ইয়াকূলূনা লাইর রজা‘নাইলাল মাদীনাতি লাইউখরিজান্নাল আ‘আঝঝুমিনহাল আযাল্লা ওয়া লিল্লা-হিল ‘ইঝঝাতুওয়া লিরছূলিহী ওয়া লিলমু’মিনীনা ওয়ালা-কিন্নাল মুনা-ফিকীনা লা-ইয়া‘লামূন।উচ্চারণ
এরা বলে, আমরা মদীনায় ফিরে যেতে পারলে যে সম্মানিত সে হীন ও নীচদেরকে সেখান থেকে বের করে দেবে। ১৫ অথচ সম্মান ও মর্যাদা তো কেবল আল্লাহ, তাঁর রসূল ও মু’মিনদের জন্য। ১৬ কিন্তু এসব মুনাফিক তা জানে না। তাফহীমুল কুরআন
তারা বলে, আমরা মদীনায় ফিরে গেলে, যারা মর্যাদাবান তারা হীনদেরকে সেখান থেকে বের করে দেবে। অথচ মর্যাদা তো কেবল আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের এবং মুমিনদেরই আছে। কিন্তু মুনাফিকরা জানে না।মুফতী তাকী উসমানী
তারা বলেঃ আমরা মাদীনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান হতে প্রবল দুর্বলকে বহিস্কৃত করবেই। কিন্তু সম্মানতো আল্লাহরই, আর তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা এটা জানেনা।মুজিবুর রহমান
তারাই বলেঃ আমরা যদি মদীনায় প্রত্যাবর্তন করি তবে সেখান থেকে সবল অবশ্যই দুর্বলকে বহিস্কৃত করবে। শক্তি তো আল্লাহ তাঁর রসূল ও মুমিনদেরই কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
এরা বলে, ‘আমরা মদীনায় প্রত্যাবর্তন করলে সেখান হতে অবশ্যই প্রবল দুর্বলকে বহিষ্কার করবে।’ কিন্তু শক্তি তো আল্লাহ্ র ই, আর তাঁর রাসূল ও মু’মিনদের। তবে মুনাফিকরা এটা জানে না।ইসলামিক ফাউন্ডেশন
তারা বলে, যদি আমরা মদীনায় ফিরে যাই তাহলে অবশ্যই সেখান থেকে প্রবল দুর্বলকে বহিষ্কার করবে। কিন্তু সকল মর্যাদা তো আল্লাহর, তাঁর রাসূলের ও মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।আল-বায়ান
তারা বলে- ‘আমরা যদি মাদীনায় প্রত্যাবর্তন করি, তাহলে সম্মানীরা অবশ্য অবশ্যই হীনদেরকে সেখানে থেকে বহিষ্কার করবে।’ কিন্তু সমস্ত মান মর্যাদা তো আল্লাহর, তাঁর রসূলের এবং মু’মিনদের; কিন্তু মুনাফিকরা তা জানে না।তাইসিরুল
তারা বলে -- "আমরা যদি মদীনায় ফিরে যাই তাহলে প্রবলরা দুর্বলদের সেখান থেকে অবশ্যই বের করে দেবে।" কিন্ত ক্ষমতা তো আল্লাহ্রই আর তাঁর রসূলের আর মুমিনদের, কিন্ত মুনাফিকরা জানে না।মাওলানা জহুরুল হক
১৫
হযরত যায়েদ ইবনে আরকাম বলেনঃ আমি যখন আবদুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের এ কথা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম এবং সে এসে শপথ করে পরিষ্কার ভাষায় তা অস্বীকার করলো তখন আনসারদের প্রবীণ ও বয়োবৃদ্ধ লোকজন এবং আমার আপন চাচা আমাকে অনেক তিরস্কার করলেন। এমনকি আমার মনে হলো নবীও ﷺ আমাকে মিথ্যাবাদী এবং আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে