মাছালুল্লাযীনা হুম্মিলুত্তাওর-তা ছুম্মা লাম ইয়াহমিলূহা-কামাছালিল হিমা-রি ইয়াহমিলুআছফা-রন বি’ছা মাছালুল কাওমিল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিল্লা-হি ওয়াল্লা-হু লা-ইয়াহদিল কাওমাজ্জা-লিমীন।উচ্চারণ
যাদেরকে তাওরাতের বাহক বানানো হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বহন করেনি ৭ তাদের উপমা সেই সব গাধা ৮ যা বই-পুস্তক বহন করে। এর চেয়েও নিকৃষ্ট উপমা সেই সব লোকরে যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে। ৯ আল্লাহ এ রকম জালেমদের হিদায়াত দান করেন না। তাফহীমুল কুরআন
যাদের উপর তাওরাতের ভার অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তারা সে ভার বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধা, যে বহু কিতাব বয়ে রেখেছে। যারা আল্লাহর কিতাবকে অস্বীকার করে তাদের দৃষ্টান্ত কতই না মন্দ! আল্লাহ এরূপ জালেম লোকদেরকে হেদায়াতপ্রাপ্ত করেন না।মুফতী তাকী উসমানী
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত পুস্তক বহনকারী গর্দভ। কত নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আল্লাহ ফাসিক/পাপাচারী সম্প্রদায়কে পথপ্রদর্শন করেন না।মুজিবুর রহমান
যাদেরকে তওরাত দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তারা তার অনুসরণ করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত সেই গাধা, যে পুস্তক বহন করে, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে, তাদের দৃষ্টান্ত কত নিকৃষ্ট। আল্লাহ জালেম সম্প্রদায়কে পথ প্রদর্শন করেন না।মাওলানা মুহিউদ্দিন খান
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বহন করে নাই, তাদের দৃষ্টান্ত পুস্তক বহনকারী গর্দভ! কত নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহ্ র আয়াতসমূহ অস্বীকার করে ! আল্লাহ্ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন
যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল তারপর তারা তা বহন করেনি, তারা গাধার মত! যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে। সে সম্প্রদায়ের উপমা কতইনা নিকৃষ্ট, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করে। আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।আল-বায়ান
যাদের উপর তাওরাতের দায়িত্বভার দেয়া হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি (অর্থাৎ তারা তাদের উপর ন্যস্ত দায়িত্ব পালন করেনি) তাদের দৃষ্টান্ত হল গাধার মত, যে বহু কিতাবের বোঝা বহন করে (কিন্তু তা বুঝে না)। যে সম্প্রদায় আল্লাহর আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে, তাদের দৃষ্টান্ত কতইনা নিকৃষ্ট! যালিম সম্প্রদায়কে আল্লাহ সঠিক পথে পরিচালিত করেন না।তাইসিরুল
যাদের তওরাতের ভার দেওয়া হয়েছিল, তারপর তারা তা অনুসরণ করে নি, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে গাধার মতো, যে গ্রন্থরাজির বোঝা বইছে। কত নিকৃষ্ট সে-জাতির দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহ্র নির্দেশাবলী প্রত্যাখ্যান করে। আর আল্লাহ্ অন্যায়াচারী জাতিকে সৎপথে চালান না।মাওলানা জহুরুল হক
৭
এ আয়াতাংশের দু’টি অর্থ। একটি সাধারণ অর্থ এবং অপরটি বিশেষ অর্থ। সাধারণ অর্থ হলো, যাদের ওপর তাওরাতের জ্ঞান অর্জন, তদনুযায়ী আমল এবং তাওরাত অনুসারে দুনিয়াকে পথপ্রদর্শনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। তারা তাদের এ দায়িত্ব বুঝেনি এবং তার হকও আদায় করেনি। বিশেষ অর্থ হলো, তাওরাতের ধারক ও বাহক গোষ্ঠী হওয়ার কারণে যাদের কাজ ছিল সবার আগে অগ্রসর হয়ে সেই রসূলকে সাহায্য-সহযোগিতা করা যার আগমনের সুসংবাদ তাওরাতের স্পষ্ট ভাষায় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারাই তাঁর সবচেয়ে বেশী শত্রুতা ও বিরোধিতা করেছে এবং তাওরাতের শিক্ষার দাবী পূরণ করেনি।
৮
অর্থাৎ গাধার পিঠে বই-পুস্তকের বোঝা চাপানো থাকলেও পিঠের ওপর কি আছে সে যেমন তা জানে না। অনুরূপ এই তাওরাতের বোঝাও তাদের ওপর চাপানো আছে। কিন্তু তারা আদৌ জানে না, এই মহান গ্রন্থ কি জন্য এসেছে এবং তাদের কাছে কি দাবী করছে।
৯
অর্থাৎ তাদের অবস্থা গাধার চেয়েও নিকৃষ্টত। গাধার কোন বিবেক-বুদ্ধি ও উপলব্ধি নেই বলে সে অক্ষম, কিন্তু এদের তো বিবেক-বুদ্ধি ও উপলব্ধি আছে। এরা নিজেরা তাওরাত পড়ে এবং অন্যদের পড়ায় তাই এর অর্থ তাদের অজানা নয়। এরপরও তারা জেনে শুনে এর হিদায়াত থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ও উপেক্ষা করছে এবং সেই নবীকে মানতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্বীকার করছে যিনি তাওরাত অনুসারে অবিসংবাদিতভাবে সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এরা জানে না বা বুঝে না বলে দোষী নয়, বরং জেনে শুনে আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলার অপরাধে অপরাধী।
