ছাওয়াউন ‘আলাইহিম আছতাগফারতা লাহুম আম লাম তাছতাগফিরলাহুম লাই ইয়াগফিরল্লা-হু লাহুম ইন্নাল্লা-হা লা-ইয়াহদিল কাওমাল ফা-ছিকীন।উচ্চারণ
হে নবী, তুমি তাদের জন্য মাগফিরাতের দোয়া কর বা না কর, উভয় অবস্থাই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ কখনো তাদের মাফ করবেন না। ১৩ আল্লাহ ফাসিকদের কখনো হিদায়াত দান করেন না। ১৪ তাফহীমুল কুরআন
(হে রাসূল!) তুমি তাদের জন্য মাগফিরাতের দুআ কর বা না কর উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ কিছুতেই তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ এমন অবাধ্যদেরকে কিছুতেই হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।মুফতী তাকী উসমানী
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনও ক্ষমা করবেননা। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎ পথে পরিচালিত করেননা।মুজিবুর রহমান
আপনি তাদের জন্যে ক্ষমাপ্রার্থনা করুন অথবা না করুন, উভয়ই সমান। আল্লাহ কখনও তাদেরকে ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
তুমি এদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর বা না কর, উভয়ই এদের জন্যে সমান। আল্লাহ্ এদেরকে কখনও ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ্ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়টি তাদের ক্ষেত্রে সমান। আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। অবশ্যই আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।আল-বায়ান
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না কর, উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ তাদেরকে কক্ষনো ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ পাপাচারী জাতিকে কক্ষনো সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।তাইসিরুল
তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা নাই কর -- এ তাদের জন্য একসমান। আল্লাহ্ কখনো তাদের ক্ষমা করবেন না। নিশ্চয় সত্যত্যাগী লোকদলকে আল্লাহ্ সৎপথে চালান না।মাওলানা জহুরুল হক
১৩
একথাটি সূরা তাওবাতে (যা সূরা মুনাফিকূনের তিন বছর পর নাযিল হয়) আরো অধিক জোর দিয়ে বলা হয়েছে। সেখানে আল্লাহর তা’আলা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে মুনাফিকদের সম্পর্কে বলেছেনঃ “তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর আর না করো, এমনকি যদি তাদের জন্য সত্তরবারও ক্ষমা প্রার্থনা কর তবুও আল্লাহ কখনো তাদেরকে মাফ করবেন না। কারণ, তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে কুফরী করেছে। আল্লাহ ফাসিকদের হিদায়াত দান করেন না। (আত তাওবা, আয়াত ৮০) পরে আরো বলা হয়েছেঃ তাদের কেউ মারা গেলে তুমি কখনো তার জানাযা পড়বে না এবং তার কবরের পাশেও দাঁড়াবে না। এরা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে কুফরী করেছে এবং কাফেক অবস্থায় মারা গেছে। (আত তাওবা, আয়াত ৮৪)।
১৪
এ আয়াতটিতে দু’টি বিষয় বর্ণনা করা হয়েছে। এক, মাগফিরাতের জন্য দোয়া শুধু হিদায়াত প্রাপ্ত লোকদের জন্যই ফলপ্রসূ ও কল্যাণকর হতে পারে। যে ব্যক্তি হিদায়াতের পথ থেকে সরে গিয়েছে এবং যে ব্যক্তি আনুগত্যের পরিবর্তে গোনাহ ও অবাধ্যতার পথ অবলম্বন করেছে তার জন্য কোন সাধারণ মানুষের দোয়া তো দূরের কথা আল্লাহর রসূল নিজেও যদি তার মাগফিরাতের জন্য দোয়া করেন তবুও তাকে ক্ষমা করা যেতে পারে না। দুই, যারা আল্লাহর হিদায়াত পেতে আগ্রহী নয় তাদের হিদায়াত দান করা আল্লাহর নীতি নয়। কোন ব্যক্তি নিজেই যদি আল্লাহর হিদায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে থাকে বরং তাকে হিদায়াতের দিকে আহবান জানালে মাথা ঝাঁকুনি দিয়ে অহংকার ভরে সে আহবান প্রত্যাখ্যান করে তাহলে আল্লাহর কি প্রয়োজন পড়েছে যে, তার পিছনে পিছনে নিজের হিদায়াতের ফেরি করে বেড়াবেন এবং তোষামোদে করে তাকে সত্যপথে নিয়ে আসবেন।
অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত তারা তাদের মুনাফেকী থেকে তাওবা করে প্রকৃত মুমিন না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদেরকে ক্ষমা করা হবে না।
৬. আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন বা না করুন, উভয়ই তাদের জন্য সমান। আল্লাহ্ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ফাসিক সম্প্রদায়কে হেদায়াত দেন না।
(৬) তুমি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা না কর, উভয়ই তাদের জন্য সমান।(1) আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না।(2) আল্লাহ পাপাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
(1) মুনাফিক্বী অভ্যাস এবং কুফরীর উপর অটল থাকার কারণে তারা এখন এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা ও না করা উভয়ই সমান।
(2) যদি এই মুনাফিক্বী অবস্থায় মারা যায়। তবে যদি কেউ জীবিত অবস্থায় কুফরী ও মুনাফিক্বী থেকে তওবা করে নেয়, তাহলে সে কথা ভিন্ন। এই অবস্থায় তার ক্ষমালাভ সম্ভব।