সত্যবাদী মনে করেছেন। এতে আমার এত দুঃখ ও মনঃকষ্ট হলো যা সারা জীবনে কখনো হয়নি। আমি দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে নিজের জায়গায় বসে পড়লাম। পরে এ আয়াতগুলো নাযিল হলে রসূলুল্লাহ ﷺ আমাকে ডেকে হাসতে হাসতে আমার কান ধরে বললেনঃ ছোকরাটার কান ঠিকই শুনেছিল। আল্লাহ নিজে তা সত্য বলে ঘোষণা করেছেন। (ইবনে জারীর। এ বর্ণনা অনুরূপ বর্ণনা তিরমিযীতেও আছে)।
১৬
অর্থাৎ সম্মান ও মর্যাদা মূলত আল্লাহর সত্তার জন্য নির্দিষ্ট আর রসূলের মর্যাদা রিসালাতের কারণে এবং ঈমানদারদের মর্যাদা তাদের ঈমানের কারণে। এরপর থাকে কাফের, ফাসেক ও মুনাফিকদের মর্যাদার ব্যাপার। কিন্তু প্রকৃত সম্মান ও মর্যাদায় তাদের কোন অংশ নেই।
এটাই সে কথা যা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই অবশ্যই বলেছিল, কিন্তু জিজ্ঞেস করা হলে সাফ অস্বীকার করে দিয়েছিল, যেমন সূরার পরিচিতিতে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
৮. তারা বলে, আমরা মদীনায় ফিরে আসলে সেখান থেকে শক্তিশালীরা অবশ্যই দুর্বলদেরকে বের করে দেবে।(১) অথচ শক্তি-সম্মান তো আল্লাহরই, আর তাঁর রাসূল ও মুমিনদের। কিন্তু মুনাফিকরা এটা জানে না।
(১) এটাও ইবনে উবাইয়ের উক্তি। (কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর)
(৮) তারা বলে, ‘আমরা মদীনায় ফিরে গেলে সেখান হতে সম্মানী অবশ্যই হীনকে বহিষ্কার করবে।’(1) বস্তুতঃ যাবতীয় সম্মান তো আল্লাহরই এবং তাঁর রসূল ও বিশ্বাসীদের।(2) কিন্তু মুনাফিক (কপট)রা তা জানে না। (3)
(1) এ কথা মুনাফিকদের সর্দার আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই বলেছিল। ‘সম্মানী’ বলতে তার লক্ষ্য ছিল, সে নিজে এবং তার সাথী-সঙ্গীরা। আর ‘হীন’ বলতে সে বুঝাতে চেয়েছিল, (নাউযু বিল্লাহ) রসূল (সাঃ) এবং তাঁর সাহাবীদেরকে!
(2) অর্থাৎ, সম্মান ও আধিপত্য কেবলমাত্র আল্লাহর জন্য। অতঃপর তিনি নিজের পক্ষ হতে যাকে চান সম্মান ও আধিপত্য দান করেন। আর তিনি তো তাঁর রসূলদের এবং তাঁর প্রতি ঈমান আনয়নকারীদেরকে সম্মান ও উচ্চ মর্যাদা দান করেন। এ সম্মান তাদেরকে দান করেন না, যারা তাঁর অবাধ্য। এখানে মুনাফিকদের কথা খন্ডন করে বলা হয়েছে যে, সমস্ত ইজ্জতের মালিক বা অধিকারী কেবলমাত্র মহান আল্লাহ এবং সম্মানিত কেবল সে-ই, যাকে তিনি সম্মান দান করেন। সে নয়, যে নিজেকে সম্মানী মনে করে বা যাকে বিশ্ববাসী সম্মানী মনে করে। আর আল্লাহর নিকট সম্মান লাভ কেবল ঈমানদাররাই করবেন; কাফের ও মুনাফিকরা নয়।
(3) এই জন্য এমন কাজ করে না, যা তাদের জন্য উপকারী হবে এবং সেই সব বস্তু থেকে বিরত থাকে না, যা তাদের জন্য ক্ষতিকর।