অর্থাৎ তাওরাতের বিধানাবলী পালন করার যে দায়িত্ব তাদের উপর অর্পণ করা হয়েছিল, তারা তা আদায় করেনি। শেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের উপর ঈমান আনার হুকুমও তার অন্তর্ভুক্ত, কিন্তু তারা তাঁর উপর ঈমান আনেনি।
৫. যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, কিন্তু তারা তা বহন করেনি, তারা গাধার মত! যে বহু পুস্তক বহন করে।(১) কত নিকৃষ্ট সে সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে! আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়াত করেন না।
(১) এ আয়াতাংশের দুটি অর্থ। একটি সাধারণ অর্থ এবং অপরটি বিশেষ অর্থ। সাধারণ অর্থ হলো, যাদের ওপর তাওরাতের জ্ঞান অর্জন, তদনুযায়ী আমল এবং তাওরাত অনুসারে দুনিয়াকে পথপ্রদর্শনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, তারা তাদের এ দায়িত্ব বুঝেনি এবং তার হকও আদায় করেনি। বিশেষ অর্থ হলো, তাওরাতের ধারক ও বাহক গোষ্ঠী হওয়ার কারণে যাদের কাজ ছিল সবার আগে অগ্রসর হয়ে সেই রাসূলকে সাহায্য-সহযোগিতা করা যার আগমনের সুসংবাদ তাওরাতে স্পষ্ট ভাষায় দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারাই তার সবচেয়ে বেশী শক্রতা ও বিরোধিতা করেছে এবং তাওরাতের শিক্ষার দাবী পূরণ করেনি। পার্থিব জাঁকজমক ও ধনৈশ্বর্য তাদেরকে তাওরাত থেকে বিমুখ করে রেখেছে। ফলে তারা তাওরাতের পণ্ডিত হওয়া সত্বেও তাওরাতের নির্দেশাবলী বাস্তবায়নের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ মুর্খ ও অনভিক্তের পর্যায়ে চলে এসেছে।
আলোচ্য আয়াতে তাদের নিন্দা করে বলা হয়েছে যে, তাদের দৃষ্টান্ত হচ্ছে গর্দভ, যার পিঠে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বৃহদাকার গ্রন্থ চাপিয়ে দেয়া হয়। এই গর্দভ সেই বোঝা বহন তো করে, কিন্তু তার বিষয়বস্তুর কোন খবর রাখে না এবং তাতে তার কোন উপকার হয় না। ইয়াহুদীদের অবস্থাও তদ্রুপ। তারা পার্থিব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অর্জনের জন্যে তাওরাতকে বহন করে এবং এর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে জাঁকজমক ও প্রতিপত্তি লাভ করতে চায়, কিন্তু এর দিকনির্দেশ দ্বারা কোন উপকার লাভ করে না। (দেখুন: ইবন কাসীর, কুরতুবী, ফাতহুল কাদীর)
(৫) যাদেরকে তাওরাতের দায়িত্বভার অর্পণ করা হয়েছিল, অতঃপর তা তারা বহন করেনি, তাদের দৃষ্টান্ত পুস্তক বহনকারী গর্দভ।(1) কত নিকৃষ্ট সেই সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে। আর আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
(1) أَسْفَارٌ হল سِفْرٌ এর বহুবচন। অর্থ হল, বড় কিতাব। কিতাব পাঠ করা হয়, তখন মানুষ তার অর্থসমূহে সফর করে। এই জন্য কিতাবকেও সিফ্র বা সফর বলা হয়। (ফাতহুল ক্বাদীর) এখানে আমলবিহীন ইয়াহুদীদের দৃষ্টান্ত বর্ণনা করা হচ্ছে যে, যেমন গাধা; তার পিঠে যে কিতাবগুলো বোঝাই করা আছে তাতে কি লেখা আছে অথবা তার উপর যা বোঝাই করা হয়েছে তা কিতাব, না ঘাস-ভুসি তা জানে না। অনুরূপ এই ইয়াহুদীরাও; তাদের কাছে তওরাত আছে। তা পড়া ও মুখস্থ করার দাবীও করে, কিন্তু তারা না তা বোঝে, আর না তার নির্দেশ অনুযায়ী আমল করে। বরং তার অপব্যাখ্যা এবং তাতে হেরফের, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন সাধন করে। কাজেই প্রকৃতপক্ষে এরা গাধার থেকেও বেশী নিকৃষ্ট। কারণ, গাধা জন্মগতভাবেই বিবেক ও বোধশক্তি থেকে বঞ্চিত হয়, আর এদের মধ্যে বিবেক-বুদ্ধি বিদ্যমান, কিন্তু এরা তার সঠিক ব্যবহার করে না। এই জন্য পরে বলা হয়েছে যে, এদের দৃষ্টান্ত বড়ই নিকৃষ্ট। অনুরূপ যারা তাদের অন্তর, চক্ষু ও কর্ণের সঠিক ব্যবহার করে না, তাদের সম্বন্ধে মহান আল্লাহ বলেছেন, أُولَئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ‘‘এরা চতুষ্পদ জন্তুর মত, বরং তার চেয়েও নিকৃষ্টতর।’’ (সূরা আ’রাফ ১৭৯ আয়াত) হুবহু দৃষ্টান্ত সেই মুসলিমদের, বিশেষ করে আলেমদেরও যারা কুরআন পড়ে ও মুখস্থ করে, কিন্তু তার নির্দেশ অনুযায়ী আমল করে না। (যেমন যে কিতাব বর্জন করে, তাকে সেই কুকুরের সাথে তুলনা করা হয়েছে, যাকে তাড়া করলে সে জিভ বের করে হাঁপায় এবং এমনি ছেড়ে দিলেও সে জিভ বের করে হাঁপাতে থাকে। (ঐ ১৭৬ আয়াত)