান্ডার তো আল্লাহ্‌রই, কিন্ত মুনাফিকগোষ্ঠী বোঝে না।মাওলানা জহুরুল হক

তাফহীমুল কুরআন

তাফসীরে মুফতি তাকি উসমানী

সূরার পরিচিতিতে আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-এর যে ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে, এটা তারই অংশ। তখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তার সঙ্গীদেরকে বলেছিল, মুসলিমদের পেছনে অর্থ ব্যয় বন্ধ করে দাও। তাহলে দেখবে কিছুদিন পর তাঁর (অর্থাৎ মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের) সাহাবীগণ তাকে ছেড়ে চলে যাবে (নাউযুবিল্লাহ)।

তাফসীরে জাকারিয়া

৭. তারাই বলে, তোমরা আল্লাহ্‌র রাসূলের সহচরদের জন্য করো না, যাতে তারা সরে পড়ে। অথচ আসমানসমূহ ও যমীনের ধন-ভাণ্ডার তো আল্লাহরই; কিন্তু মুনাফিকরা তা বুঝে না।(১)

(১) মুহাজির জাহজাহ ইবনে সা'দ আল-গিফারী ও আনসারী সিনান ইবনে ওবরাহর ঝগড়ার সময় আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-ই এ কথা বলেছিল। আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে এর জওয়াব দেওয়া হয়েছে যে, নির্বোধরা মনে করে মুহাজিরগণ তাদের দান খয়রাতের মুখাপেক্ষী এবং ওরাই তাদের অন্ন যোগায়। অথচ সমগ্র নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের ধন-ভাণ্ডার আল্লাহর হাতে। তিনি ইচ্ছা করলে মুহাজিরগণকে তোমাদের কোন সাহায্য ছাড়াই সবকিছু দিতে পারেন। ইবনে উবাইয়ের এরূপ মনে করা নির্বুদ্ধিতা ও বোকামীর পরিচায়ক। তাই আল্লাহ্ তা'আলা এ স্থলে “তারা বোঝেনা” বলে বুঝিয়েছেন যে, যে এরূপ মনে করে, সে বেওকুফ ও নির্বোধ। (দেখুন: কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর)

তাফসীরে আহসানুল বায়ান

(৭) তারাই বলে, ‘আল্লাহর রসূলের কাছে যারা আছে তাদের জন্য ব্যয় করো না; যতক্ষণ না তারা সরে পড়ে।’(1) বস্তুতঃ আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর ধন-ভান্ডার তো আল্লাহরই।(2) কিন্তু মুনাফিক (কপট)রা তা বুঝে না। (3)

(1) এক যুদ্ধে (যাকে ঐতিহাসিকগণ ‘মুরাইসী’ অথবা ‘বানী মুসত্বালাক’ বলেন) একজন মুহাজির এবং একজন আনসার সাহাবীর মাঝে ঝগড়া বেধে যায়। উভয়েই নিজের নিজের সাহায্যের জন্য মুহাজির ও আনসার সাহাবীদেরকে ডাকাডাকি শুরু করেন। এটাকে কেন্দ্র করে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই (মুনাফিক) আনসারদেরকে বলল যে, ‘তোমরা মুহাজিরদেরকে সাহায্য করেছ এবং তাঁদেরকে নিজেদের সাথে রেখেছ। এখন দেখ তার ফল কি সামনে আসছে। অর্থাৎ, তোমাদেরই খেয়ে তোমাদেরকেই দাঁত দেখাচ্ছে! (তোমরা আসলে দুধ-কলা দিয়ে কাল সাপ পুষছ!) আর এর চিকিৎসা হল এই যে, তাঁদের জন্য ব্যয় করা বন্ধ করে দাও। দেখবে তাঁরা আপনা-আপনিই কেটে পড়বে।’ সে (আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই) এ কথাও বলেছিল যে, ‘আমরা (যারা সম্মানী লোক তারা) এই হীন (মুহাজির) লোকগুলোকে মদীনা থেকে বহিষ্কার করে দেব।’ যায়েদ ইবনে আরক্বাম (রাঃ) তার এই জঘন্য কথাবার্তা শুনে নেন এবং রসূল (সাঃ)-কে তা জানিয়ে দেন। তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইকে ডেকে জিজ্ঞেস করলে সে পরিষ্কার অস্বীকার করে দেয়। ফলে যায়েদ ইবনে আরক্বাম (রাঃ) চরমভাবে ব্যথিত হন। মহান আল্লাহ যায়েদ ইবনে আরক্বাম (রাঃ)-এর সত্যবাদিতা প্রমাণের জন্য সূরা মুনাফিক্বুন অবতীর্ণ করেন এবং এর দ্বারা ইবনে উবায়ের নোংরা চরিত্রের মুখোশ পূর্ণরূপে খুলে দেন। (বুখারী, সূরা মুনাফিকূনের তফসীর পরিচ্ছেদ)

(2) অর্থাৎ, মুহাজিরদের রুযীর মালিক তো আল্লাহ। কারণ, সকল প্রকার রুযীর ভান্ডার তাঁরই কাছে। তিনি যাকে চান তা দান করেন এবং যাকে চান না বঞ্চিত করেন।

(3) মুনাফিকরা এই বাস্তবতাকে জানে না। তাই তারা মনে করে যে, আনসাররা যদি মুহাজিরদের প্রতি সাহায্যের হাত না বাড়ায়, তাহলে তাঁরা না খেয়ে মারা যাবেন।